উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন
কবির একজন সৎ জেলে। সে পদ্মার ইলিশ, মেঘনার ইলিশ ও চাঁদপুরের ইলিশ আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে রাখে। সে উক্ত ইলিশ মাছকে বড়, মধ্যম ও ছোট সাইজে ভাগ করে সরবরাহ করে। ন্যায্যমূল্যে চাহিদামতো পণ্য পেয়ে ক্রেতারা তৃপ্ত। ফলে কবিরের বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধি পায়। এ বছর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় মাছের দাম কম। মাছ সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কবির তার ব্যবসায় নিয়ে চিন্তিত।
- ক)(1)
মোড়কিকরণ কী?
- খ)(2)
প্রমিতকরণ ছাড়া পর্যায়িতকরণ সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কবির প্রথম পর্যায়ে বিপণনের কোন কাজটি সম্পাদন করে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
কবিরের চিন্তা হ্রাসে করণীয় কী? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পণ্যকে আকর্ষণীয় করা, বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা এবং সহজে বহনযোগ্য করার উদ্দেশ্যে উপযুক্ত পাত্র বা আবরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়াকে মোড়কীকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রমিতকরণ হলো পণ্যের গুণাগুণ, আকার, স্বাদ, ওজন ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করা; আর পর্যায়িতকরণ হলো নির্ধারিত মানের ভিত্তিতে পণ্যকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা। পণ্যের নির্দিষ্ট মান বা মানদণ্ড আগে নির্ধারণ করা না থাকলে পণ্যকে আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, প্রমিতকরণ ছাড়া পর্যায়িতকরণ সম্ভব নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কবির প্রথম পর্যায়ে বিপণনের 'প্রমিতকরণ' (Standardization) কাজটি সম্পাদন করেছেন।
পণ্যের আকার, ওজন, গুণাগুণ, উৎপাদনের স্থান ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে একটি নির্দিষ্ট মান নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে প্রমিতকরণ বলে। প্রমিতকরণের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত ও বস্তুগত মান সুনির্দিষ্ট করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবির পদ্মা, মেঘনা ও চাঁদপুরের ইলিশ আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে রেখেছেন। অর্থাৎ, তিনি মাছের উৎস ও অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে মান নির্ধারণ বা প্রমিতকরণ করেছেন। এর ফলেই পরবর্তীতে তিনি মাছগুলোকে বড়, মাঝারি ও ছোট আকারে ভাগ করতে সক্ষম হয়েছেন। অতএব, কবিরের প্রথম কাজটি প্রমিতকরণের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবিরের ব্যবসায়িক চিন্তা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ হলো বিপণনের 'গুদামজাতকরণ' বা উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
গুদামজাতকরণের মাধ্যমে পণ্যের কালগত বা সময়গত উপযোগ সৃষ্টি হয়। মৌসুমভিত্তিক বা পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত সময়ে কম দামে বিক্রি হওয়া রোধ করে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, ফলে সঠিক মূল্য নিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কবির একজন সৎ ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও এ বছর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় বাজারে মাছের দাম কমে গেছে। তাছাড়া ইলিশ অত্যন্ত পচনশীল পণ্য হওয়ায় কবিরের কাছে সংরক্ষণের কোনো হিমাগার বা বরফজাতকরণের স্থায়ী সুবিধা নেই। ফলে অবিক্রিত মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় এবং লোকসানের ভয়ে তিনি ব্যবসায় নিয়ে চিন্তিত।
কবির যদি আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা স্থানীয় বরফকলের সহায়তায় ইলিশ সংরক্ষণ করতে পারেন, তবে দাম কম থাকার সময়ে কম মূল্যে সব মাছ বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। পরবর্তীতে যখন বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাবে, তখন তিনি তা ন্যায্য ও লাভজনক মূল্যে বাজারে সরবরাহ করে ক্ষতি এড়াতে পারবেন। সুতরাং, সংরক্ষণ বা গুদামজাতকরণ ব্যবস্থার প্রবর্তনই কবিরের এই চিন্তা হ্রাসের প্রধান উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও