অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রনি মিয়া একজন দরিদ্র কৃষক। সে কৃষিকাজের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। সে ১ম বছর বেশি সুদে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাম্য মহাজনের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে। ২য় বছর অল্প সুদে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে বেশি সময় লেগে যায় আইনি প্রক্রিয়ার কারণে।

  1. ক)

    কৃষি খামার কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের কৃষি কি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রনি মিয়া বেশি সুদে যেখান থেকে ঋণ গ্রহণ করে তা ঋণদানের কোন ধরনের উৎস? উৎসগুলো চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রনি মিয়ার ১ম বছর ও ২য় বছরের ঋঋণের মধ্যে কোন ঋণের উৎসটি তুলনামূলক সুবিধাজনক? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে একক পরিচালনায় বা কর্তৃত্বে পরিচালিত এক বা একাধিক কৃষি জোত বা খণ্ড নিয়ে গঠিত উৎপাদন একককে কৃষি খামার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।

    এ দেশের কৃষিকাজ এবং ফসলের উৎপাদন অনেকাংশেই মৌসুমি বায়ু, পরিমিত বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেচব্যবস্থা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও এখনো সিংহভাগ কৃষক পানির উৎস ও চাষাবাদের অনুকূল পরিবেশের জন্য প্রকৃতির মর্জির ওপর নির্ভর করে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রনি মিয়া ১ম বছর বেশি সুদে যেখান থেকে ঋণ গ্রহণ করে, তা ঋণদানের 'অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস'।

    কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসগুলো হলো:
    ১. গ্রাম্য মহাজন বা সুদখোর কারবারি
    ২. আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব
    ৩. ধনী কৃষক ও প্রতিবেশী
    ৪. ব্যবসায়ী, ব্যাপারী ও ফড়িয়া (দাদন প্রথা)
    ৫. দোকানদার

    উদ্দীপকে রনি মিয়া ১ম বছর বেশি সুদে অল্প সময়ে গ্রাম্য মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেয়। গ্রাম্য মহাজন কোনো আইনগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে কাজ করে না। তাই এটি কৃষি ঋণের সম্পূর্ণ একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস, যেখানে উচ্চ সুদের হার বিদ্যমান থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রনি মিয়ার ১ম বছরের (অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস: গ্রাম্য মহাজন) ও ২য় বছরের (প্রাতিষ্ঠানিক উৎস: কৃষি ব্যাংক) ঋণের মধ্যে ২য় বছরের ঋণের উৎসটি অর্থাৎ 'কৃষি ব্যাংক' তুলনামূলক সুবিধাজনক।

    যদিও উদ্দীপকে দেখা গেছে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বেশি সময় লেগেছে, তবুও সার্বিক অর্থনৈতিক বিচারে প্রাতিষ্ঠানিক উৎসই অধিক কল্যাণকর। এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

    ১. সুদের হার: গ্রাম্য মহাজনের সুদের হার অত্যন্ত চড়া ও চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পায়, যা দরিদ্র কৃষককে ঋণের জালে আটকে ফেলে। বিপরীতে, কৃষি ব্যাংকের সুদের হার সরকার নির্ধারিত ও অপেক্ষাকৃত অনেক কম।
    ২. নিরাপত্তা ও শোষণহীনতা: মহাজনরা কৃষকের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে জমিজমা দখল বা প্রতারণা করতে পারে। ব্যাংকের ঋণ আইনসম্মত হওয়ায় এমন শোষণ বা জমি দখলের কোনো ভয় থাকে না।
    ৩. পরিশোধের নমনীয়তা ও মওকুফ সুবিধা: ব্যাংক ফসলহানি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি করে এবং অনেক সময় সরকারি সিদ্ধান্তে সুদ বা আসল মওকুফ করে থাকে, যা মহাজনের ক্ষেত্রে অসম্ভব।

    আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণে কিছুটা বিলম্ব হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়। অতএব, ২য় বছরের কৃষি ব্যাংকের ঋণটিই রনি মিয়ার জন্য তুলনামূলক অধিক সুবিধাজনক ও নিরাপদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন