অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে দক্ষ মানবসম্পদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের সুস্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অপরিহার্য পূর্বশর্ত। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সত্ত্বেও যদি জনগোষ্ঠীকে অপুষ্টি, নিরক্ষরতা ও স্বাস্থ্যহীনতার অভিশাপমুক্ত করা না যায়, তাহলে সে প্রবৃদ্ধি অর্জন অর্থহীন। তাই শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের তাগিদেই নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন পৃথকভাবেই একটি ইঙ্গিত লক্ষ্য।
- ক)(1)
শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি কাকে বলে?
- খ)(2)
পরিবার পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের উপায় চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের জন্মহার ও মৃত্যুহার সমান হলে (অর্থাৎ প্রাকৃতিক বৃদ্ধি শূন্য হলে) এবং নিট অভিবাসন শূন্য হলে তাকে শূন্য জনসংখ্যা বৃদ্ধি (Zero Population Growth বা ZPG) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার পরিকল্পনা বলতে পরিকল্পিতভাবে পরিবারের আকার বা সদস্যসংখ্যা সীমাবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ রাখাকে বোঝায়।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারে সন্তানের সংখ্যা সীমিত রাখা, দুটি সন্তানের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত সময়ের ব্যবধান নির্ধারণ করা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অপুষ্টি, নিরক্ষরতা ও স্বাস্থ্যহীনতা দূরীকরণ এবং জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্দীপকের আলোকে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান উপায়গুলো নিচে চিহ্নিত করা হলো:
১. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের প্রসার: উদ্দীপকে প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর অপরিহার্যতার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে জনগণকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
২. স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি উন্নয়ন: উদ্দীপকে অপুষ্টি ও স্বাস্থ্যহীনতার অভিশাপমুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম উপায়।
৩. নিরক্ষরতা দূরীকরণ: জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিরক্ষর থাকলে তারা আধুনিক উৎপাদনের সাথে যুক্ত হতে পারে না। তাই কার্যকর সাক্ষরতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরক্ষরতা দূর করা জরুরি।
সুতরাং, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও জনগোষ্ঠী যদি নিরক্ষর ও স্বাস্থ্যহীন থাকে, তবে সে প্রবৃদ্ধি অর্থহীন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ ও দেশের সামগ্রিক কল্যাণে মানবসম্পদ উন্নয়নের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা মূল্যায়ন করা হলো:
১. উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে, যা সামগ্রিক জাতীয় উৎপাদন (GNP) বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
২. প্রাকৃতিক ও বস্তুগত সম্পদের সঠিক ব্যবহার: একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যতই থাকুক না কেন, দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া তা সুষ্ঠু ও কাম্যভাবে আহরণ ও ব্যবহার করা যায় না।
৩. দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস: মানবসম্পদ উন্নয়নের ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে, আয় বৃদ্ধি পায় এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়। ফলে সমাজের দারিদ্র্য ও বৈষম্য হ্রাস পায়।
৪. প্রযুক্তিগত রূপান্তর: আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক অগ্রগতির চাবিকাঠি হলো প্রযুক্তি। দক্ষ জনশক্তি দ্রুত আধুনিক প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ও উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দিতে পারে।
উদ্দীপকের বক্তব্যটি যথার্থ—কেবলমাত্র বস্তুগত উৎপাদন বা প্রবৃদ্ধি অর্জনই যথেষ্ট নয়; মানবকল্যাণ ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও