অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং জ্বালানী তেলসহ অধিকাংশ খাদ্য পণ্যের যোগান ঘাটতি দেখা দেয়। এর প্রভাবে "D" দেশের খাদ্য ও ভোগ্য পণ্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে "D" দেশের সরকার তার সকল ধরনের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    মুদ্রাস্ফীতি কি?

    (1)
  2. খ)

    মুদ্রাস্ফীতির ফলে কৃষকের উৎপাদনের উপর কেমন প্রভাব পড়বে

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী "D" দেশের যে ধরনের মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক অনুযায়ী "D" দেশের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কিভাবে ভূমিকা পালন করবে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণত সামগ্রিক যোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে যখন দ্রব্যসামগ্রীর দামস্তর ক্রমাগত এবং দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুদ্রাস্ফীতির প্রাথমিক পর্যায়ে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের দাম বাড়লে কৃষকরা লাভবান হন, যা তাদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করে। তবে মুদ্রাস্ফীতির ফলে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরির মতো উৎপাদন উপকরণের ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং মূলধনের অভাবে অনেক সময় উৎপাদন ব্যাহত বা হ্রাস পেতে পারে। সামগ্রিকভাবে, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করলেও উপকরণের অত্যধিক ব্যয়বৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের নিট লাভ ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক অনুযায়ী "D" দেশে 'ব্যয়বৃদ্ধিজনিত বা খরচ বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি' (Cost-push Inflation) সৃষ্টি হয়েছে।

    উৎপাদন উপকরণের দাম বা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক যোগান হ্রাস পেয়ে দ্রব্যমূল্যের যে দীর্ঘমেয়াদী ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়, তাকে ব্যয়বৃদ্ধিজনিত মুদ্রাস্ফীতি বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের যোগানে সংকট সৃষ্টি হয়। "D" দেশটিকে এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে পরিবহন ব্যয় ও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে পণ্যের সামগ্রিক যোগান হ্রাস পেয়ে দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, যা ব্যয়বৃদ্ধিজনিত বা আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির স্পষ্ট প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে "D" দেশের সরকার ব্যয় কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মূলত সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি (Contractionary Fiscal Policy)-র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করবে।

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রাজস্ব নীতির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার যখন অনুৎপাদনশীল বা অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় হ্রাস করে, তখন সমাজে অর্থের প্রবাহ বা জনগণের হাতে কার্যকর অর্থের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। অর্থনীতিতে ভারসাম্য দামস্তর নির্ধারিত হয় সামগ্রিক চাহিদা ও সামগ্রিক যোগানের সমতার মাধ্যমে। উদ্দীপকের "D" দেশে যুদ্ধের কারণে সামগ্রিক যোগান কমে মূল্যস্তর বেড়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় সরকার তার সকল ধরনের ব্যয় কমানোর মাধ্যমে অর্থনীতিতে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস করছে। চাহিদার চাপ কমে আসলে অতিরিক্ত দামবৃদ্ধির প্রবণতা স্তিমিত হয়ে আসে।

    যদিও এ সমস্যাটি মূলত ব্যয়বৃদ্ধিজনিত যোগান সংকটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে, তবুও সরকারি ব্যয় হ্রাস সামগ্রিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রিত রেখে মুদ্রাস্ফীতির গতি ধীর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তাই সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ও কার্যকর প্রভাব ফেলবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন