পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব ইশতিয়াক আহমেদ তৎকালীন জমিদার ও গ্রাম্য সুদখোর মহাজনদের দ্বারা কৃষকদের ওপর অত্যাচার দেখে ব্যথিত হন। তিনি নানাবিদ সমস্যায় জর্জরিত কৃষকদের মুক্তির উপায় খুঁজতে থাকেন। পরবর্তীকালের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কৃষি ঋণ আইন এবং প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হয়। ফলে কৃষকদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
- ক)(1)
কোন কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়?
- খ)(2)
দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কর্মকান্ডের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মকাণ্ড ছাড়াও উক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরো নানাবিদ জনহিতকর কাজ করছেন- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে নীতিভ্রষ্ট বা নীতিহীন কাজই হলো দুর্নীতি। ব্যাপক অর্থে, ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা বা স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নিজের ওপর অর্পিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করাই হলো দুর্নীতি। বিশ্বব্যাংকের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারই দুর্নীতি। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব ইশতিয়াক আহমেদের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ে আলোচিত অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত নেতা এ. কে. ফজলুল হকের (শেরে বাংলা) কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক আজীবন বাংলার অবহেলিত, নির্যাতিত ও দরিদ্র কৃষক-প্রজাদের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। তৎকালীন বাংলায় জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের নির্মম শোষণে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছিল। ফজলুল হক কৃষকদের এই দুরবস্থা দেখে ব্যথিত হন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে 'প্রজা পার্টি' গঠন করেন। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষকদের ঋণের দায় থেকে রক্ষা করতে ঐতিহাসিক 'বঙ্গীয় ঋণ সালিশী আইন' (Bengal Agricultural Debtors Act) প্রণয়ন করেন। এর ফলে ঋণ সালিশী বোর্ড গঠিত হয় এবং কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ঋণ মওকুফ হয়। এ ছাড়া তিনি প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন করে কৃষকদের ভূমির ওপর অধিকার নিশ্চিত করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, জনাব ইশতিয়াক আহমেদ জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের নির্যাতন দেখে কৃষকদের মুক্তির লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি হন এবং কৃষি ঋণ আইন ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস করেন। সুতরাং, তাঁর কর্মকাণ্ড শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষি সংস্কার কর্মকাণ্ড ছাড়াও এ. কে. ফজলুল হক বাংলার জনগণের কল্যাণে আরও নানাবিধ জনহিতকর কাজ সম্পন্ন করেছেন—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক শুধু কৃষকদের বন্ধনমুক্তিই ঘটাননি, বরং শিক্ষা, রাজনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন:
১. শিক্ষা বিস্তার: বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ঢাকার ইডেন কলেজ, ফজলুল হক মুসলিম হল, আদিনা ফজলুল হক কলেজ এবং বর্তমান পটুয়াখালীর চাখার ফজলুল হক কলেজ। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন।
২. কর্মসংস্থানে সমতা বিধান: প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি সরকারি চাকরিতে বাঙালি মুসলমানদের জন্য ৫০% কোটা নির্ধারণ করেন, যা মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণে সহায়তা করে।
৩. রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও লাহোর প্রস্তাব: তিনি ছিলেন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব তিনিই নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে উত্থাপন করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনে ও নির্বাচনে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
৪. বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা: যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণার উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ সালে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।পরিশেষে বলা যায়, ঋণ মওকুফ ও প্রজাস্বত্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে শেরে বাংলার অবদান ছিল অনন্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও