সাহিত্য পাঠ • আঠারো বছর বয়স • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহারই—যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে। তরুণ অরুণের মতোই যে তারুণ্য তিমির-বিদারী, সে যে আলোর দেবতা। রঙের খেলা খেলিতে খেলিতে তাহার উদয়, রঙ ছড়াইতে ছড়াইতে তাহার অস্ত । যৌবন-সূর্য যেথায় অস্তমিত, দুঃখের তিমির-কুন্তলা নিশীথিনীর সেই তো লীলাভূমি ।
- ক)(1)
‘আঠারো বছর বয়স' বিপদের মুখে কী?
- খ)(2)
“এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।” –কবির এ প্রত্যাশার কারণ ব্যাখ্যা কর ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য নির্দেশ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে কিনা তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘আঠারো বছর বয়স’ বিপদের মুখে অগ্রণী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবির প্রত্যাশা, এ দেশের যুবসমাজ যেন আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক ও অপরাজেয় শক্তিতে জাগ্রত হয়ে জাতীয় জীবনের সকল জড়তা ও অন্যায় দূর করে।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের প্রাণচাঞ্চল্য, সাহসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সংকল্প এবং আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরা হয়েছে। পরাধীনতা, শোষণ, সামাজিক অন্যায় ও স্থবিরতা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন নির্ভীক ও আত্মত্যাগী যৌবনের শক্তি। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নতি ও মুক্তির জন্য কবি সমগ্র জাতির জীবনে তারুণ্যের সেই উদ্যম ও ইতিবাচক শক্তির আগমন কামনা করে বলেছেন— “এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।”
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় বর্ণিত যৌবনের অপরাজেয় শক্তি, অসীম সাহস এবং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর দিশারি হওয়ার বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তরুণদের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার মতো এবং তারা মৃত্যুকে মুঠোর ভেতর রেখে তিমির বিদারী আলোর দেবতা হয়ে আবির্ভূত হয়। তারুণ্য রঙের খেলা খেলে অন্ধকারের বুক চিরে আলোর পথ তৈরি করে।
অনুরূপভাবে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাতেও বলা হয়েছে যে, এই বয়সে কোনো বাধা-বিপত্তির ভয় থাকে না। এ বয়স দুর্যোগ ও বিপদের মুখে নির্ভীকভাবে অগ্রসর হয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রক্ত শপথে লড়াই করে। কবিতায় তরুণদের অটল সাধনা এবং আত্মদানের মাধ্যমে জাতীয় জীবনের অন্ধকার ও জরা দূর করার যে আহ্বান প্রতিফলিত হয়েছে, উদ্দীপকের তারুণ্যের অমিত তেজ ও তিমির-বিদারী ভূমিকার সঙ্গে তা পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার মূল ইতিবাচক ভাবার্থ ফুটে উঠলেও সামগ্রিক ভাবার্থ পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
উদ্দীপকে তারুণ্যের অমিত তেজ, ঝঞ্ঝার মতো গতি, অসীম আশা, ক্লান্তিহীন উৎসাহ এবং তিমির-বিদারী আলোর দেবতার রূপটিই কেবল তুলে ধরা হয়েছে। এখানে কেবল যৌবনের বিজয়, তেজস্বিতা এবং উজ্জ্বল দিকটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক তেজ ও অদম্য সাহসের পাশাপাশি এ বয়সের তীব্র সংকট, ঝুঁকি, যন্ত্রণা এবং নেতিবাচক বিপদের দিকগুলোও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আঠারো বছর বয়সে পদে পদে দীর্ঘশ্বাস থাকে, থাকে তীব্র যন্ত্রণা, ভুল পথে পরিচালিত হওয়ার ঝুঁকি এবং দুর্যোগের আশঙ্কা। এ বয়সে যেমন রক্তদানের পুণ্য রয়েছে, তেমনই রয়েছে বহু তাজা প্রাণের অকালে আত্মাহুতির বেদনা।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে কবিতার কেবল ইতিবাচক ও তেজোদীপ্ত রূপটি উন্মোচিত হয়েছে; কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালের যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বেদনা, সংকট ও নেতিবাচক দিক কবিতায় চিত্রিত হয়েছে, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার ভাবার্থ আংশিক প্রতিফলিত হলেও তা পরিপূর্ণভাবে ফুটে ওঠেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও