মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিম ও করিম দুই ভাই। রহিম খর্বাকৃতির, ক্ষীণদেহী ও স্ফীতোদর। করিম শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও উচ্চতায় ছোট-খাট হওয়ায় সে সব সময় মানসিকভাবে হীনম্মন্যতায় ভোগে। অন্যদিকে, তাদের চাচাত ভাই নিয়াজের একটি গ্রন্থির হরমোন যথেষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত না হওয়ায় বহুমূত্র রোগ হয়েছে।
- ক)(1)
অনালী গ্রন্থি কী?
- খ)(2)
সন্নিকর্ষ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
রহিমের শারীরিক সমস্যার জন্য দায়ী হরমোনটি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
করিম ও নিয়াজের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রন্থি একই না ভিন্ন? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব গ্রন্থির কোনো নিজস্ব নালী থাকে না এবং যাদের ক্ষরণ (হরমোন) সরাসরি রক্তের সাথে মিশে দেহের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয়, সেগুলোকে অনালী গ্রন্থি বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি (Endocrine gland) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুটি নিউরনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলকে সন্নিকর্ষ বা সিন্যাপস (Synapse) বলে। স্নায়ুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে স্নায়ুপ্রবাহ এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে সঞ্চালিত হওয়ার জন্য সন্নিকর্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্নিকর্ষের মাধ্যমেই স্নায়ু উদ্দীপনা একমুখীভাবে পরিবাহিত হয় এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক বার্তা (নিউরোট্রান্সমিটার) প্রেরণের মাধ্যমে সংবেদী অনুভূতি গ্রহণ ও পেশির কার্যাবলি বা সাড়া প্রদান নিয়ন্ত্রিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিমের শারীরিক সমস্যার (খর্বাকৃতি, ক্ষীণদেহ ও স্ফীতোদর) জন্য দায়ী হরমোনটি হলো থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত 'থাইরক্সিন' (Thyroxin) হরমোন।
গলবিলের নিচে শ্বাসনালীর উভয় পাশে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়। শৈশবে বা বাল্যকালে থাইরয়েড গ্রন্থির অপূর্ণ বিকাশ বা থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি (Hypothyroidism)-র কারণে শিশুদের মধ্যে 'ক্রেটিনিজম' (Cretinism) রোগ দেখা দেয়। এর ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, দেহ খর্বাকৃতি হয়, পেট স্ফীত বা ফোলা দেখায় এবং দেহ ক্ষীণ বা দুর্বল হয়ে পড়ে। উদ্দীপকে রহিমের যে শারীরিক লক্ষণসমূহ প্রকাশিত হয়েছে, তা থাইরক্সিন হরমোনের স্বল্পক্ষরণের প্রত্যক্ষ ফলাফল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
করিম ও নিয়াজের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রন্থি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন— নিচে তা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করা হলো:
উদ্দীপক অনুসারে, করিম শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও উচ্চতায় ছোট-খাটো (বামনাকৃতি)। এর জন্য দায়ী হলো পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland)। পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখভাগ থেকে নিঃসৃত 'সোমাটোট্রপিক হরমোন' (STH) বা বৃদ্ধি হরমোন (Growth Hormone) দেহের অস্থি ও পেশির স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। বাল্যকালে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে দৈহিক বৃদ্ধি থমকে যায় এবং মানুষ খর্বাকৃতির বা বামন (Dwarfism) হয়ে পড়ে। করিমের ক্ষেত্রে এই হরমোনের স্বল্পক্ষরণ ঘটেছিল।
অন্যদিকে, নিয়াজের ক্ষেত্রে দেখা যায় হরমোনের ঘাটতির কারণে বহুমূত্র রোগ (Diabetes mellitus) হয়েছে। এর জন্য দায়ী গ্রন্থিটি হলো অগ্ন্যাশয় বা প্যাংক্রিয়াস (Pancreas), বিশেষ করে অগ্ন্যাশয়ের 'আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স' (Islets of Langerhans) অংশ। এই অংশ থেকে নিঃসৃত 'ইনসুলিন' (Insulin) হরমোন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের নিঃসরণ কম হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগ সৃষ্টি হয়। (উল্লেখ্য, পিটুইটারি গ্রন্থির পশ্চাৎভাগ নিঃসৃত অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন বা ভ্যাসোপ্রেসিনের ঘাটতিতেও ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস হতে পারে, তবে সচরাচর বহুমূত্র বলতে ইনসুলিনের অভাবজনিত অগ্ন্যাশয়ের রোগকেই নির্দেশ করা হয়)।
সুতরাং, করিমের সমস্যার জন্য দায়ী পিটুইটারি গ্রন্থি এবং নিয়াজের সমস্যার জন্য দায়ী অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি। তাই করিম ও নিয়াজের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী গ্রন্থি দুটি ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও