অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার তাদের দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যার মধ্যে ঘাটতি ব্যয়, উন্নয়ন কাজের জন্য অতিরিক্ত অর্থ যোগান বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য অগ্রগণ্য। এ ছাড়াও দেশের মানবসম্পদ রপ্তানি আয় অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি করে। ফলে দেশের বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর পর্যাপ্ত যোগান থাকলেও দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন সীমিত আয় এবং নিম্নবিত্ত মানুষের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে ক্রয়ক্ষমতা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে।

  1. ক)

    মুদ্রাস্ফীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে কি? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে মুদ্রাস্ফীতির কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিতে যখন সামগ্রিক চাহিদা সামগ্রিক যোগানের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে সাধারণ দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং অর্থের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, তখন সেই অবস্থাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে। সরকার যখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অনুৎপাদনশীল খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে, তখন বাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জনগণের হাতে অর্থ বা আয় বাড়ার কারণে সামগ্রিক চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সেই অনুপাতে সামগ্রিক উৎপাদন বা যোগান বাড়ানো সম্ভব না হলে অতিরিক্ত চাহিদার চাপে দ্রব্যমূল্য বেড়ে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টির পেছনে মূলত অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত চাহিদাজনিত কারণসমূহ দায়ী। কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. ঘাটতি ব্যয় ও অতিরিক্ত অর্থ সংস্থান: সরকার দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অতিরিক্ত মুদ্রা ছাপানো বা ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থ যোগান দেওয়ায় বাজারে মুদ্রার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
    ২. বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য: দেশে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় দেশে সামগ্রিক ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয়যোগ্য অর্থের পরিমাণ বাড়ে।
    ৩. রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ: মানবসম্পদ রপ্তানি থেকে অর্জিত রেমিট্যান্স সরাসরি জনগণের হাতে পৌঁছায়, যা তাদের ব্যয়ক্ষমতা ও ভোগের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে।

    অর্থের যোগান অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক চাহিদা যোগানের তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে যায়, যার ফলে বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত আর্থিক নীতি, রাজস্ব নীতি এবং প্রত্যক্ষ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিম্নলিখিত উপায়গুলো কার্যকর:

    ১. আর্থিক নীতি (Monetary Policy):

    • ব্যাংক হার বৃদ্ধি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক হার বৃদ্ধি করলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার বাড়ে, ফলে ঋণ গ্রহণ কমে এবং বাজারে মুদ্রার যোগান হ্রাস পায়।
    • খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয়: খোলা বাজারে সিকিউরিটিজ বা ট্রেজারি বিল বিক্রি করে জনগণের অতিরিক্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তুলে নেয়।
    • জমার অনুপাত বৃদ্ধি: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ নগদ জমার অনুপাত (CRR ও SLR) বৃদ্ধি করে ঋণদান ক্ষমতা সংকুচিত করা।

    ২. রাজস্ব নীতি (Fiscal Policy):

    • সরকারি ব্যয় হ্রাস: অনুৎপাদনশীল খাতে সরকারের ব্যয় হ্রাস ও ঘাটতি অর্থায়ন সীমিত করা।
    • করের হার বৃদ্ধি: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর বাড়িয়ে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় কমিয়ে সামগ্রিক চাহিদা কমানো।

    ৩. প্রত্যক্ষ ও উৎপাদনমূলক ব্যবস্থা:

    • বাজার মনিটরিং এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।
    • দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ও শিল্পে উৎপাদন বাড়িয়ে সামগ্রিক যোগান বৃদ্ধি করা।

    সুতরাং, উল্লিখিত সংকোচনমূলক আর্থিক ও রাজস্ব নীতির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমিয়ে কার্যকরভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন