সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    সামাজিক অসমতা কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিকীকরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে ভূমিকা রাখে? বুঝিয়ে বলো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থান সামাজিক স্তরবিন্যাসের যে ধরনটি নির্দেশ করছে তা ব্যাখ্যা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উক্ত স্তরটি ছিল সামাজিক স্তরবিন্যাসের সবচেয়ে চরম ও নিকৃষ্ট অবস্থা'— তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সম্পদ, ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধার অসম বণ্টন থেকে সৃষ্ট মানুষের মধ্যকার বিদ্যমান পার্থক্য বা বৈষম্যকেই সামাজিক অসমতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে পরিবার-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুরা শুধু আনুষ্ঠানিক পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই অর্জন করে না, বরং বিভিন্ন সামাজিক মূল্যবোধ, নিয়ম-শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিও শেখে। সহপাঠীদের সাথে মেলামেশা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা সমাজের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে এবং সামাজিক আচরণের কাঙ্ক্ষিত ধরনগুলো আয়ত্ত করে। এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি সামাজিক স্তরবিন্যাসের 'দাসপ্রথা' (Slavery) রূপকে নির্দেশ করছে।

    দাসপ্রথা হলো সামাজিক স্তরবিন্যাসের প্রাচীন ও চরমতম এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, যেখানে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হতো। উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন—'প্রভুর অবাধ কর্তৃত্ব ও সম্পত্তি', 'অধিকারবিহীন জীবন', 'সামাজিক ঘৃণার পাত্র', 'সম্পত্তি ছিল না' এবং গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল কর্তৃক সংজ্ঞায়িত 'জীবন্ত হাতিয়ার'—স্পষ্টতই দাসপ্রথার বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।

    দাসপ্রথায় দাসদের নিজস্ব কোনো সত্তা বা নাগরিক অধিকার থাকত না। দাস মালিকরা তাদের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব ফলাত এবং হাটে-বাজারে দাসদের কেনাবেচা করা যেত। দাসদের কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকার অধিকার ছিল না এবং তাদের অবস্থান ছিল সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে। উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত লক্ষণগুলো দাসপ্রথার এই চরম বৈষম্যমূলক ধরনকেই প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, 'উক্ত স্তরটি ছিল সামাজিক স্তরবিন্যাসের সবচেয়ে চরম ও নিকৃষ্ট অবস্থা'—আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    সামাজিক স্তরবিন্যাসের চারটি প্রধান রূপ—দাসপ্রথা, এস্টেট প্রথা, জাতিবর্ণ প্রথা এবং সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা। এদের মধ্যে দাসপ্রথাই ছিল সর্বাধিক অমানবিক ও নিকৃষ্টতম ব্যবস্থা। উদ্দীপকের প্রশ্নবোধক স্থানে নির্দেশিত রূপটি হলো দাসপ্রথা।

    আমার মতের সপক্ষে যুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
    ১. মানবিক মর্যাদাহীনতা: দাসপ্রথায় মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো না, বরং পশু বা জড়বস্তুর ন্যায় পণ্যের মর্যাদায় দেখা হতো। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল দাসদের 'জীবন্ত হাতিয়ার' (living tool) বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
    ২. আইনি ও নাগরিক অধিকারবঞ্চনা: সমাজে দাসদের কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা আইনি অধিকার ছিল না। মালিকের ইচ্ছাই ছিল তাদের জন্য চূড়ান্ত আইন। মালিকের ছিল দাসের ওপর অবাধ জীবন ও মৃত্যুর অধিকার।
    ৩. অর্থনৈতিক শোষণ: দাসরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার ছিল না। তাদের শ্রমের সবটুকু ফল ভোগ করত দাসমালিকেরা।
    ৪. বংশানুক্রমিক ও পরিবর্তনহীন অবস্থান: দাসের সন্তান দাস হিসেবেই জন্মাত এবং তাদের এই দাসত্ব থেকে মুক্তির কোনো সহজ সামাজিক গতিশীলতার পথ খোলা ছিল না।

    জাতিবর্ণ প্রথায় সামাজিক দূরত্ব বা এস্টেট প্রথায় শ্রেণিভেদ থাকলেও দাসপ্রথার মতো মানুষকে কেনাবেচাযোগ্য পণ্যে পরিণত করার এমন নিকৃষ্ট নিদর্শন আর কোনো স্তরে ছিল না। সুতরাং, দাসপ্রথা ছিল মানব ইতিহাসের সামাজিক স্তরবিন্যাসের চরমতম ও সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন