সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
সহপাঠ প্রশ্ন
জব্বার আলি একদিন স্বপ্নে খুঁজে পায় এক কামেল পীরের মাজার। বন-জঙ্গল ঘেরা ‘বাঘের মাঠ’ খ্যাত সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রাম। এই গ্রামেই শায়িত আছেন এক কামেল পীর। স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের ভিতর। স্থানীয় জনগণ খুঁজে পায় এক প্রাচীন পরিত্যক্ত মাজার। জঙ্গল পরিষ্কার করে রাতারাতি সেখানে টিনের ছাউনি ওঠে। চাঁদা তোলা হয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে। পরিপাটি ও সুসজ্জিত হয় মাজার। এখানে বিভিন্ন লোক রোগ-শোকের জন্য মানত করতে আসে। এমনকি বন্ধ্যা নারীরাও ছুটে আসে সন্তান লাভের আশায়। এখানে প্রতি বছর এখন মেলা বসে। বর্তমানে মাজারের খাদেম জব্বার আলি।
- ক)(1)
মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম কী?
- খ)(2)
“মনে হয় এটা খোদা তা’লার বিশেষ দেশ।”কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের সঙ্গে ‘লালসালু’ উপন্যাসের মহব্বতনগরের সাদৃশ্যবর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ‘কামেল পীরের মাজার’ ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের ‘মোদাচ্ছেরপীরের মাজার’ এক এবং অভিন্ন।”তোমার মতামতসহ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম জমিলা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শস্যহীন অঞ্চলের অভাবগ্রস্ত মানুষদের খোদার চেয়ে পেটের চিন্তায় বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখে উক্তিটি করা হয়েছে।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, পাহাড়ি বা খরাকবলিত অঞ্চলের জমি পাথুরে এবং অনুর্বর। সেখানে মানুষের পেটে ভাত নেই, জীবনধারণ চরম কষ্টকর। অথচ মানুষগুলো কেবল ধর্মচর্চা ও খোদার নাম নিয়ে সময় কাটায়। বাস্তব জীবনের রুটি-রুজির চেয়ে অন্ধ পরকাল-ভাবনায় তাদের নিমজ্জিত থাকা দেখে উপন্যাসের বর্ণনায় ব্যঙ্গাত্মকভাবে এ কথা বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামের অন্ধবিশ্বাস, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং সহজ-সরল মানুষের ধর্মীয় আবেগের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের মহব্বতনগর গ্রামটি ছিল অজ্ঞতা ও কুসংস্কারে আচ্ছন্ন একটি জনপদ। সেই সুযোগ নিয়ে চতুর মজিদ একটি প্রাচীন বেওয়ারিশ কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে প্রচার করে। মহব্বতনগরের মানুষ ভীতি ও অন্ধবিশ্বাসে তা গ্রহণ করে এবং সেই মাজারকে কেন্দ্র করে ভক্তি, মানত ও নজর-নেওয়াজ দিতে শুরু করে।
উদ্দীপকের সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামটিও বন-জঙ্গলে ঘেরা একটি পিছিয়ে পড়া গ্রাম। সেখানেও জব্বার আলির স্বপ্নের কথা শুনে গ্রামবাসী একটি প্রাচীন পরিত্যক্ত মাজারকে সত্য বলে বিশ্বাস করে নেয় এবং রাতারাতি চাঁদা তুলে তা সাজিয়ে তোলে। রোগ-শোক ও বন্ধ্যাত্ব মুক্তির আশায় মানুষ সেখানে ছুটে আসে। এভাবে অসচেতনতা, মাজারকেন্দ্রিক অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মভীরুতার প্রেক্ষাপটে উভয় গ্রামের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যে চমৎকার সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দেশ্য, পটভূমি ও ধর্মের অপব্যবহারে শোষণের স্বরূপ বিবেচনায় “উদ্দীপকের ‘কামেল পীরের মাজার’ ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ এক এবং অভিন্ন”—মন্তব্যটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ তার ব্যক্তিগত অস্তিত্ব রক্ষা ও প্রভাব প্রতিপত্তি কায়েমের লক্ষ্যে এক অজ্ঞাত ও পরিত্যক্ত কবরকে 'মুদাব্বির' বা 'মোদাচ্ছের' পীরের মাজার বলে ঘোষণা করে। মাজারকে লাল সালু কাপড়ে ঢেকে দিয়ে সে ধর্মভীরু গ্রামবাসীদের অন্তরে ধর্মীয় ভীতির সঞ্চার করে। এভাবে মাজারটি হয়ে ওঠে মজিদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। সাধারণ মানুষ রোগ-বালাই ও কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে সেখানে মানত করতে বাধ্য হয়।
উদ্দীপকের জব্বার আলিও একইভাবে স্বপ্নের ভান করে বা ধর্মীয় মিথ্যা প্রচারণার আশ্রয় নিয়ে এক পরিত্যক্ত মাজারকে 'কামেল পীরের মাজার' হিসেবে রূপ দান করে। সেখানে সে সুসজ্জিত কাঠামো তৈরি করে এবং মানুষের দুর্বলতা—রোগ-শোক নিরাময় ও বন্ধ্যা নারীদের সন্তান লাভের আশাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপত্তি ও অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করে। বর্তমানে জব্বার আলি নিজেই সেটার খাদেম হয়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
সুতরাং, দুটি মাজারই প্রকৃত অর্থে ধর্মীয় ভক্তির নিদর্শন নয়; বরং উভয় মাজারই তৈরি হয়েছে ভণ্ডামী, ধর্মীয় মিথ্যাচার এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় সরলতাকে পুঁজি করে ব্যক্তিস্বার্থ ও আধিপত্য চরিতার্থ করার অভিন্ন উদ্দেশ্যে। তাই ভাবগত ও প্রায়োগিক দিক থেকে মাজার দুটি প্রকৃতপক্ষে এক ও অভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও