পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে 'X' প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। 'X' স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়ে থাকে। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ও জনগণের সক্রিয় ভূমিকায় 'X' প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাধিত হয়।
- ক)(1)
পৌরসভার প্রধানকে কী বলা হয়?
- খ)(2)
স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'X' কোন স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান? উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
'X' প্রতিষ্ঠানকে অধিক কার্যকর করার ক্ষেত্রে জনগণের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌরসভার প্রধানকে মেয়র বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় জনসাধারণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলা হয়। স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সমস্যা সমাধান এবং স্থানীয় চাহিদার সঠিক প্রতিফলনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে বা ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণে আইন দ্বারা গঠিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থাই হলো স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান (যেমন: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ইত্যাদি)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটি হলো 'সিটি কর্পোরেশন' (প্রশ্ন প্রণয়নের সময়কালে বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা ছিল ১১টি)।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যাবলি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা: নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাসপাতাল, মাতৃসদন, স্বাস্থ্য ক্লিনিক ও দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন ও পরিচালনা করে।
২. অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন: সিটি কর্পোরেশন রাস্তাঘাট, ফুটপাত, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সংস্কার করে। এছাড়া উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
৩. পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: নগরীর আবর্জনা অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা ও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতি: বিদ্যালয় পরিচালনা, নৈশবিদ্যালয় ও পাঠাগার স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করে।
৫. জননিরাপত্তা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা: রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা করা, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, পার্ক ও উদ্যান নির্মাণ সিটি কর্পোরেশনের আবশ্যিক কাজের অংশ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিটি কর্পোরেশনকে অধিক কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য।
একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের সহযোগিতার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রথমত, যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণকামী প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি মজবুত করতে পারেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনগণের সক্রিয় ভূমিকায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাধিত হয়।
দ্বিতীয়ত, নিয়মিত কর প্রদান করে নাগরিকরা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করেন। সিটি কর্পোরেশনের আয়ের প্রধান উৎস হলো হোল্ডিং ট্যাক্স, গৃহকর ও লাইসেন্স ফি। জনগণ সময়মতো কর পরিশোধ না করলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত হয়।
তৃতীয়ত, সিটি কর্পোরেশনের প্রণীত বিধিবিধান মেনে চলা যেমন—অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, ড্রেন আটকে না রাখা এবং সরকারি রাস্তা ও ফুটপাত দখল না করা নগরবাসীর নৈতিক দায়িত্ব।
পরিশেষে, নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজে সিটি কর্পোরেশনের সাথে গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে অধিক গতিশীল ও কার্যকর করা সম্ভব। অতএব, 'X' প্রতিষ্ঠানটির সফলতায় জনগণের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও