যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দ্বাদশ শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষায় যুক্তিবিদ্যার একটি প্রশ্নে 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা লিখতে বলা হয়। পরীক্ষার উত্তরপত্রে মামুন, সুমন ও রাশেদ নিম্নের তিনটি উত্তর লিখল।মামুন: "মানুষ হলো জীব।”সুমন: “মানুষ হলো মনুষ্যজাতীয় জীব।"রাশেদ: "মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সভ্য জীব।"

  1. ক)

    সংজ্ঞা কী?

    (1)
  2. খ)

    সব পদের যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা যায় না কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুমন প্রদত্ত সংজ্ঞায় কোন ধরনের অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মামুন ও রাশেদ প্রদত্ত সংজ্ঞায় পাঠ্যপুস্তকের যে দুটি বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো পদের সম্পূর্ণ জাত্যর্থের সুস্পষ্ট ও সুস্পষ্টতম প্রকাশকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সব পদের যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদান করা যায় না, কারণ সংজ্ঞা দিতে হলে সংশ্লিষ্ট পদের আসন্নতম জাতি (proximate genus) এবং লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ (differentia) উল্লেখ করতে হয়। কিন্তু বিশিষ্ট নামবাচক পদ, গুণবাচক পদ বা পরতম জাতির কোনো আসন্নতম জাতি বা বিভেদক লক্ষণ থাকে না। যেমন- পরম সত্তা বা দ্রব্য হলো পরতম জাতি, যার ঊর্ধ্বে কোনো জাতি নেই। ফলে এদের যৌক্তিক সংজ্ঞা দেওয়া অসম্ভব।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমন প্রদত্ত সংজ্ঞায় 'চক্রক সংজ্ঞা' (Circular definition) জনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো: যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে, সেই পদ বা তার কোনো প্রতিশব্দ বা সমার্থক শব্দ সংজ্ঞায় ব্যবহার করা যাবে না। এই নিয়ম লঙ্ঘন করে সংজ্ঞেয় পদের প্রতিশব্দ বা রূপান্তর ব্যবহার করলে 'চক্রক অনুপপত্তি' দেখা দেয়।

    উদ্দীপকে সুমন 'মানুষ' পদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছে—"মানুষ হলো মনুষ্যজাতীয় জীব।" এখানে 'মানুষ' পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য ঘুরিয়ে তারই সমার্থক শব্দ 'মনুষ্যজাতীয়' ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে পদের অর্থ নতুন বা স্পষ্ট হয়নি, বরং চক্রের আবর্তন ঘটেছে। অতএব, সুমনের সংজ্ঞায় চক্রক অনুপপত্তি ঘটেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মামুন ও রাশেদ প্রদত্ত সংজ্ঞায় যথাক্রমে 'অব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি/অতিসংকীর্ণ নয় বরং অব্যাপক বা অতিসংক্ষিপ্ত রূপ' এবং 'অনাবশ্যক বা বাহুল্য সংজ্ঞা অনুপপত্তি' সংক্রান্ত বিষয়ের ইঙ্গিত রয়েছে।

    যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পদের সংজ্ঞায় তার সম্পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখ করতে হবে; জাত্যর্থের চেয়ে কম বা বেশি গুণ উল্লেখ করা যাবে না।

    ১. মামুনের বক্তব্য: মামুন বলেছে, "মানুষ হলো জীব।" এখানে সে মানুষ পদের মূল বিভেদক লক্ষণ 'বুদ্ধিবৃত্তি' উল্লেখ করেনি, কেবল আসন্নতম জাতি 'জীব' উল্লেখ করেছে। জাত্যর্থের চেয়ে কম গুণ উল্লেখ করায় সংজ্ঞার্থ সংজ্ঞেয় পদ অপেক্ষা বেশি ব্যক্ত্যর্থ বিশিষ্ট হয়ে পড়েছে, যাকে যুক্তিবিদ্যায় 'অতিব্যাপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' (Too broad definition) বলা হয়। ফলে মামুনের সংজ্ঞায় অতিব্যাপক অনুপপত্তির ইঙ্গিত রয়েছে।

    ২. রাশেদের বক্তব্য: রাশেদ বলেছে, "মানুষ হলো বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন সভ্য জীব।" এখানে মূল জাত্যর্থ (জীববৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি)-র সাথে অতিরিক্ত হিসেবে 'সভ্য' গুণটি যোগ করা হয়েছে। 'সভ্যতা' কোনো জাত্যর্থ নয়, বরং একটি উপাধি বা পরিবর্তনশীল গুণ। জাত্যর্থের অতিরিক্ত কোনো গুণ যোগ করার কারণে সংজ্ঞার ব্যক্ত্যর্থ কমে গেছে বা সংকীর্ণ হয়েছে, ফলে এখানে 'অব্যাপক বা বাহুল্যজনিত অনুপপত্তি' (বা অতিসংকীর্ণ সংজ্ঞা অনুপপত্তি) ঘটেছে।

    সুতরাং, মামুন ও রাশেদের সংজ্ঞায় যৌক্তিক সংজ্ঞার প্রথম নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট যথাক্রমে অতিব্যাপক ও বাহুল্য/অব্যাপক অনুপপত্তির বিষয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন