বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
11.
(ক) নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা করো।অথবা,(খ) প্রদত্ত উদ্দীপক অনুসারে 'রক্তদানের পুণ্য' শীর্ষক একটি খুদেগল্প রচনা করো:মহান শহিদ দিবসে শহিদ মিনারের পাদদেশে রক্তদান কর্মসূচি চলছে। শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে ডা. জাওয়াদ সেখানে উপস্থিত হলেন ......
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) নারী শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে দুই বন্ধুর সংলাপ:
স্থান: কলেজের প্রাঙ্গণ
চরিত্র: রাফি ও সজল
রাফি: কেমন আছিস সজল? কী ভাবছিস এমন গম্ভীর হয়ে?
সজল: ভালো আছি রাফি। ভাবছি আমাদের সমাজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে—নারী শিক্ষা।
রাফি: সত্যিই, এটি খুবই প্রাসঙ্গিক বিষয়। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। তাদের পিছিয়ে রেখে কোনো জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
সজল: একদম ঠিক বলেছিস। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট যথার্থই বলেছিলেন, 'আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।' একজন শিক্ষিত মা-ই পারেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে।
রাফি: শুধু পারিবারিক জীবনেই নয়, অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যও নারীর শিক্ষা অপরিহার্য। শিক্ষিত নারী তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পারে এবং সমাজের কুসংস্কার ও নির্যাতন প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
সজল: ঠিক। আজ সরকারি ও বেসরকারি নানা পদক্ষেপে নারীরা এগিয়ে আসছে, কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে এখনও অনেক মেয়ে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।
রাফি: এজন্য আমাদের সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে। বাল্যবিয়ে রোধ করে প্রতিটি কন্যাসন্তানের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে হবে।
সজল: যথার্থ বলেছিস। নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বিষয়টি নিয়ে দারুণ আলোচনা হলো।
রাফি: তোমাকেও ধন্যবাদ সজল। চলো, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।
অথবা,
(খ) খুদেগল্প:
রক্তদানের পুণ্য
মহান শহিদ দিবসে শহিদ মিনারের পাদদেশে রক্তদান কর্মসূচি চলছে। শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে ডা. জাওয়াদ সেখানে উপস্থিত হলেন। প্রভাতফেরির সুর তখনও বাতাসে ভাসছে। বেদিতে ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের 'রক্ত দিন, জীবন বাঁচান' স্লোগান শুনে ডা. জাওয়াদ রক্তদান ক্যাম্পটির সামনে থামলেন।
চিকিৎসক হিসেবে তিনি প্রতিদিন হাসপাতালে রক্তের জন্য স্বজনদের হাহাকার দেখেন। এক ব্যাগ রক্তের অভাবে কত তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে যায়, তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তিনি ক্যাম্পের ভেতরে গিয়ে বললেন, "আমিও রক্ত দিতে চাই।"
স্বেচ্ছাসেবকরা অত্যন্ত সম্মান ও আগ্রহের সাথে তাঁর রক্ত সংগ্রহ করলেন। রক্ত দেওয়া শেষে ডা. জাওয়াদ যখন ক্যাম্প থেকে বের হচ্ছেন, ঠিক তখনই সেখানে একজন অসহায় পিতা কাঁদতে কাঁদতে প্রবেশ করলেন। তাঁর থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত একমাত্র মেয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে 'ও পজিটিভ' রক্তের খুব প্রয়োজন, কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না। ডা. জাওয়াদ মুচকি হেসে বললেন, "চাচা, আপনি শান্ত হোন। এইমাত্র আমি যে রক্ত দিয়েছি, তা ও পজিটিভ। আপনার মেয়ের জন্যই হয়তো আজ আমার এখানে আসা।"
উপস্থিত সবাই মুহূর্তের মধ্যে আশ্বস্ত হলো এবং দ্রুত রক্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো। রক্ত পেয়ে বৃদ্ধ পিতার চোখে তখন কৃতজ্ঞতার আনন্দাশ্রু। শহিদদের আত্মত্যাগের দিনে অন্য একজনের জীবন বাঁচানোর এই সুযোগ পেয়ে ডা. জাওয়াদের বুক এক অনাবিল আত্মতৃপ্তি ও পুণ্যের অনুভবে ভরে উঠল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও