পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
রাজধানীর শ্যামপুর থানার একটি মামলায় বিনা বিচারে প্রায় দেড় দশক ধরে কারাগারে ছিলেন চান মিয়া। এ বিষয়ে বেসরকারি একটি চ্যানেলে সংবাদ প্রচারিত হলে সর্বোচ্চ আদালতের নজরে আনেন দুই আইনজীবী। সর্বোচ্চ আদালত চান মিয়াকে জামিন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতকে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান কে?
- খ)(2)
বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন আদালতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? এর গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে উল্লেখিত আদালতের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী শাসন বা নির্বাহী বিভাগের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনসভা কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন বা শাসন বিভাগ কর্তৃক গৃহীত কোনো প্রশাসনিক আদেশ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা বিচার বিভাগের মাধ্যমে পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করার ক্ষমতাকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা (Judicial Review) বলা হয়। যদি কোনো আইন বা পদক্ষেপ সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে বিচার বিভাগ সেটিকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত 'সুপ্রিম কোর্ট'-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিচারালয় হিসেবে একটি সুপ্রিম কোর্ট রয়েছে, যার দুটি বিভাগ রয়েছে—
১. আপিল বিভাগ (Appellate Division)
২. হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division)গঠন:
সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি (যাঁকে 'বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি' বলা হয়) এবং অন্যান্য বিচারক নিয়ে গঠিত। প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি উভয় বিভাগের অন্যান্য বিচারকদের নিয়োগ দেন। আপিল বিভাগের বিচারকগণ আপিল সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকগণ মূল মোকাদ্দমা, রিট পিটিশন ও নিম্ন আদালতের আপিল শুনানির এখতিয়ার রাখেন। সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির এখতিয়ার রয়েছে আদালতের বেঞ্চ গঠন ও তত্ত্বাবধান করার। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা উদ্দীপকের ঘটনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
প্রথমত, আইনের শাসনের মূল ভিত্তি হলো আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং বিনা বিচারে কাউকে আটকে না রাখা। উদ্দীপকে চান মিয়া দীর্ঘ দেড় দশক বিনা বিচারে আটক ছিলেন, যা সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নজরে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে নিম্ন আদালতকে মামলা নিষ্পত্তির আদেশ দেন। এটি প্রমাণ করে বিচার বিভাগ মানবাধিকারের অতন্দ্র প্রহরী।
দ্বিতীয়ত, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎকরণের জন্য রিট জারি করতে পারে। বিচার বিভাগীয় সক্রিয়তা (Judicial Activism) ও স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Moto) আদেশের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত যেকোনো প্রশাসনিক অন্যায় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নাগরিককে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে।
তৃতীয়ত, নিম্ন আদালতসমূহের ওপর সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিরসন এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আদালত অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে।
অতএব, উদ্দীপকের ঘটনা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার আলোকে বলা যায় যে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও