পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ইতিহাসের ক্লাসে শিক্ষক মি. “ক” বললেন, “১৮৮৫ থেকে ভারতে একটি রাজনৈতিক দল ছিল। তারপরও মুসলমানদের দাবিদাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ফলে নওয়াব সলিমুল্লাহসহ মুসলিম নেতারা বিংশ শতকের প্রারম্ভে একটি দল গঠন করেন।
- ক)(1)
বঙ্গভঙ্গ কত সালে হয়?
- খ)(2)
বঙ্গভঙ্গ রদের দুইটি কারণ লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শেষাংশে উল্লিখিত দলটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?
- ঘ)(4)
ভারতের রাজনীতিতে উক্ত দলের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ সালে হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বঙ্গভঙ্গ রদের দুটি প্রধান কারণ হলো:
১. তীব্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলন: বঙ্গভঙ্গের ফলে কংগ্রেস ও উচ্চবর্ণের হিন্দুরা এটি মানতে পারেনি এবং স্বদেশী আন্দোলন, বয়কট ও সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলে।
২. ব্রিটিশ সরকারের ভারতীয় রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রশমনের চেষ্টা: ক্রমবর্ধনশীল সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার ১৯১১ সালে বাধ্য হয়ে বঙ্গভঙ্গ রদ করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত দলটি হলো ১৯০৬ সালে গঠিত ‘সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ’। এ দল গঠনের মূল উদ্দেশ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতের মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা এবং সরকারের কোনো গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাদের মধ্যকার ভুল ধারণা দূর করা।
২. ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক ও অন্যান্য নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করা এবং তাদের দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বিনীতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা।
৩. উল্লেখিত উদ্দেশ্যসমূহ ব্যাহত না করে ভারতের অন্যান্য জাতি বা সম্প্রদায়ের প্রতি সদ্ভাব ও সম্প্রীতি বজায় রাখা। মূলত কংগ্রেসের হিন্দু প্রাধান্য এবং মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্বার্থ রক্ষার তাগিদ থেকেই এ দলের উদ্ভব হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতের রাজনীতিতে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ছিল।
১. মুসলমানদের পৃথক রাজনৈতিক সত্তা প্রতিষ্ঠা: কংগ্রেস প্রধানত হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করায় মুসলিম লীগ মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্বার্থ ও অধিকারের মুখপাত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
২. পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার স্বীকৃতি: মুসলিম লীগের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা স্বীকৃত হয়।
৩. রাজনৈতিক ঐক্য ও স্বায়ত্তশাসন: ১৯১৬ সালে ঐতিহাসিক 'লখনউ চুক্তি'র মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও যৌথভাবে রাজনৈতিক সংস্কারের পথ তৈরি হয়।
৪. লাহোর প্রস্তাব ও পাকিস্তান সৃষ্টি: পরবর্তীতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তোলে, যা চূড়ান্তভাবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পথ সুগম করে।
সুতরাং, ভারতের সামগ্রিক রাজনীতি ও মুসলমানদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মুসলিম লীগের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও