জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
জিন কি?
- খ)(2)
আর্কিওপটেরিক্স কে সংযোগকারী প্রাণী বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত F2 জনুর ফলাফল চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনা মেন্ডেলের কোন সূত্রের ব্যতিক্রম বলে মনে কর? এর জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রক এবং ডিএনএ অণুর নির্দিষ্ট কার্যক্ষম খণ্ডাংশকে জিন (Gene) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্কিওপটেরিক্সকে সংযোগকারী প্রাণী (Connecting link) বলা হয় কারণ এর দেহে একই সাথে সরীসৃপ এবং পাখি উভয় শ্রেণির বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল। এতে সরীসৃপের মতো চোয়ালে দাঁত, নখরযুক্ত আঙুল এবং দীর্ঘ অস্থিময় লেজ ছিল; অন্যদিকে পাখির মতো পালকযুক্ত দেহ, ডানা ও চঞ্চু উপস্থিত ছিল। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে সরীসৃপ থেকেই পাখির উৎপত্তি হয়েছে, তাই এটি সরীসৃপ ও পাখির মধ্যে সংযোগকারী প্রাণী হিসেবে গণ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি প্রকট এপিস্ট্যাসিসকে নির্দেশ করে। এখানে রঙিন পালকের জন্য দায়ী জিন C এবং এর প্রতিহতকারী প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I।
ধরি,
রঙিন পালকের জন্য দায়ী জিন = C এবং এর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = c
বর্ণ প্রতিহতকারী জিন (এপিস্ট্যাটিক) = I এবং এর প্রচ্ছন্ন অ্যালিল = iসাদা লেগহর্নের জিনোটাইপ = CCII
সাদা ওয়াইনডটের জিনোটাইপ = cciiF1 জনুর জিনোটাইপ = CcIi (সকল মোরগ-মুরগি সাদা, কারণ প্রকট প্রতিহতকারী জিন I উপস্থিত থাকলে C জিন পালককে রঙিন করতে পারে না)।
F1 জনুর ক্রস (CcIi × CcIi) থেকে উৎপন্ন গ্যামেটসমূহ: CI, Ci, cI, ci
F2 জনুর চেকার বোর্ড:
গ্যামেট (♀ / ♂) CI Ci cI ci CI CCII (সাদা) CCIi (সাদা) CcII (সাদা) CcIi (সাদা) Ci CCIi (সাদা) CCii (রঙিন) CcIi (সাদা) Ccii (রঙিন) cI CcII (সাদা) CcIi (সাদা) ccII (সাদা) ccIi (সাদা) ci CcIi (সাদা) Ccii (রঙিন) ccIi (সাদা) ccii (সাদা) ফলাফল:
সাদা মোরগ-মুরগি = ১৩টি (যেগুলোতে প্রতিহতকারী I জিন উপস্থিত অথবা রঙিন সৃষ্টির মূল জিন C অনুপস্থিত)
রঙিন মোরগ-মুরগি = ৩টি (CCii ও Ccii, যেখানে C জিন উপস্থিত কিন্তু প্রতিহতকারী I জিন অনুপস্থিত)অতএব, F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত = সাদা : রঙিন = ১৩ : ৩।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের (স্বাধীনভাবে সঞ্চারণের সূত্র) ব্যতিক্রম।
জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ:
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রানুযায়ী দ্বিসংকর ক্রসের F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হওয়ার কথা ছিল ৯ : ৩ : ৩ : ১। কিন্তু উদ্দীপকে সাদা লেগহর্ন ও সাদা ওয়াইনডটের ক্রসে F2 জনুর অনুপাত পাওয়া যায় ১৩ : ৩। এটি 'প্রকট এপিস্ট্যাসিস' (Dominant Epistasis / Inhibitory Gene Interaction)-এর কারণে ঘটে থাকে।যখন একটি জিন অন্য একটি নন-অ্যালিলিক জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন সেই প্রক্রিয়াকে এপিস্ট্যাসিস বলে। যে জিনটি বাধা সৃষ্টি করে তাকে এপিস্ট্যাটিক জিন এবং যে জিনটি বাধা পায় তাকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলে।
এখানে,
১. রঙিন পালকের জন্য দায়ী জিন C (হাইপোস্ট্যাটিক)।
২. রঙিন বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধাদানকারী প্রকট জিন I (এপিস্ট্যাটিক)।- সাদা লেগহর্নে রঙিন পালকের জিন C থাকা সত্ত্বেও প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন I-এর উপস্থিতির কারণে পালক রঙিন না হয়ে সাদা হয় (জিনোটাইপ: CCII)।
- অন্যদিকে সাদা ওয়াইনডটে রঙিন পালকের জিন C অনুপস্থিত থাকায় (ccii) পালক সাদা হয়।
- এদের সংকরায়নে F1 জনুর সংকর মুরগির জিনোটাইপ হয় CcIi। এখানেও I জিন উপস্থিত থাকায় C জিন তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না, ফলে সকল মুরগি সাদা হয়।
- F2 জনুতে ১৬টি সম্ভাব্য সমন্বয়ের মধ্যে:
- ১২টিতে প্রকট প্রতিহতকারী জিন 'I' বিদ্যমান (C_I_ এবং ccI_), যার ফলে সেগুলো সাদা হয়।
- ১টিতে কোনো কার্যকর জিন নেই (ccii), ফলে সেটিও সাদা হয়। অর্থাৎ মোট সাদা = ১২ + ১ = ১৩টি।
- কেবল ৩টিতে রঙের জিন 'C' উপস্থিত কিন্তু কোনো প্রতিহতকারী 'I' জিন নেই (C_ii), ফলে সেগুলো রঙিন হয়। অর্থাৎ রঙিন = ৩টি।
সুতরাং, এপিস্ট্যাটিক জিনের প্রভাবের ফলেই অনুপাত ৯:৩:৩:১ পরিবর্তিত হয়ে ১৩:৩ হয়, যা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও