‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    'AIDS' এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    দুর্নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    চিত্রে'?' চিহ্নটি কোন সমস্যাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্রে নির্দেশিত সমস্যার সমাধানে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো 'Acquired Immune Deficiency Syndrome' (অ্যাকোয়ার্ড ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সাধারণ অর্থে দুর্নীতি বলতে নীতিবিরুদ্ধ বা নীতিভ্রষ্ট আচরণকে বোঝায়। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করা, ঘুষ গ্রহণ, স্বজনপ্রীতি বা অসদুপায় অবলম্বন করাকে দুর্নীতি বলা হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TI)-এর মতে, অর্পিত ক্ষমতার ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহারই হলো দুর্নীতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রে '?' চিহ্নিত স্থানে 'জলবায়ু পরিবর্তন' (Climate Change) বা 'বৈশ্বিক উষ্ণায়ন' (Global Warming)-জনিত পরিবেশগত সমস্যাকে নির্দেশ করে।

    বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ। উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রভাবগুলো—যেমন গ্রিন হাউস গ্যাসের অভিঘাত, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—সবই মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। জলবায়ুর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের স্বাভাবিক আবহাওয়া ও ঋতুচক্র চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু নিম্নাঞ্চলীয় দেশ প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। সুতরাং, চিত্রটি জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যাকে তুলে ধরেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রে নির্দেশিত সমস্যাটি হলো 'জলবায়ু পরিবর্তন'। এটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক সংকট, যার সমাধানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। নিচে এই সমস্যা সমাধানে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস: জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের কার্বন নিঃসরণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

    ২. ব্যাপক বনায়ন: গাছপালা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। তাই নির্বিচারে বন উজাড় বন্ধ করে উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারা দেশে ব্যাপক পরিসরে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ৩. আন্তর্জাতিক চুক্তির বাস্তবায়ন: প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মতো বৈশ্বিক সমঝোতাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোকে নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অভিযোজন তহবিল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    ৪. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো: সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও বন্যা-ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সাইক্লোন শেল্টার বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন ও চাষ করতে হবে।

    ৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি: পরিবেশ রক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে এবং অপচয়মূলক জীবনধারা পরিহার করতে হবে।

    পরিশেষে, জলবায়ু পরিবর্তন শুধু কোনো একক দেশের সংকট নয়, সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বের সংকট। তাই টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন