কৃষিশিক্ষা • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
- ক)(1)
বনায়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
বনায়ন ও সামাজিক বনায়নের একটি পার্থক্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত বনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে A, B, C, D-এর পরিবেশগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো স্থানে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো ও তার পরিচর্যা করার কাজকে বনায়ন বলে।
- খ)
বনায়ন হলো যেকোনো স্থানে বন সৃষ্টির জন্য গাছ লাগানো ও পরিচর্যা করা, যা সাধারণত সরকার বা বন বিভাগ করে থাকে। আর সামাজিক বনায়ন হলো রাস্তার ধার, বাঁধ, পতিত জমিতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা উৎপাদিত সম্পদের অংশ পায়। অর্থাৎ বনায়নে জনগণের অংশগ্রহণ থাকা জরুরি নয়, কিন্তু সামাজিক বনায়ন জনগণের অংশগ্রহণ ও সুফল ভাগাভাগির ওপর নির্ভরশীল।
- গ)
চিত্রে 'A' চিহ্নিত বনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বন, অর্থাৎ সুন্দরবন (ম্যানগ্রোভ বন)। এর বৈশিষ্ট্য:
১. এটি খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত এবং জোয়ার-ভাটার প্রভাবে লবণাক্ত পানিতে সৃষ্ট।
২. এখানে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতা প্রভৃতি গাছ জন্মে। গাছের শ্বাসমূল মাটির উপরে উঠে থাকে।
৩. এ বন রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, কুমির ও নানা পাখির আবাসস্থল।
৪. এটি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃত। - ঘ)
চিত্রে A হলো বৃহত্তম বন (সুন্দরবন বা ম্যানগ্রোভ বন), D হলো গ্রামীণ বন, এবং B ও C হলো বাংলাদেশের অন্য দুই ধরনের বন, অর্থাৎ পাহাড়ি বন ও সমতল ভূমির শাল বন। বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় এ বনগুলোর গুরুত্ব অনেক।
১. ঝড়-জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ: সুন্দরবন (A) উপকূলকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং জীববৈচিত্র্যের আবাস হিসেবে কাজ করে।
২. ভূমিক্ষয় রোধ ও পানিচক্র রক্ষা: পাহাড়ি বন (B) পাহাড়ের মাটি আটকে রেখে ভূমিধস ও ক্ষয় রোধ করে এবং বৃষ্টিপাতে সহায়তা করে।
৩. কার্বন শোষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: শাল বন (C) কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, অক্সিজেন ছাড়ে ও পরিবেশের তাপমাত্রা সহনীয় রাখে।
৪. গ্রামীণ পরিবেশ রক্ষা: গ্রামীণ বন (D) বাড়ির আশেপাশের বায়ু বিশুদ্ধ রাখে, ছায়া দেয় এবং জ্বালানি ও ফল জোগান দেয়।সুতরাং, A, B, C ও D সব বনই মিলিতভাবে বাংলাদেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও