বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

"সেইদিন আজো জ্বলজ্বলে স্মৃতি, যেদিন মহানবিজয়ী বীর দূর দেশে থেকে স্বদেশে এলেন ফিরে। শুনেছি সেদিন জয়ঢাক আর জন-উল্লাস;পথে-প্রান্তরে তাঁরই কীর্তন, তিনিই মুক্তিদূত।নিহত এ্যাগামেমনন, কবরে শায়িত আজ।”

  1. ক)

    আমলাতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    'নাশতা খাবার ইচ্ছা আমার নাই'- কে, কোন প্রসঙ্গে একথা বলেছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'বিজয়ী বীরের' স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সাথে বঙ্গবন্ধুর জেলমুক্তির সম্পর্কে আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটিতে 'বায়ান্নর দিনগুলো'র বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে- তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আমলাতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের স্থায়ী ও বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের দ্বারা গঠিত একটি প্রশাসনিক শাসনব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট পদসোপান ও নিয়মবিধির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ধৃত কথাটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলগেটের জমাদারকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন।

    অনশন ধর্মঘট চলাকালে ঢাকা জেল থেকে স্থানান্তরের পর শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমদ যখন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত অবস্থায় ফরিদপুর জেলে পৌঁছেন, তখন সকাল হয়ে গিয়েছিল। জেলগেটের জমাদার সৌজন্যবশত তাদের নাশতা করার প্রস্তাব দিলে অনশনরত বঙ্গবন্ধু প্রত্যয়দৃঢ় কণ্ঠে উক্ত কথাটি বলেন, কারণ অনশনরত অবস্থায় খাবার গ্রহণের কোনো সুযোগ ছিল না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'বিজয়ী বীরের' স্বদেশে ফিরে আসার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জেলমুক্তির ঘটনার আনন্দ ও জনউচ্ছ্বাসের গভীর মিল রয়েছে।

    'বায়ান্নর দিনগুলো' স্মৃতিচারণায় দেখা যায়, টানা অনশন ধর্মঘটের ফলে বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে জনগণের আন্দোলনের চাপে এবং বঙ্গবন্ধুর আপসহীন অবস্থানের কারণে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি যখন নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন, তখন পরিবার-পরিজন, পিতা-মাতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কান্নার পাশাপাশি এক অপরিসীম স্বস্তি ও আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত হয়েছে দূর দেশ থেকে মহান বিজয়ী বীরের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন, যাঁর আগমনে চারিদিকে জয়ঢাক বেজেছে এবং জন-উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি পথ-প্রান্তরে মুক্তিদূত হিসেবে বন্দিত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর অনশন ভেঙে কারামুক্তি এবং পরবর্তীতে মানুষের মাঝে ফিরে আসার ঘটনাটি ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নৈতিক জয়। উদ্দীপকের বিজয়ী বীরের মতো তিনিও ছিলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা ও মুক্তিদূত, যাঁর মুক্তির ক্ষণটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য পরম স্বস্তি ও বিজয়ের সমতুল্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার মূল ভাব ও চেতনা রূপক অর্থে সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে—মন্তব্যটি যথার্থ।

    'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় পাকিস্তানি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর জেল-জুলুম সহ্য করা, দীর্ঘ অনশন ধর্মঘট পালন এবং ভাষার দাবি ও রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে আপসহীন সংগ্রামের চিত্র ফুটে উঠেছে। মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে তিনি যে আত্মত্যাগ দেখিয়েছিলেন, তার ফলেই তৎকালীন প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম লীগ সরকারের ভিত কেঁপে ওঠে এবং তিনি মুক্তিলাভ করেন। এই সংগ্রাম ছিল মূলত বাঙালির অধিকার আদায়ের বিজয়ের ইতিহাস।

    উদ্দীপকে এক বীরের স্বদেশে ফেরার দৃশ্যপট তুলে ধরা হয়েছে, যাকে দেশের মানুষ মুক্তিদূত হিসেবে অভিনন্দিত করেছে। একই সাথে কবিতার শেষে গ্রিক ট্র্যাজেডির বীর আগামেমননের হত্যাকাণ্ডের স্মরণের মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, মহান নেতাদের ভাগ্যে অনেক সময় মর্মান্তিক পরিণতি বা ট্র্যাজেডি নেমে আসে। এই দুটি দিকই বঙ্গবন্ধুর জীবনের বাস্তবতার সাথে গভীরভাবে সাযুজ্যপূর্ণ। একদিকে তিনি ছিলেন নিপীড়িত বাঙালির মুক্তিদূত যিনি কারাগার থেকে বীরের মতো ফিরে এসে স্বাধীনতার পথ তৈরি করেছিলেন; অন্যদিকে ১৯৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁকেও সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে।

    অতএব, বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম, কারামুক্তি ও জনগণের ভালোবাসার পাশাপাশি উদ্দীপকের ট্র্যাজিক সুর 'বায়ান্নর দিনগুলো'র রচয়িতা বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাথে অত্যন্ত অর্থপূর্ণভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় উদ্দীপকটিতে রচনার মর্মবাণী সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন