জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দ্বিস্তরী প্রাণিপর্বভুক্ত এবং পুনরৎপত্তি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রাণী উদ্ভিদের ন্যায় দেহকান্ড হতে অযৌন উপায়ে নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করে। এদের চলনেও ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা যায়।
- ক)(1)
হাইপোস্টাম কী?
- খ)(2)
সিলোম ও সিলেন্টেরনের মধ্যে পার্থক্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রজন্ম সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটির চলনের বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রার দেহের মুক্ত প্রান্তের চূড়ায় অবস্থিত মোচাকৃতি, সংকোচন-প্রসারণশীল অংশ যার শীর্ষে মুখছিদ্র থাকে, তাকে হাইপোস্টোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিলোম ও সিলেন্টেরনের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
১. উৎপত্তি ও আস্তরণ: সিলোম মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন এবং পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত। সিলেন্টেরন ভ্রূণীয় এন্ডোডার্ম (গ্যাস্ট্রোডার্মিস) দ্বারা আবৃত।
২. কাজ: সিলোম পৌষ্টিকনালি ও দেহপ্রাচীরের মধ্যবর্তী স্থান যেখানে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গ অবস্থান করে। সিলেন্টেরন মূলত পরিপাক ও সংবহন গহ্বর হিসেবে কাজ করে।
৩. উপস্থিতি: সিলোম ত্রিস্তরী প্রাণীদের (সিলোমেট) ক্ষেত্রে দেখা যায়; কিন্তু সিলেন্টেরন নিডারিয়া পর্বের দ্বিস্তরী প্রাণীদের (যেমন- হাইড্রা) দেখা যায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত দ্বিস্তরী এবং পুনরুৎপত্তি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra)। উদ্ভিদের ন্যায় এর দেহকাণ্ড হতে অযৌন উপায়ে নতুন প্রজন্ম সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি হলো 'মুকুলোদগম' (Budding)। নিচে এর বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. অনুকূল পরিবেশে পর্যাপ্ত খাদ্যের উপস্থিতিতে হাইড্রার দেহের মধ্য বা নিম্নাংশে এপিডার্মিসের ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলো দ্রুত বিভাজিত হয়ে স্ফীত হয়ে ওঠে।
২. এই স্ফীত অংশটি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে ফাঁপা নলাকার রূপ ধারণ করে এবং এটিতে গ্যাস্ট্রোডার্মিস ও এন্টারন বা সিলেন্টেরন সম্প্রসারিত হয়।
৩. ক্রমশ মুকুলের দূরবর্তী প্রান্তে হাইপোস্টোম, মুখছিদ্র এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কর্ষিকা সৃষ্টি হয়।
৪. পরবর্তীতে মুকুলটি জনিতৃ দেহ থেকে খাদ্যের পুষ্টি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাইড্রায় পরিণত হয়।
৫. শেষে মুকুলের গোড়ায় একটি বৃত্তাকার খাঁজের সৃষ্টি হয় এবং জনিতৃ হাইড্রা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন শুরু করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা। হাইড্রার চলনে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্য দেখা যায়, নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. লুপিং (হামাগুড়ি): দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য হাইড্রা এ পদ্ধতি ব্যবহার করে। দেহকে প্রসারিত করে বাঁকিয়ে কর্ষিকা দিয়ে ভিত্তি স্পর্শ করে এবং পাদচাকতিকে কর্ষিকার কাছে টেনে এনে লুপ বা ফাঁশ তৈরি করে এগিয়ে চলে।
২. সমারসল্টিং (ডিগবাজি): এটি হাইড্রার সাধারণ ও দ্রুত চলন প্রক্রিয়া। এতে হাইড্রা কর্ষিকার ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ায় এবং পাদচাকতি উল্টিয়ে বিপরীত পাশে স্থাপন করে ডিগবাজি খাওয়ার মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে।
৩. গ্লাইডিং (অ্যামিবয়েড চলন): পাদচাকতির গ্ল্যান্ডুলার কোষ থেকে ক্ষরিত পিচ্ছিল রসে অ্যামিবয়েড ক্ষণপদ সৃষ্টি করে মসৃণ তলে খুব ধীরে ধীরে স্থান পরিবর্তন করে।
৪. সাঁতার (Swimming): কর্ষিকাগুলো ঢেউয়ের মতো আন্দোলিত করে এবং দেহ আন্দোলিত করে হাইড্রা পানির স্রোতে ভেসে বা সাঁতরে স্থান পরিবর্তন করে।
৫. ভাসা (Floating): পাদচাকতির বহিঃত্বকীয় কোষ থেকে গ্যাসীয় বুদ্বুদ তৈরি করে হাইড্রা পানির উপরিভাগে উল্টো হয়ে ভেসে থাকে।
৬. আরোহণ/অবরোহণ (Climbing): কর্ষিকা দ্বারা জলজ উদ্ভিদের কোনো অংশ আঁকড়ে ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করে।সুতরাং, হাইড্রার খাদ্য গ্রহণ, আত্মরক্ষা এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চলনে বহুরূপী বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও