অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ কর এবং নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:

- ক)(1)
অর্থ কী?
- খ)(2)
'সুদের হার হ্রাস পেলে অর্থের ফকটা চাহিদা বৃদ্ধি পায়'— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রে অর্থের মূল্য ও দামস্তরের মধ্যে যে সম্পর্ক প্রকাশ করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অর্থেরমূল্য Vm1 \mathrm{Vm}{1} থেকে Vm2 \mathrm{Vm}{2} হলে বাজার ব্যবস্থায় কোনোরূপ প্রভাব পড়বে কিনা, তোমার মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থ হলো এমন একটি বস্তু যা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক এবং সঞ্চয়ের ভান্ডার হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য এবং সরকার কর্তৃক স্বীকৃত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে সুদের হার বা বন্ডের দামের হ্রাস-বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মানুষ নগদ যে অর্থ ধরে রাখতে চায়, তাকে অর্থের ফটকা চাহিদা (Speculative demand for money) বলে।
সুদের হারের সাথে অর্থের ফটকা চাহিদার সম্পর্ক বিপরীতমুখী। সুদের হার বেশি হলে বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে বেশি আয় পাওয়া যায় এবং নগদ অর্থ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেশি থাকে; ফলে মানুষ ফটকা উদ্দেশ্যে নগদ অর্থ কম ধরে রাখে। অপরদিকে, সুদের হার হ্রাস পেলে নগদ অর্থ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় কমে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশায় মানুষ হাতে অধিক পরিমাণ তরল বা নগদ অর্থ ধরে রাখে। তাই সুদের হার হ্রাস পেলে অর্থের ফটকা চাহিদা বৃদ্ধি পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে অর্থের মূল্য () এবং দামস্তরের () মধ্যে বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক সম্পর্ক প্রকাশ পেয়েছে।
অর্থের মূল্য বলতে অর্থ দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করা যায় তার ক্রয়ক্ষমতাকে বোঝায়। দামস্তর () এবং অর্থের মূল্য ()-এর সম্পর্কটি হলো: বা । অর্থাৎ, দামস্তর বাড়লে অর্থের মূল্য হ্রাস পায় এবং দামস্তর কমলে অর্থের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে দামস্তর () এবং লম্ব অক্ষে অর্থের মূল্য () নির্দেশ করা হয়েছে। চিত্রে দেখা যায়, প্রারম্ভে দামস্তর যখন কম অর্থাৎ , তখন অর্থের মূল্য বেশি অর্থাৎ (বিন্দু )। পরবর্তীতে সামগ্রিক দামস্তর বৃদ্ধি পেয়ে থেকে হলে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অর্থের মূল্য কমে থেকে হয় (বিন্দু )। এই ও বিন্দু সংযোগ করে প্রাপ্ত রেখাটি হলো অর্থের মূল্য রেখা [], যা বাম থেকে ডানে নিম্নগামী। সুতরাং, উদ্দীপকের চিত্রে দামস্তর এবং অর্থের মূল্যের মধ্যকার এই বিপরীতমুখী বা ঋণাত্মক সম্পর্কটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থের মূল্য থেকে হ্রাস পেয়ে হলে বাজার ব্যবস্থায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নিচে এ সম্পর্কিত প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি: চিত্রে দেখা যায়, অর্থের মূল্য থেকে কমে হলে দামস্তর থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি হয় এবং প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
২. স্থির আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান হ্রাস: অর্থ মূল্য কমে যাওয়ায় নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের মানুষ (যেমন: চাকুরিজীবী ও শ্রমিক শ্রেণি) পূর্বের আয়ে কম পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করতে পারে। ফলে তাদের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান হ্রাস পায়।
৩. ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের মুনাফা বৃদ্ধি: স্বল্পমেয়াদে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য বাড়ে, যা তাদের মুনাফার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাময়িকভাবে বিনিয়োগ ও উৎপাদন উৎসাহিত হতে পারে।
৪. ঋণগ্রহীতা ও ঋণদাতার ওপর প্রভাব: অর্থের মূল্য হ্রাস পেলে বা দামস্তর বাড়লে ঋণগ্রহীতারা লাভবান হয়, কারণ তারা অবমূল্যায়িত অর্থে ঋণ পরিশোধ করার সুযোগ পায়। অপরদিকে ঋণদাতারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৫. সঞ্চয়ের প্রবণতা হ্রাস ও বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা: নগদ অর্থের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে মানুষের ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের প্রবণতা কমে যায় এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অতএব, অর্থের মূল্য থেকে -এ হ্রাস পেলে বাজার ব্যবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয় বণ্টন বৈষম্য এবং সার্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব সৃষ্টি হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও