বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখদুপুর বেলার অক্ত বৃষ্টি ঝরে, বৃষ্টি কোথায়বরকতেরই রক্ত।"
- ক)(1)
শহরের পথে থরে থরে কী ফুটেছে?
- খ)(2)
'সালামের মুখে আজ তরুণ শ্যামল পূর্ববাংলা।'-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকটিতে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কোন প্রসঙ্গটি প্রকাশ পেয়েছে?-আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।" উক্তিটির পক্ষে তোমার যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শহরের পথে থরে থরে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া ফুল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোদ্ধৃত চরণটির মাধ্যমে ভাষা শহীদ সালামের মুখে বা তাঁর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সমগ্র পূর্ববাংলার অস্তিত্ব, সৌন্দর্য ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে— তা বোঝানো হয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রত্যক্ষ করেছেন। সালাম যে মাতৃভাষার জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাঁর সেই রক্তের বিনিময়েই যেন শ্যামল পূর্ববাংলা স্বাধিকারের দীপ্তি লাভ করেছে। সালামের সাহসী উচ্চারণে ও আত্মত্যাগে গোটা পূর্ববাংলা ও তার ভবিষ্যৎ রূপটি প্রতিভাত হয় বলেই কবি এমন উক্তি করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটিতে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের রক্তঝরা প্রসঙ্গটি প্রকাশ পেয়েছে।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মাহুতির স্মৃতিকে ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের পটভূমিতে তুলে ধরেছেন। কবি দেখেছেন কৃষ্ণচূড়ার রক্তের রঙে শহীদ বরকত, সালাম প্রমুখের আত্মদান মিশে রয়েছে। তাঁদের ত্যাগেই বাঙালি জাতি বারবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তঝরা দুপুরের কথা বলা হয়েছে, যেখানে আকাশের বৃষ্টির রূপকে শহীদ বরকতের উষ্ণ রক্ত ঝরে পড়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাতেও বরকতের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়া এবং কৃষ্ণচূড়া ফুলের রঙের সাথে সেই রক্তের সাদৃশ্যের কথা বলা হয়েছে। ফলে বরকতের আত্মদান ও ভাষা আন্দোলনের রক্তাক্ত অধ্যায়ের প্রতিফলন উদ্দীপকটিতে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র"— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকের কবিতায় কেবল ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে বরকতের আত্মাহুতি ও রক্ত ঝরার করুণ দিকটিই প্রাধান্য পেয়েছে। সেখানে কেবল ভাষা শহীদদের আত্মদানের স্মৃতিচারণ রয়েছে।
পক্ষান্তরে, 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগকে ঊনসত্তরের আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থানের সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে। সেখানে কেবল বায়ান্নর শোক নয়, বরং সেই রক্তের শক্তিতে ১৯৬৯ সালে সমগ্র দেশবাসীর জেগে ওঠা, ঘাতকের গুলির মুখে রাজপথে নেমে আসা, কৃষ্ণচূড়া ফুলকে চেতনার প্রতীক হিসেবে দেখা এবং অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। কবিতায় সালাম, বরকত যেন আবারও একাকার হয়ে বর্তমানের সংগ্রামে প্রাণ সঞ্চার করেছেন।
অতএব, উদ্দীপকে শুধু বরকতের রক্তপাতের স্মৃতি বা বায়ান্নর আত্মত্যাগের দৃশ্য ফুটে উঠলেও 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার মূল সুর— যা মূলত গণজাগরণ, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান এবং সার্বিক মুক্তির সংগ্রাম— তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার একটি খণ্ডচিত্র মাত্র।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও