জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

জীবদেহের গাঠনিক উপাদান হিসাবে বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যাহার কিছু অংশ আবার বিভিন্ন বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

  1. ক)

    গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন কী?

    (1)
  2. খ)

    কোলেস্টেরল বলতে কি বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী পদার্থটির ব্যবহারিক জীবনে প্রয়োগ লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    উপরোক্ত বিশেষ রাসায়নিক পদার্থটি জীবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি মনোস্যাকারাইড অণু ঘনীভবন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সময় পানির এক অণু অপসারণের মাধ্যমে যে সমযোজী ইথার বন্ধন (-O-) গঠিত হয়, তাকে গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোলেস্টেরল হলো এক প্রকার উদ্ভূত বা ডেরাইভড লিপিড, যা প্রধানত প্রাণিজ টিস্যুতে পাওয়া একটি স্টেরল যৌগ।
    এটি কোষঝিল্লির অন্যতম প্রধান গাঠনিক উপাদান এবং ঝিল্লির তারল্য ও স্থায়িত্ব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া কোলেস্টেরল থেকে পিত্তরস, ভিটামিন ডি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেরয়েড হরমোন (যেমন- টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন) সংশ্লেষিত হয়। রক্তে এর আধিক্য রক্তনালীর পথ সরু করে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী পদার্থটি হলো এনজাইম (উৎসেচক)। ব্যবহারিক জীবনে এনজাইমের বহুমুখী প্রয়োগ রয়েছে, যা নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. খাদ্য ও পানীয় শিল্পে: ফল ও ফলের রস পরিষ্কার করতে পেকটিনেজ, পনির ও দুগ্ধজাত খাদ্য তৈরিতে রেনিন এবং বেকারিতে স্টার্চ বিশ্লেষণে অ্যামাইলেজ ব্যবহৃত হয়।
    ২. ওষুধ ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে: রক্ত জমাট বাঁধা গলানোর জন্য স্ট্রেপ্টোকাইনেজ বা ইউরোকাইনেজ এবং পরিপাকের সমস্যায় ট্রিপসিন ও লাইপেজ এনজাইম ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস নির্ণয়ে গ্লুকোজ অক্সিডেজ ব্যবহৃত হয়।
    ৩. বস্ত্র ও চামড়া শিল্পে: বস্ত্রশিল্পে সুতার মাড় ছাড়াতে অ্যামাইলেজ এবং চামড়াশিল্পে চামড়ার রোম অপনয়ন ও মসৃণ করার কাজে প্রোটিয়েজ ব্যবহৃত হয়।
    ৪. ডিটারজেন্ট উৎপাদনে: কাপড়ের কঠিন দাগ ও প্রোটিন-লিপিডজাতীয় ময়লা দূর করতে লন্ড্রি ডিটারজেন্টে প্রোটিয়েজ ও লাইপেজ ব্যবহার করা হয়।
    ৫. জৈবপ্রযুক্তি ও গবেষণায়: ডিএনএ কাটার জন্য রেস্ট্রিকশন এনজাইম এবং জোড়া লাগানোর জন্য ডিএনএ লাইগেজ অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ রাসায়নিক পদার্থটি হলো প্রোটিন। জীবদেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি পরিচালনায় প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গাঠনিক উপাদান: কোষপ্রাচীর, প্লাজমামেমব্রেন এবং কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণুর প্রধান ভিত্তি প্রোটিন। ত্বক ও চুলের কেরাটিন, তরুণাস্থি ও পেশির কোলাজেন ও মায়োসিন প্রোটিন দ্বারাই গঠিত।
    ২. জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার অনুঘটন: দেহের বিপাকীয় যাবতীয় বিক্রিয়া পরিচালনাকারী সব এনজাইমই প্রোটিন দিয়ে তৈরি, যা ছাড়া জীবন ধারণ অসম্ভব।
    ৩. পরিবহন প্রক্রিয়া: লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে। কোষঝিল্লির বাহক প্রোটিন আয়ন ও অণু পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৪. রোগ প্রতিরোধ বা অনাক্রম্যতা: রক্তে উপস্থিত অ্যান্টিবডি মূলত ইমিউনোগ্লোবিউলিন নামক বিশেষ প্রোটিন, যা রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে ধ্বংস করে দেহকে রক্ষা করে।
    ৫. শারীরবৃত্তীয় সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ: ইনসুলিন, গ্লুকাগনসহ দেহের গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগুলো প্রোটিন প্রকৃতির, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ও অন্যান্য বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
    ৬. রক্ত জমাট বাঁধা: আঘাতপ্রাপ্ত স্থান থেকে রক্তপাত বন্ধ করতে ফাইব্রিনোজেন ও প্রোথ্রম্বিন প্রোটিন অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।

    সুতরাং বলা যায়, জীবের দৈহিক গঠন থেকে শুরু করে জীবনধারণের প্রতিটি কার্যপ্রক্রিয়া সম্পাদনে প্রোটিনের ভূমিকা অনন্য ও অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন