যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

মিথিলা এবং তার মা, বাবা সকলেই একদিন পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়। তাদের জিজ্ঞাসা করে জানা গেল যে, আগের রাত্রে মিথিলা ভাত, মাছ, মাংস ও ডাল খেয়েছে। মিথিলার মা ভাত, সবজি, ডিম এবং মাংস খেয়েছেন। মিথিলার বাবা রুটি, কলা, মাংস এবং সবজি খেয়েছেন।

  1. ক)

    পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলো কী কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যতিরেকী পদ্ধতিকে পরীক্ষণের পদ্ধতি বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পরীক্ষণমূলক যে পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে সেটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পদ্ধতিটির সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিল কর্তৃক প্রবর্তিত পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলো হলো পাঁচটি: অন্বয়ী পদ্ধতি, ব্যতিরেকী পদ্ধতি, যৌথ অন্বয়ী-ব্যতিরেকী পদ্ধতি, সহপরিবর্তন পদ্ধতি এবং পরিশেষ পদ্ধতি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যতিরেকী পদ্ধতিতে এমন দুটি দৃষ্টান্তের তুলনা করতে হয় যার একটিতে আলোচ্য ঘটনা উপস্থিত থাকে এবং অন্যটিতে অনুপস্থিত থাকে, যেখানে অন্য সকল পারিপার্শ্বিক অবস্থা অপরিবর্তিত রাখা আবশ্যক। কেবল পরীক্ষাগারে নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশেই এমন হুবহু সদৃশ দুটি অবস্থার সৃষ্টি করা সম্ভব, নিরীক্ষণে প্রকৃতির ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। পরীক্ষণেই ব্যতিরেকী পদ্ধতির সার্থক প্রয়োগ সম্ভব বলে যুক্তিবিদ মিল একে 'পরীক্ষণের পদ্ধতি' বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মিলের পরীক্ষণমূলক পদ্ধতির 'অন্বয়ী পদ্ধতি' (Method of Agreement)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    অন্বয়ী পদ্ধতির মূল সূত্র হলো: যদি পর্যালোচিত দুই বা ততোধিক দৃষ্টান্তের মধ্যে কেবল একটিমাত্র বিষয়ে মিল বা ঐক্য থাকে, তবে যে বিষয়ে দৃষ্টান্তগুলোর মিল রয়েছে সেটিই আলোচ্য ঘটনার কারণ বা কার্য হবে।
    উদ্দীপকে দেখা যায় মিথিলা, তার মা এবং বাবার খাদ্যাভ্যাসে অন্যান্য খাবারের ভিন্নতা থাকলেও কেবল 'মাংস' খাওয়ার দিকটি সবার মধ্যেই সাধারণ বা অভিন্ন হিসেবে বিদ্যমান। যেহেতু সবার পেটের পীড়া হয়েছে এবং সবার গ্রহণের মধ্যে সাধারণ উপাদান কেবল মাংস, তাই অন্বয়ী পদ্ধতি অনুযায়ী মাংস খাওয়াই এই পেটের পীড়ার কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পদ্ধতিটি হলো 'অন্বয়ী পদ্ধতি'। এর সুবিধাগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সহজ ও ব্যাপক প্রয়োগক্ষেত্র: অন্বয়ী পদ্ধতি মূলত নিরীক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতির উন্মুক্ত পরিবেশ থেকে সহজেই বিভিন্ন দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়, ফলে এর প্রয়োগক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত।
    ২. কারণ ও কার্য উভয় দিক থেকেই প্রয়োগযোগ্য: এ পদ্ধতিতে কারণ থেকে কার্যে এবং কার্য থেকে কারণে উভয় দিকেই অনুসন্ধান চালানো যায়। যেমন উদ্দীপকে অসুস্থতা (কার্য) থেকে পেছনের সাধারণ কারণ (মাংস) চিহ্নিত করা হয়েছে।
    ৩. প্রাক-কল্পনা গঠনের সহায়ক: বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কোনো জটিল ঘটনার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক অনুমান বা প্রকল্প গঠনে অন্বয়ী পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
    ৪. পরীক্ষণের অনুপযোগী ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: যেখানে কৃত্রিমভাবে ঘটনা সৃষ্টি বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় (যেমন আবহাওয়া, রোগব্যাধি), সেখানে নিরীক্ষণের মাধ্যমে অন্বয়ী পদ্ধতি কাজে লাগানো যায়।

    সুতরাং, সীমিত সুযোগের মধ্যেও সম্ভাব্য কারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অন্বয়ী পদ্ধতি একটি অত্যন্ত উপযোগী ও কার্যকর আরোহ পদ্ধতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন