পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বঙ্গভঙ্গ রদ এবং নেহেরু রিপোর্ট প্রকাশিত হলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ হতাশ হয়ে পড়েন। ১৯৩৭ সালের নির্বাচন এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্ব ঘোষণা হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয়। ফলে মুসলমান নেতৃবৃন্দ মনে করেন, তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রয়োজন । মুসলমান নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে একজন মহান নেতা এ লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। উক্ত প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।
- ক)(1)
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- খ)(2)
'লাহোর প্রস্তাবের ভীতি দ্বিজাতি তত্ত্ব' ব্যাখ্যা কর?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে তার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, উক্ত প্রস্তাবের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি দ্বিজাতিতত্ত্ব' বলতে বোঝায়—মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রস্তাবিত দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই লাহোর প্রস্তাব রচিত হয়েছিল।
দ্বিজাতিতত্ত্ব অনুসারে ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি; তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজদর্শন সম্পূর্ণ আলাদা। লাহোর প্রস্তাবে এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি বা স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'।
লাহোর প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. ভৌগোলিক অবস্থান সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো পৃথক করা যায়।
২. ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করতে হবে।
৩. এসব রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত ইউনিটগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
৪. প্রস্তাবিত অঞ্চলসমূহের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার রক্ষার জন্য শাসনতন্ত্রে কার্যকর ও পর্যাপ্ত সাংবিধানিক সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল। নিম্নে উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
১. 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' প্রত্যয়: ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন, যেখানে মূল বক্তব্যে ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে বহুবচনে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের কথা বলা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চল বলতে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা ও আসামের অঞ্চল বোঝানো হয়েছিল, যা পৃথক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
২. দিল্লির সম্মেলনে পরিবর্তন: পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগের দিল্লি কনভেনশনে জিন্নাহ চাতুর্যের সাথে মূল প্রস্তাবের 'States' শব্দটির স্থলে টাইপিং ভুলের অজুহাত তুলে একবচনে 'State' (একক পাকিস্তান রাষ্ট্র) পরিবর্তন করেন। এটি বাঙালি নেতৃবৃন্দের সাথে একটি স্পষ্ট প্রতারণা ছিল।
৩. বাঙালিদের মধ্যে স্বাধিকার চেতনার বিকাশ: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই বাঙালিরা বুঝতে পারে যে তারা নতুন এক ঔপনিবেশিক শাসনের শিকার হয়েছে। এর ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতৃবৃন্দ ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মূল চেতনায় ফিরে যাওয়ার দাবি তোলেন এবং স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন শুরু করেন।
৪. স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি: এই ঐতিহাসিক স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবির ধারাবাহিকতাই ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশের রূপ পরিগ্রহ করে।অতএব, লাহোর প্রস্তাবের 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' ধারণার মাঝেই কার্যত ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও