জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. রহিম পেঁপের রিংস্পট ও মি. করিম ধানের ব্লাইট রোগ নিয়ে গবেষণা করেন।
- ক)(1)
এক্সফ্লাজেলেশন কী?
- খ)(2)
নাইট্রিফিকেশন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় অণুজীবটি খাদ্য ও জমির উর্বরতা বিনষ্ট করে— ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম রোগসৃষ্টিকারী এজেন্ট মানব কল্যাণে কী ভূমিকা রাখে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ম্যালেরিয়া পরজীবী প্লাজমোডিয়ামের মাইক্রোগ্যামিটোসাইট থেকে ফ্ল্যাজেলা সদৃশ শুক্রাণু বা পুং-গ্যামেট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে এক্সফ্ল্যাজেলেশন (Exflagellation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রক্রিয়ায় মাটির অ্যামোনিয়া বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার (যেমন- নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাকটার) ক্রিয়ায় জারিত হয়ে প্রথমে নাইট্রাইট এবং পরবর্তীতে উদ্ভিদের গ্রহণোপযোগী নাইট্রেটে রূপান্তরিত হয়, তাকে নাইট্রিফিকেশন বলে।
প্রথমে নাইট্রোসোমোনাস অ্যামোনিয়াকে নাইট্রাইটে রূপান্তর করে এবং এরপর নাইট্রোব্যাকটার নাইট his নাইট্রাইটকে নাইট্রেটে পরিণত করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২য় অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া (ধানের ব্লাইট রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া Xanthomonas oryzae)। ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যদ্রব্য ও জমির উর্বরতা বিনষ্ট করে থাকে, নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্য বিনষ্টকরণ: বিভিন্ন পরজীবী ও মৃতজীবী ব্যাকটেরিয়া মানুষের খাদ্যদ্রব্যে আক্রমণ করে তা পচিয়ে ফেলে ও নষ্ট করে। যেমন— ক্লোস্ট্রিডিয়াম বোটুলিনাম (Clostridium botulinum) ব্যাকটেরিয়া টিনজাত খাদ্য ও সাধারণ খাবারে আক্রমণ করে মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান 'বটুলিন' তৈরি করে, যা বোটুলিজম সৃষ্টি করে। এছাড়া দুধ, মাছ, মাংস ও শাকসবজি দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে নষ্ট হয়।
২. জমির উর্বরতা বিনষ্টকরণ: কিছু ডিনাইট্রিফাইং ব্যাকটেরিয়া (যেমন— Pseudomonas, Micrococcus denitrificans ইত্যাদি) মাটির নাইট্রেট ও নাইট্রাইট যৌগকে ভেঙে মুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাসে পরিণত করে বায়ুমণ্ডলে উন্মুক্ত করে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে ডিনাইট্রিফিকেশন বলে। ফলে মাটির মূল্যবান নাইট্রোজেনের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং জমির উর্বরতা মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হয়।
সুতরাং, ব্যাকটেরিয়া খাদ্য নষ্ট করে এবং ডিনাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় জমির উর্বরতা কমিয়ে ক্ষতিসাধন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম রোগসৃষ্টিকারী এজেন্ট হলো পেঁপের রিংস্পট রোগের কারণ— পেঁপে রিংস্পট ভাইরাস (PRSV), অর্থাৎ ভাইরাস। আপাতদৃষ্টিতে ভাইরাস ক্ষতিকারক হলেও মানব কল্যাণে ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন প্রস্তুতি: ভাইরাসের সাহায্যে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের (যেমন- পোলিও, বসন্ত, জলাতঙ্ক, হাম, হেপাটাইটিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও কোভিড-১৯) টিকা বা ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।
২. ব্যাকটেরিওফাজ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ: ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাস ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ইত্যাদি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ফাজ ভাইরাসের ভূমিকা অপরিসীম।
৩. জিন প্রকৌশল ও জৈবপ্রযুক্তি: জিন প্রকৌশল এবং জিন থেরাপিতে নির্দিষ্ট জিন বহনের জন্য ভাইরাসকে উৎকৃষ্ট 'ভেক্টর' বা বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৪. ক্ষতিকর পতঙ্গ ও কীট দমন: অনেক ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ দমনে নির্দিষ্ট ভাইরাস (যেমন— Baculovirus) জৈবিক বালাইনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৫. গবেষণায় ব্যবহার: আণবিক জীববিজ্ঞান, জিনতত্ত্ব এবং ক্যান্সার গবেষণায় ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অতএব, রোগ সৃষ্টির পাশাপাশি মানব চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি ও জৈবপ্রযুক্তিতে ভাইরাসের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও