‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' নামক রাষ্ট্রের একজন জনপ্রিয় নেতা জনগণের ন্যায দাবী-দাওয়া ও স্বাধিকার চাওয়ার শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে শাসকগোষ্ঠী উত্তর জনপ্রিয় নেতাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তি লাভের মাত্র এক বছরের পর উক্ত নেতার রাজনৈতিক দল জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। উক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে 'ক' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চলের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়।

  1. ক)

    কোন আইন এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মামলার সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন মামলার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের মতো তোমার পাঠ্য বইয়ের পঠিত নির্বাচনটি তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের (Indian Independence Act 1947) মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল—ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম একাধিক রাষ্ট্র গঠন করা এবং এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মামলার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক 'আগরতলা মামলা' বা 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' মামলার সাদৃশ্য রয়েছে।

    তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলন ও বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাঁকে ও অন্য বাঙালি সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ফাঁসাতে একটি ষড়যন্ত্রমূলক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করে। এই মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অখণ্ডতা বিনষ্টের মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণ ১৯৬৯ সালে তীব্র গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলে, যার মুখে আইয়ুব খান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী জনগণের ন্যায্য দাবি তোলায় জনপ্রিয় নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে এবং তীব্র গণআন্দোলনের মুখে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। এই প্রেক্ষাপটটি পাঠ্যবইয়ের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ঘটনার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচনের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ সুগম করেছিল। নিচে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বিজয়: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর মাধ্যমে দ্বিজাতিতত্ত্বের কবর রচিত হয় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত জয় সূচিত হয়।

    ২. ছয় দফার প্রতি গণরায়: এ নির্বাচন মূলত ছিল ছয় দফা ও এগারো দফার পক্ষে এক গণভোট। জনগণের বিপুল সমর্থনে প্রমাণিত হয় যে, বাঙালি জনগণ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার চায়।

    ৩. বাঙালিদের ঐক্য ও বৈধ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা: নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র পাকিস্তানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত মুখপাত্র হিসেবে বৈধতা লাভ করেন।

    ৪. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও স্বাধীনতা অর্জন: নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যা চালায়। এর ফলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।

    সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে নির্দেশিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনটি ছিল একটি অঞ্চলের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান/বাংলাদেশ) স্বাধীনতা অর্জনের প্রধান সোপান ও টার্নিং পয়েন্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন