সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সহপাঠ প্রশ্ন
সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকার দীর্ঘকাল ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে শাসনের নামে চালিয়েছে শোষণের স্টিম রোলার। এ সময় ভারতে স্বাধীনতার দাবিতে দানা বেঁধে ওঠে স্বদেশি আন্দোলন। ভারতবর্ষ জুড়ে তীব্র আন্দোলনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কেঁপে ওঠে। ফলে এ আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য সাম্রাজ্যবাদী সরকার ভারতের অগণিত তরুণ-যুবাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলায়। মৃত্যু অবধারিত জেনেও মুক্ত স্বদেশের স্বপ্নে বিভোর আন্দোলনকারীরা পিছপা হননি। স্বদেশিদের দুর্বার এ সংগ্রামে তেত্রিশ কোটি ভারতবাসীর ছিল অকুণ্ঠ সমর্থন।
- ক)(1)
রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
হলওয়েল কে? ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে তার পরিচয় দাও
- গ)(3)
নবাব সিরাজউদ্দৌলার কোন সেনাপতির মধ্যে উদ্দীপকের চেতনা কীভাবে বিদ্যমান তা বুঝিয়ে লেখ
- ঘ)(4)
“সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল উপজীব্য দেশপ্রেম, যা উদ্দীপকে বিদ্যমান।” —তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাইসুল জুহালার প্রকৃত নাম মীর মর্দানের গুপ্তচর নারায়ণ সিংহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হলওয়েল ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন ধূর্ত ইংরেজ কর্মচারী ও চক্রান্তকারী কর্মকর্তা।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে তিনি ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের অন্যতম নেতা। নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা আক্রমণ করলে ড্র্রেক পালিয়ে গেলে হলওয়েল নবাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে তিনি নবাবের বিরুদ্ধে 'অন্ধকূপ হত্যা' (Black Hole Tragedy) নামক চরম মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনি প্রচার করে নবাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীর মর্দানের মধ্যে উদ্দীপকের স্বাধীনতা ও আত্মত্যাগের চেতনা বিদ্যমান।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মুক্ত স্বদেশের স্বপ্নে বিভোর আন্দোলনকারীরা সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মৃত্যুকে নিশ্চিত জেনেও পিছপা হননি এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে সেনাপতি মীর মর্দান তেমনি এক আপসহীন ও দেশপ্রেমিক চরিত্র। পলাশীর প্রান্তরে যখন মীরজাফর সহ অধিকাংশ বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি নিষ্ক্রিয় ছিল, তখন মীর মর্দান স্বদেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ইংরেজদের ওপর প্রবল পরাক্রমে আক্রমণ পরিচালনা করেন। তিনি নিশ্চিত পরাজয় ও মৃত্যুর সম্ভাবনা উপেক্ষা করে দেশের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন দেন। তাঁর এই নির্ভীক লড়াই ও আত্মোৎসর্গের মধ্যেই উদ্দীপকের দেশপ্রেমিক চেতনা মূর্ত হয়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল উপজীব্য দেশপ্রেম, যা উদ্দীপকে বিদ্যমান”—মন্তব্যটি যথার্থ।
সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটির মূল সুর হলো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম। নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখতে ব্যাকুল ছিলেন। মীর মর্দান, মোহনলাল প্রমুখ দেশপ্রেমিক সেনাপতিরা দেশের জন্য হাসিমুখে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। ইংরেজদের চক্রান্তের বিরুদ্ধে নবাব ও তাঁর বিশ্বস্তদের এই তীব্র আবেগই নাটকের প্রাণপ্রবাহ।
অন্যদিকে, উদ্দীপকেও বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ সরকারের শোষণের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী বিপ্লবীদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ ও স্বদেশি আন্দোলনের দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। দেশের মুক্তির জন্য ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার যে প্রত্যয় উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে, তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব ও দেশপ্রেমিকদের আত্মত্যাগের চেতনার সাথে একসূত্রে গাঁথা। নাটকে দেশপ্রেম যেমন বিদেশি বণিক-শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে দেখা গেছে, উদ্দীপকেও তেমনি সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিপাগল মানুষের সংগ্রাম দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। অতএব, উভয় প্রেক্ষাপটেই দেশপ্রেম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিভাত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও