অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জামাল হোসেন একজন প্রান্তিক চাষি। তার জমিতে প্রতিবছর বারবার এক ফসল ফলানোর কারণে উৎপাদন কম হয়। ফলে তার পরিবারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। এমতাবস্থায় কৃষি ব্লক সুপারভাইজারের পরামর্শ নিয়ে আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, গ্রাম্য-মহাজনের নিকট ঋণ না নিয়ে ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নেয় এবং একই জমিতে এখন তিন ফসল ফলায়। প্রথমে সরিষা, তারপর পাট অবশেষে ধান চাষ করে। এতে তার পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে।
- ক)(1)
কৃষিপণ্যের বিপণন কী?
- খ)(2)
কৃষি খামার ও কৃষি জোত কি একই?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জামাল হোসেনের কৃষি উৎপাদন কার্যক্রম কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জামাল হোসেন ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারতো কি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিপণ্য উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সম্পাদিত যাবতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমষ্টিকে কৃষিপণ্যের বিপণন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি খামার ও কৃষি জোত এক নয়, এদের মধ্যে ধারণাগত পার্থক্য রয়েছে।
কৃষি জোত হলো একজন কৃষকের অধীনে থাকা মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বা মালিকানা স্বত্ব, যা একটি উৎপাদন একক হিসেবে গণ্য হতে পারে বা বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, কৃষি খামার হলো একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনাগত একক, যেখানে একজন কৃষক বা খামারির একক পরিচালনায় মুনাফা বা উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কৃষি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একটি কৃষি খামারে এক বা একাধিক কৃষি জোত থাকতে পারে। সুতরাং এদের প্রকৃতি ভিন্ন। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জামাল হোসেনের কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমটি হলো 'বহুমুখী শস্য চাষ' বা 'শস্য বহুমুখীকরণ' (Crop Diversification)।
কোনো জমিতে সারা বছর একক ফসল চাষ না করে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন ফসলের আবাদ করাকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে। এটি মাটির উর্বরতা রক্ষা করে এবং উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
উদ্দীপকে জামাল হোসেন পূর্বে প্রতিবছর শুধু এক ফসল ফলাতেন, যার ফলে ফলন কম হতো এবং দারিদ্র্য লেগে থাকত। পরবর্তীতে তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে একই জমিতে বছরে তিনটি ভিন্ন ফসল—প্রথমে সরিষা, তারপর পাট এবং পরিশেষে ধান চাষ শুরু করেন। একই জমিতে পর্যায়ক্রমে রবি, খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমের উপযুক্ত একাধিক ফসল উৎপাদন করার এই প্রক্রিয়াটি অর্থনীতিতে শস্য বহুমুখীকরণ পদ্ধতির প্রতিফলন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, জামাল হোসেন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ছাড়াও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারতেন।
কৃষিঋণের উৎসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক উৎস এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক উৎস।
১. অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক উৎস:
ব্যাংক ছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হিসেবে জামাল হোসেন বিভিন্ন সমবায় সমিতি (যেমন- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বা বিআরডিবি-র অধীনস্থ সমিতি), বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী বেসরকারি সংস্থা বা এনজিও (যেমন- আশা, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদি) এবং সরকারি কৃষি উন্নয়ন সংস্থা থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারতেন। এসব উৎস থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তদারকির সুযোগও পাওয়া যায়।২. অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস:
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে তিনি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গ্রাম্য মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেননি। তবে বিকল্প হিসেবে তিনি এদের কাছ থেকেও অনানুষ্ঠানিক ঋণ নিতে পারতেন। এছাড়া গ্রাম্য ব্যবসায়ী, ফড়িয়া বা পাইকারদের কাছ থেকে আগাম ঋণ বা দাদন গ্রহণের সুযোগও গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিদ্যমান থাকে। তবে এসব অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণে উচ্চ সুদের হার ও শোষণের ঝুঁকি থাকে।সুতরাং, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জামাল হোসেন ব্যাংক ছাড়াও সমবায় সমিতি বা এনজিওর মতো অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক উৎস কিংবা আত্মীয়-স্বজন ও মহাজনের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিতে পারতেন; তবে ব্যাংক বা সমবায়ভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ বেছে নেওয়াই ছিল তার জন্য সবচেয়ে লাভজনক ও ঝুঁকিমুক্ত সিদ্ধান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও