বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মহাসড়কের পাশে পোড়াবাড়ি গ্রামে ফসি পাগলের মাজার। মঙ্গললাভের আশায় টাকা-পয়সা, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল মানত করা হয় এই মাজারে। চলমান বাসের চালক, যাত্রাপথের পথিক ভক্তিভরে পর্যাপ্ত দান করে। মাজারের খাদেম এখন প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক। এলাকায় তার প্রভাব-প্রতিপত্তিও কম নয়। কে এই ফসি পাগল? কী তার পরিচয়? এসব প্রশ্নের কোনো প্রকার সদুত্তর মেলে না তার কাছে।

  1. ক)

    আক্কাসের বাবার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    "খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “লালসালু” উপন্যাসের মজিদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড উদ্দীপকের চিত্রিত খাদেমের কর্মকান্ডে সীমিত পরিসরে বিবৃত হয়েছে ।” মন্তব্যটি বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আক্কাসের বাবার নাম মোদাব্বের মিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে"—কথাটি দ্বারা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পাশাপাশি অন্ন বা জীবিকার অপরিহার্য চাহিদাকে বোঝানো হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের আদি বাসস্থান শস্যহীন পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও সেখানে চরম খাদ্যভাব বিদ্যমান ছিল। খোদাপ্রেম বা ধর্মীয় জ্ঞান মানুষকে আত্মিক শান্তি দিলেও ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে পারে না। তাই পেটের তাগিদে এবং জীবিকার অন্বেষণে তাদের নিজ অঞ্চল ছেড়ে দূর-দূরান্তে পাড়ি জমাতে হতো। মানুষের মৌলিক জৈবিক চাহিদার এই নির্মম বাস্তবতাই উক্ত চরণে প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত অজ্ঞাত মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ধর্মব্যবসা ও সাধারণ মানুষের অন্ধ বিশ্বাসের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি বেওয়ারিশ প্রাচীন কবরকে 'মোদাচ্ছের পীর'-এর মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। সেখানে সে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ভয়কে পুঁজি করে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও জীবিকা নিশ্চিত করে। গ্রামের মানুষ না জেনে, না বুঝে সেই মাজারে মানত ও দান-খয়রাত করতে শুরু করে।

    উদ্দীপকেও মহাসড়কের পাশে ফসি পাগলের পরিচয়হীন এক মাজারের কথা বলা হয়েছে, যার কোনো ঐতিহাসিক বা আধ্যাত্মিক ভিত্তি নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ পার্থিব মঙ্গল ও বিপদমুক্তির আশায় সেখানে অকাতরে দান করে। আর এই সুযোগে মাজারের খাদেম অঢেল ধন-সম্পদ ও প্রভাবের মালিক বনে যায়। উপন্যাসের মজিদের মাজার প্রতিষ্ঠা এবং উদ্দীপকের ফসি পাগলের মাজারের খাদেমের কর্মকাণ্ডের মধ্যে একই ধরনের ধর্মব্যবসার চিত্র থাকায় উদ্দীপকটি উপন্যাসের সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড উদ্দীপকের চিত্রিত খাদেমের কর্মকাণ্ডে সীমিত পরিসরে বিবৃত হয়েছে”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকের খাদেম কেবল ফসি পাগলের পরিচয়হীন মাজারটিকে আশ্রয় করে সাধারণ মানুষের অন্ধ ভক্তি ও দান-অনুদানের মাধ্যমে প্রচুর অর্থবিত্ত ও প্রতিপত্তির মালিক হয়েছে। তার কর্মকাণ্ড কেবল মাজারের দান গ্রহণ ও বৈষয়িক সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কেবল মাজারের খাদেম হিসেবে অর্থ উপার্জন করেই ক্ষান্ত হয়নি; সে গ্রামের সামগ্রিক সমাজব্যবস্থা, রাজনীতি, মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং ব্যক্তিগত জীবনকেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। মজিদ একাধারে খালেক ব্যাপারীর মতো মাতব্বরকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, আক্কাসের মতো প্রগতিশীল যুবকের স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নস্যাৎ করেছে, তাহের-কাদেরের পারিবারিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেছে এবং নারীদের ওপর পিতৃতান্ত্রিক ধর্মীয় আধিপত্য চাপিয়ে দিয়েছে। জমিলা যখন তার ভণ্ডামির বিরুদ্ধে নীরব বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তখন সে অস্তিত্বের সংকটে ভুগেছে এবং ঝড়-তুফানের মুখেও নিজের তৈরি অন্ধ শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে চেয়েছে।

    সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের খাদেমের কর্মকাণ্ড কেবল আর্থিক লাভ ও স্থানীয় প্রভাবের একটি সীমিত স্তরে আবদ্ধ, অথচ 'লালসালু' উপন্যাসে মজিদের কর্মকাণ্ড পুরো একটি সমাজের শাসন-শোষণ, কুসংস্কার ও মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক জাল বিস্তার করে রয়েছে। তাই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন