ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে ব্যাংকটি তার সুদের হার ২%২% বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সুদের হার বৃদ্ধির পরেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ব্যাংকটি ঋণ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু খাত নির্দিষ্ট করে দেয়। যার ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসে।

  1. ক)

    নোট ইস্যুকরণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমত কোন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপটির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক আইনগত ক্ষমতাবলে নিজস্ব দায়িত্বে দেশে কাগুজে মুদ্রা বা নোট ছাপানো ও বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়াকে নোট ইস্যুকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের সামগ্রিক মুদ্রাবাজারের নেতৃত্ব প্রদান, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার একক কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকায় একে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয়।\n\nমুদ্রাবাজারের অন্যান্য তালিকাভুক্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম-কানুন ও নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হয়। দেশের ঋণপ্রবাহ ও তারল্য নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস-বৃদ্ধি তদারকি করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংকটকালে 'সর্বশেষ ঋণের আশ্রয়স্থল' হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে। এসব অভিভাবকসুলভ ভূমিকার কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রাবাজারের অভিভাবক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমত 'ব্যাংক হার নীতি' (Bank Rate Policy) নামক সংখ্যাত্মক বা সাধারণ ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিটি ব্যবহার করেছে।\n\nযে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে ঋণ প্রদান করে বা তাদের প্রথম শ্রেণির বিল পুনর্বাট্টা করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। বাজারে ঋণপ্রবাহ কমানো বা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যাংক হার বৃদ্ধি করে।\n\nউদ্দীপকে দেখা যায়, বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ২% বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের খরচ বৃদ্ধি পায় এবং তারা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সুদের হার বাড়িয়ে ঋণ গ্রহণ নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার পরিবর্তনের এই কৌশলটি হলো সংখ্যাত্মক পদ্ধতির অন্তর্গত ব্যাংক হার নীতি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঋণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপটি ছিল 'ঋণ বরাদ্দকরণ নীতি' (Rationing of Credit), যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক ছিল।\n\nসাধারণ বা সংখ্যাত্মক পদ্ধতিতে (যেমন- ব্যাংক হার নীতি) সামগ্রিকভাবে ঋণ সংকুচিত করা হলেও তা অনেক সময় সুনির্দিষ্ট অনুৎপাদনশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে ঋণের অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুণগত বা নির্বাচনমূলক পদ্ধতি প্রয়োগ করে, যার মধ্যে ঋণ বরাদ্দকরণ নীতি অন্যতম। এই পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বা নির্দিষ্ট খাত নির্ধারণ করে দেয়।\n\nউদ্দীপকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার ২% বৃদ্ধি করেও যখন মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা ঋণ সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু খাত নির্দিষ্ট করে দেয়। এর যৌক্তিকতা নিম্নরূপ:\n১. অনুৎপাদনশীল ও ফটকাবাজারি খাতে ঋণ নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রাস্ফীতির সময়ে অতিরিক্ত অর্থ প্রায়শই অনুৎপাদনশীল ও ফটকাবাজারি খাতে প্রবাহিত হয়ে মূল্যস্তর বাড়িয়ে দেয়। নির্দিষ্ট খাত নির্ধারণ করে দেওয়ায় এই ধরনের অপচয়মূলক খাতে ঋণের অপব্যবহার বন্ধ হয়।\n২. উৎপাদনশীল খাতের সুরক্ষা: সার্বিক ঋণ কমালে উৎপাদনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। খাত নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় অগ্রাধিকারমূলক খাতে পর্যাপ্ত ঋণ নিশ্চিত হয়, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয় না।\n৩. দ্রুত বাজারে স্থিতিশীলতা আনয়ন: ঋণ বরাদ্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় বাজারে অর্থের অযাচিত জোগান দ্রুত হ্রাস পায় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।\n\nঅতএব, কেবল সাধারণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে অগ্রাধিকারমূলক ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বরাদ্দকরণ নীতি প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও কার্যকর হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন