উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব গনিমিয়া একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে শনপাপড়ি তৈরি করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয়ের সাথে ১০% মুনাফা যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। এতে তিনি সফল হন।
- ক)(1)
বিপণন কি?
- খ)(2)
"সকল ক্রেতা ভোক্তা নয়"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শন পাপড়ি তৈরির মাধ্যমে কোন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে পণ্যের মূল্য নির্ধারণের যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে তা উল্লেখপূর্বক তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনকারী হতে চূড়ান্ত ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর কাছে পণ্য বা সেবা পৌঁছানোর সাথে জড়িত সকল অর্থনৈতিক ও বিপণন কার্যাবলিকে বিপণন (Marketing) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্রেতা পণ্য ক্রয় করলেও তিনি স্বয়ং পণ্যটি ভোগ নাও করতে পারেন, তাই সকল ক্রেতা ভোক্তা নয়।
'ক্রেতা' হলেন যিনি অর্থ দিয়ে পণ্য বা সেবা ক্রয় করেন, তা নিজের ব্যবহারের জন্য হতে পারে বা পুনর্বিক্রয় অথবা অন্যের ব্যবহারের জন্যও হতে পারে। অন্যদিকে, 'ভোক্তা' হলেন যিনি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অভাব মেটানোর উদ্দেশ্যে চূড়ান্তভাবে পণ্যের উপযোগ ভোগ বা ধ্বংস করেন। যেমন— একজন দোকানদার বিক্রয়ের জন্য পণ্য কিনলে তিনি ক্রেতা, কিন্তু ভোক্তা নন। কাজেই যিনি কেনেন তিনি সর্বদা ভোক্তা নাও হতে পারেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শনপাপড়ি তৈরির মাধ্যমে 'রূপগত উপযোগ' (Form Utility) সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকৃতিপ্রদত্ত কোনো বস্তুর বাহ্যিক রূপ, আকার বা গঠনের পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী নতুন পণ্য তৈরি করা হলে তাকে রূপগত উপযোগ বলে। উৎপাদনের মূল মাধ্যমেই রূপগত উপযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে জনাব গনি মিয়া বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ (যেমন— বেসন, চিনি, তেল ইত্যাদি) একত্রিত করে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে শনপাপড়ি তৈরি করেছেন। এতে কাঁচামালের মৌলিক রূপ পরিবর্তিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন খাদ্যপণ্যের রূপ নিয়েছে, যা ক্রেতাদের তৃপ্তি মেটাতে সক্ষম। সুতরাং, শনপাপড়ি তৈরির মাধ্যমে এখানে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে 'ব্যয়-যোগ মূল্য নির্ধারণ' (Cost-plus Pricing) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হিসেবে জনাব গনি মিয়ার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটি গ্রহণ করা অত্যন্ত কার্যকর ও যথার্থ হয়েছে।
ব্যয়-যোগ পদ্ধতিতে পণ্যের প্রতি এককের সামগ্রিক উৎপাদন খরচের সাথে একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারে প্রত্যাশিত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়। গনি মিয়া তাঁর শনপাপড়ি তৈরিতে যে খরচ হয়েছে তার সাথে ১০% মুনাফা যোগ করে মূল্য নির্ধারণ করেছেন, যা ব্যয়-যোগ পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ।
আমার মতে পদ্ধতিটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সঠিক হওয়ার কারণগুলো নিম্নরূপ:
১. সহজবোধ্যতা: গনি মিয়া একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হওয়ায় জটিল বাজার জরিপ বা প্রতিযোগী বিশ্লেষণ ছাড়াই তিনি সহজে ও নির্ভুলভাবে পণ্যটির মূল্য নির্ধারণ করতে পেরেছেন।
২. নিশ্চিত মুনাফা: উৎপাদন খরচের ওপর নিশ্চিত ১০% মুনাফা যোগ করায় লোকসানের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
৩. ন্যায্য ও স্থির মূল্য: ক্রেতারাও অতিরিক্ত বা অন্যায্য দাম দেওয়ার অনুভূতি থেকে মুক্ত থাকেন, ফলে স্থানীয় বাজারে তাঁর পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।অতএব, জনাব গনি মিয়ার মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য ব্যয়-যোগ পদ্ধতি অনুসরণ করে শনপাপড়ির মূল্য নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি সঠিক ও প্রশংসনীয় হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও