পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ফজর আলী এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করার পর তিনি হজব্রত পালন করার জন্য মক্কায় গমন করেন। দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফিরেন। দেশে ফিরে দেখেন তার এলাকার মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তাই তিনি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। শুধু তাই নয় মুসলমানদের আত্মশুদ্ধির জন্য ইসলামের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপরও সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেন।
- ক)(1)
'দ্বিজাতি তত্ত্ব' কাকে বলে?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ কেন গঠন করা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফজর আলীর আন্দোলনের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
তৎকালীন সমাজে উক্ত আন্দোলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধর্মের ভিত্তিতে জাতীয়তা নির্ধারণ করে অবিভক্ত ভারতকে হিন্দু ও মুসলিমদের জন্য দুটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভক্ত করার রাজনৈতিক মতবাদকে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ন্যায্য দাবিদাওয়া সাংবিধানিক উপায়ে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। তৎকালীন সময়ে কংগ্রেসের কর্মকাণ্ড মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছিল বলে মুসলিম নেতারা পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফজর আলীর আন্দোলনের সাথে পাঠ্যবইয়ের হাজি শরীয়তুল্লাহর সূচিত 'ফরায়েজি আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
হাজি শরীয়তুল্লাহ দীর্ঘদিন মক্কায় অবস্থান করে ধর্মীয় শিক্ষালাভ শেষে দেশে ফিরে আসেন। তিনি দেখতে পান যে, তৎকালীন বাংলার মুসলমান সমাজ বিভিন্ন প্রকার অনৈসলামিক কুসংস্কার, শিরক ও বিদআতে লিপ্ত। মুসলমানদের ধর্মীয় অবক্ষয় থেকে মুক্ত করতে তিনি ইসলামের মৌলিক ফরজ কাজগুলো যথাযথভাবে পালনের ওপর জোর দিয়ে ফরায়েজি আন্দোলন শুরু করেন।
উদ্দীপকের ফজর আলীও মক্কা থেকে হজব্রত পালন শেষে ফিরে এসে মুসলমানদের কুসংস্কারমুক্ত করতে এবং ইসলামের পাঁচটি ফরজ পালনের আহ্বান জানিয়ে সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। তাই এই কর্মকাণ্ডের সাথে হাজি শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের গভীর মিল রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তৎকালীন বাঙালি মুসলিম সমাজে ফরায়েজি আন্দোলনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও গভীর।
প্রথমত, এই আন্দোলন তৎকালীন অনগ্রসর, নিরক্ষর ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত মুসলিম সমাজকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জাগ্রত ও শুদ্ধ করে তোলে। মুসলমানদের মধ্যে শিরক ও বিদআত দূর করে ইসলামের মূল শিক্ষা ও ফরজ কাজ পালনের চেতনা পুনরুজ্জীবিত হয়।
দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় সংস্কার দিয়ে শুরু হলেও এটি দ্রুতই সামাজিক ও অর্থনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। হাজি শরীয়তুল্লাহ তৎকালীন শোষক হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের অন্যায্য কর ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নির্যাতিত কৃষক ও তাঁতি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি কৃষকদের অন্যায্য আবওয়াব বা অবৈধ কর দিতে নিষেধ করেন, যার ফলে শোষিত শ্রেণি আত্মমর্যাদাবোধে বলীয়ান হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
পরিশেষে বলা যায়, ফরায়েজি আন্দোলন কেবল একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন ছিল না; বরং তা ছিল তৎকালীন শোষিত মুসলিম সমাজের আত্মশুদ্ধি, অধিকার সচেতনতা ও ঔপনিবেশিক-জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী গণজাগরণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও