ব্যবসায় উদ্যোগ • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

হৃদম কৃষিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে পাবনায় একটি জৈব সার কারখানা স্থাপন করেন। তার কারখানায় মোট ৩৬ কোটি টাকা বায় হয়েছে এবং ২০০ জন শ্রমিক রয়েছে। কিন্তু পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজের অস্তিত্ব টিকে রাখার জন্য তার কারখানাকে আরও আধুনিকায়ন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এজন্য তার আরও ২১ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং ১২৫ জন শ্রমিকের প্রয়োজন পড়বে। প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসম্মত নিত্যনতুন কৃষিপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

  1. ক)

    কুটিরশিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পোন্নয়নের গতিধারা ব্যাহত হচ্ছে কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    বিনিয়োগের মাপকাঠিতে হৃদমের প্রথম পর্যায়ের শিল্পটি কোন ধরনের? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় হৃদমের দ্বিতীয় পর্যায়ের শিল্পকারখানাটি স্থাপনের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কুটিরশিল্প হলো পরিবারের সদস্যপ্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যেখানে জমি ও কারখানা ভবন ছাড়া স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার নিচে এবং জনবল সর্বোচ্চ ১৫ জন।

  2. খ)

    বাংলাদেশে শিল্পোন্নয়নের গতি মন্থর, কারণ কিছু সমস্যা ও বাধা রয়ে গেছে। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো অনুন্নত। অর্থাৎ রাস্তাঘাট ও পরিবহন-যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ অপর্যাপ্ত।

    এছাড়া কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ রয়েছে। এসব কারণে শিল্পোন্নয়নের গতিধারা ব্যাহত হচ্ছে।

  3. গ)

    হৃদমের প্রথম পর্যায়ের শিল্পটি জৈব সার কারখানা, যা উৎপাদনমুখী শিল্প। উৎপাদনমুখী শিল্পের বিনিয়োগের মাপকাঠি অনুযায়ী:
    ১. মাঝারি শিল্পে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকা এবং কর্মী ১২১-৩০০ জন।
    ২. হৃদমের কারখানায় ব্যয় ৩৬ কোটি টাকা (১৫ কোটি থেকে ৫০ কোটির মধ্যে) এবং শ্রমিক ২০০ জন (১২১-৩০০ জনের মধ্যে)।

    তাই বিনিয়োগ ও শ্রমিক দুই মাপকাঠিতেই প্রথম পর্যায়ের শিল্পটি মাঝারি শিল্প।

  4. ঘ)

    দ্বিতীয় পর্যায়ে মোট বিনিয়োগ হবে 36+21=5736 + 21 = 57 কোটি টাকা এবং শ্রমিক 200+125=325200 + 125 = 325 জন। উৎপাদনমুখী শিল্পে ৫০ কোটির উপরে ও ৩০০ জনের বেশি কর্মী হলে বৃহৎ শিল্প হয়। তাই কারখানাটি বৃহৎ শিল্পে পরিণত হবে। আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এটি স্থাপন যুক্তিসংগত।

    ১. কর্মসংস্থান: ১২৫ জন নতুন শ্রমিকের কাজের সুযোগ হবে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে এটি বেকারত্ব কমায়।
    ২. টেকসই কৃষি ও স্বাস্থ্য: জৈব সার পরিবেশবান্ধব এবং স্বাস্থ্যসম্মত কৃষিপণ্য উৎপাদনে সহায়ক। এতে মানুষের স্বাস্থ্য ও মাটির গুণ রক্ষা পায়।
    ৩. প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা: আধুনিকায়নের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমবে ও মান বাড়বে। এতে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকবে।
    ৪. অবস্থান: পাবনা শিল্পে অগ্রসর জেলা, তাই অবকাঠামোগত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে।

    সুতরাং, কর্মসংস্থান, কৃষি উন্নয়ন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের কারখানা স্থাপন যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন