সাহিত্য পাঠ • ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
“কপালে কব্জিতে লাল সালু বেঁধেএই মাঠে ছুটে এসেছিল কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক,লাঙল জোয়াল কাঁধে এসেছিল ঝাঁক বেঁধে উলঙ্গ কৃষকহাতের মুঠোয় মৃত্যু চোখে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিল মধ্যবিত্ত,নিম্মবিত্ত করুণ কেরানি, নারী, বৃদ্ধ, ভবঘুরেআর তোমাদের মতো শিশু পাতা কুড়ানিরা দল বেঁধে।”
- ক)(1)
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
- খ)(2)
‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার বক্তব্যের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে ‘ফেব্রয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার খন্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে।”মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ শামসুর রাহমানের ‘নিজ বাসভূমে’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকালে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চরম দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
আইয়ুব খানের সামরিক সরকার বাঙালিদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনকে বুলেটের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। সাধারণ মানুষের কোনো বাকস্বাধীনতা বা জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। দেশের রাজপথ ও অলিগলি মিলিটারির নির্মম পদভারে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠেছিল। ঘাতকের এই রক্তচক্ষু ও নারকীয় পরিবেশের কারণেই সারা দেশকে ঘাতকের আস্তানা হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সংগ্রামী জনতার শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ গণজাগরণের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় দেখা যায়, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কেবল ছাত্রসমাজ নয়, বরং শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। বরকত, সালাম প্রমুখের আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে রাজপথ এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, জাতীয় সংকটের মুহূর্তে কারখানা থেকে লোহার শ্রমিক, লাঙল-জোয়াল কাঁধে কৃষক, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কেরানি, নারী, বৃদ্ধ এবং পথশিশু পর্যন্ত সবাই এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ঐক্য ও সংগ্রামী চেতনা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল সার্বজনীন। গণআন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের এই সম্মিলনের চিত্রটি উদ্দীপক ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাদৃশ্য ধারণ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার খণ্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
শামসুর রাহমানের ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পটভূমিতে রচিত একটি গভীর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ভাবসম্পন্ন কবিতা। এ কবিতায় একদিকে রয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের রক্তঝরা স্মৃতি ও কৃষ্ণচূড়া ফুলের প্রতীকে সেই শহিদদের আত্মত্যাগ। অন্যদিকে রয়েছে ঊনসত্তরের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, পাকিস্তানি জান্তার নির্মম অত্যাচার, বরকত-সালামের মতো বীরদের রাজপথে নামা, এবং দেশের মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গণচেতনার এক সামগ্রিক আলেখ্য কবিতাটিতে রূপ পেয়েছে।
উদ্দীপকের চরণগুলোতে (যা মূলত নির্মলেন্দু গুণের ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতার অংশবিশেষ) কেবল ৭ই মার্চের ভাষণের জন্য রেসকোর্স ময়দানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একত্রিত হওয়ার দৃশ্যটি চিত্রিত হয়েছে। অর্থাৎ, সেখানে কেবল সংগ্রামী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েতের চিত্রটিই এসেছে। কিন্তু ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার অন্যতম মূল সুর—ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঘাতকের নির্মম নির্যাতন, সালামের হাত থেকে নক্ষত্রের মতো বর্ণমালা ঝরে পড়া এবং শহিদদের রক্তের মহিমান্বিত রূপের কোনো উল্লেখ উদ্দীপকে নেই।
সুতরাং বিচার করলে দেখা যায়, উদ্দীপকে কেবল গণজমায়েত ও মানুষের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের খণ্ডচিত্রটি এসেছে, কিন্তু ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সামগ্রিক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গভীর আত্মত্যাগের ব্যঞ্জনা সেখানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। অতএব, প্রদত্ত মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও