জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
প্রকৃত কোষের জীবে দৈহিক বৃদ্ধি এক ধরনের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে ঘটে। আবার অন্য এক ধরনের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জনন কোষ সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
ক্যারিওকাইনেসিস কি?
- খ)(2)
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রথম ধরনের কোষ বিভাজনে চতুর্থ দশাটি চিত্রসহ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দ্বিতীয় ধরনের কোষ বিভাজন তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস (Karyokinesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাইটোসিস কোষ বিভাজন স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রোটিন (যেমন- সাইক্লিন, সিডিকে) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিনষ্ট হলে কোষগুলো অস্বাভাবিক ও দ্রুতগতিতে বিভাজিত হতে থাকে। কোষের এই ধরনের অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বিভাজনকে অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস বলে। এর ফলে টিউমার সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে তা ম্যালিগন্যান্ট হয়ে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ধরনের কোষ বিভাজনটি হলো মাইটোসিস। মাইটোসিসের পাঁচটি পর্যায়ের মধ্যে চতুর্থ দশাটি হলো অ্যানাফেজ বা গতিপর্যায় (Anaphase)।
বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এই পর্যায়ের শুরুতেই প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, যার ফলে প্রতিটি ক্রোমাটিড একটি অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
২. প্রতিটি অপত্য ক্রোমোজোমে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
৩. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চল থেকে বিপরীত মেরুর দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। ক্রোমোজোমগুলোর সেন্ট্রোমিয়ার থাকে মেরুমুখী এবং বাহুদ্বয় থাকে অনুগামী।
৪. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থানের ভিত্তিতে ক্রোমোজোমগুলোকে V-আকৃতির (মেটাসেন্ট্রিক), L-আকৃতির (সাব-মেটাসেন্ট্রিক), J-আকৃতির (অ্যাক্রোসেন্ট্রিক) অথবা I-আকৃতির (টেলোসেন্ট্রিক) দেখায়।
৫. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো মেরুর কাছাকাছি পৌঁছালে এ পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।(পরীক্ষায় উত্তরপত্রে অ্যানাফেজ দশার একটি পরিষ্কার চিহ্নিত চিত্র—যেখানে অপত্য ক্রোমোজোম, সেন্ট্রোমিয়ার, আকর্ষণ তন্তু ও দুই মেরু প্রদর্শিত হবে—অঙ্কন করতে হবে।)
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দ্বিতীয় ধরনের কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস বিভাজন, যার মাধ্যমে জনন কোষ উৎপন্ন হয়। জীবজগতে এই বিভাজনের তাৎপর্য অপরিসীম:
১. জনন কোষ সৃষ্টি: যৌন প্রজননক্ষম জীবের ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) সৃষ্টিতে মিয়োসিস অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকা পালন করে।
২. ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা: মিয়োসিসের মাধ্যমে জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পেয়ে মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। পরবর্তীতে নিষেকের মাধ্যমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে পুনরায় জাইগোটে ডিপ্লয়েড সংখ্যা ফিরে আসে। ফলে প্রজাতিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা পুরুষানুক্রমে ধ্রুব থাকে।
৩. প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষা: ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকার কারণে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা ও বংশানুক্রমিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
৪. ক্রসিং ওভার ও জিনগত বৈচিত্র্য: মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ-১ দশায় হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় অর্থাৎ ক্রসিং ওভার ঘটে। এর ফলে নতুন জিনগত পুনর্বিন্যাস বা জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটে, যা জীবের মধ্যে বৈচিত্র্য বা ভ্যারিয়েশন সৃষ্টি করে।
৫. অভিব্যক্তি বা বিবর্তন: জিনের পুনর্বিন্যাসের ফলে সৃষ্ট বৈচিত্র্যই নতুন প্রজাতির উদ্ভব ও পরিবেশের প্রতিকূলতায় টিকে থাকার অভিযোজনিক ক্ষমতা প্রদান করে, যা বিবর্তনের মূল উপাদান হিসেবে কাজ করে।সুতরাং, জীবের অস্তিত্ব রক্ষা, বংশগতির ধারাবাহিকতা এবং বিবর্তনের স্বার্থে মিয়োসিস অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও