জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
Kranz Anatomy কী?
- খ)(2)
লিমিটিং ফ্যাক্টর বলতে কি বুঝ?
- গ)(3)
প্রক্রিয়া -২ এর আধুনিক মতবাদটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
প্রক্রিয়া ১ এবং প্রক্রিয়া ২ এর সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
C4 উদ্ভিদের পাতার ভাস্কুলার বান্ডলকে ঘিরে অরীয়ভাবে সজ্জিত এক বা একাধিক স্তরের বিশেষ ধরনের ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত বান্ডল শিথ কোষ এবং মেসোফিল কোষের বিশেষ বিন্যাসকে ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যখন একাধিক বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন যে প্রভাবকটি সবচেয়ে কম পরিমাণে বা নিম্নমাত্রায় উপস্থিত থেকে সামগ্রিক প্রক্রিয়ার গতি বা হার নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধ করে, তাকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (সীমাবদ্ধকারী প্রভাবক) বলে। ১৯০৫ সালে এফ. এফ. ব্ল্যাকম্যান তাঁর 'ল অব লিমিটিং ফ্যাক্টরস' (Law of Limiting Factors)-এ এই ধারণার প্রবর্তন করেন। যেমন— সালোকসংশ্লেষণের জন্য আলো, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা তাপমাত্রা অনুকূল না থাকলে তা প্রক্রিয়াটিকে ধীর বা সীমিত করে দেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া-২ হলো সক্রিয় পরিশোষণ প্রক্রিয়া, কারণ এতে বাহক প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি (ATP) ব্যবহৃত হচ্ছে।
সক্রিয় পরিশোষণের আধুনিক ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদটি হলো পিটার মিশেল (Peter Mitchell, 1961) প্রস্তাবিত কেমিওসমোটিক মডেল (Chemiosmotic model) বা প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদ।
মতবাদটির মূল বক্তব্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. প্রোটন পাম্প সৃষ্টি: কোষঝিল্লিতে অবস্থিত এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন বাহক (ATPase বা প্রোটন পাম্প) ATP ভেঙে উৎপন্ন শক্তির সাহায্যে কোষের ভিতর থেকে H⁺ আয়ন (প্রোটন) বাইরে পাম্প করে বের করে দেয়।
২. প্রোটন মোটিভ ফোর্স গঠন: এর ফলে কোষঝিল্লির বাইরের পৃষ্ঠে প্রোটনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং একটি তড়িৎ-রাসায়নিক বিভব বা প্রোটন গ্র্যাডিয়েন্ট (Proton motive force) সৃষ্টি হয়।
৩. ক্যাটায়ন প্রবেশ: ঝিল্লির ভিতরের ঋণাত্মক চার্জের আকর্ষণে এবং ঘনত্বের নতি অনুসারে পটাসিয়াম (K⁺) বা অন্য ক্যাটায়ন নির্দিষ্ট চ্যানেল বা ইউনিপোর্ট দিয়ে সহজেই কোষের ভিতরে প্রবেশ করে।
৪. অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট: বাইরে অতিরিক্ত জমে থাকা H⁺ আয়ন যখন ঘনত্বের নতি অনুসারে পুনরায় কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন তা একা প্রবেশ না করে সিমপোর্ট (Symport) প্রক্রিয়ায় ক্লোরাইড (Cl⁻) বা অন্য অ্যানায়নকে সাথে নিয়ে একই সাথে কোষে প্রবেশ করে।এভাবে বিপাকীয় শক্তি ব্যবহার করে তৈরি প্রোটন নতিমাত্রার ওপর ভিত্তি করে সক্রিয় আয়ন পরিশোষণ সম্পন্ন হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রানুসারে 'প্রক্রিয়া-১' হলো নিষ্ক্রিয় লবণ পরিশোষণ (Passive absorption) এবং 'প্রক্রিয়া-২' হলো সক্রিয় লবণ পরিশোষণ (Active absorption)। নিচে এদের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বিশ্লেষণ করা হলো:
সাদৃশ্য:
১. উভয় প্রক্রিয়াই উদ্ভিদের মূলরোমের মাধ্যমে মাটিস্থ দ্রবণ থেকে খনিজ লবণ বা আয়ন (ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন) পরিশোষণ নিশ্চিত করে।
২. উভয় প্রক্রিয়াই কোষের প্লাজমামেমব্রেন বা প্লাজমালেমা অতিক্রম করে সম্পন্ন হয়।
৩. উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য উভয় প্রক্রিয়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পরিপূরক ভূমিকা পালন করে।বৈসাদৃশ্য:
১. শক্তির ব্যবহার: প্রক্রিয়া-১ এ কোনো বিপাকীয় শক্তি (ATP) সরাসরি খরচ হয় না; কিন্তু প্রক্রিয়া-২ এ আয়ন পরিবহনের জন্য সরাসরি ATP ভেঙে উৎপন্ন বিপাকীয় শক্তি প্রয়োজন হয়।
২. বাহকের প্রয়োজনীয়তা: প্রক্রিয়া-১ এ সাধারণত কোনো বাহক অণু বা আয়ন বাহকের প্রয়োজন পড়ে না; প্রক্রিয়া-২ এ প্লাজমামেমব্রেনের নির্দিষ্ট প্রোটিন বাহক অপরিহার্য।
৩. ঘনত্বের নতিমাত্রা: প্রক্রিয়া-১ আয়নসমূহের উচ্চ ঘনত্ব হতে নিম্ন ঘনত্বের দিকে ব্যাপন নতির অনুকূলে ঘটে; অপরপক্ষে প্রক্রিয়া-২ সাধারণত ঘনত্বের নতিমাত্রার বিপরীতে বা উল্টো দিকেও আয়ন পরিবহন ঘটাতে পারে।
৪. শ্বসন হার ও অক্সিজেনের প্রভাব: প্রক্রিয়া-১ এ শ্বসনের হার স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায় না এবং অক্সিজেনের ঘাটতি সরাসরি তেমন প্রভাব ফেলে না; তবে প্রক্রিয়া-২ সরাসরি কোষীয় শ্বসনের সাথে জড়িত থাকায় এ প্রক্রিয়ায় শ্বসন হার বৃদ্ধি পায় এবং অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে পরিশোষণ বাধাগ্রস্ত হয়।
৫. এনজাইমের ভূমিকা: প্রক্রিয়া-১ এ এনজাইমের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই; কিন্তু প্রক্রিয়া-২ এ ATPase, সাইটোক্রোম বা ডিহাইড্রোজিনেজের মতো বিভিন্ন এনজাইম প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।সুতরাং, গঠনগত মেকানিজম ও শক্তি ব্যবহারের দিক থেকে প্রক্রিয়া-১ ও প্রক্রিয়া-২ সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও উদ্ভিদের সামগ্রিক পুষ্টি শোষণে উভয় প্রক্রিয়াই কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও