জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
ফার্মেন্টেশন কী?
- খ)(2)
C4 উদ্ভিদকে উন্নত মনে করা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিত্রটির ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অবাত শ্বসনের মাধ্যমে জটিল জৈব যৌগ অণুজীবের (যেমন- ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া) নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে আংশিক জারিত হয়ে বিভিন্ন সরল যৌগ (যেমন- অ্যালকোহল, ল্যাকটিক অ্যাসিড) ও শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে ফার্মেন্টেশন বা গাজন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
C4 উদ্ভিদকে C3 উদ্ভিদের চেয়ে উন্নত মনে করা হয়, কারণ:
১. C4 উদ্ভিদে ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বিদ্যমান এবং এদের কার্বন ডাই-অক্সাইড আবদ্ধকরণের ক্ষমতা C3 উদ্ভিদের চেয়ে অনেক বেশি। এরা বায়ুমণ্ডলে CO2-এর ঘনত্ব খুব কম থাকলেও সালোকসংশ্লেষণ চালিয়ে যেতে পারে।
২. C4 উদ্ভিদে সালোকশ্বসন (Photorespiration) অনুপস্থিত বা নগণ্য হওয়ায় শক্তির কোনো অপচয় হয় না। ফলে উচ্চ তাপমাত্রা ও তীব্র আলোতেও এদের সালোকসংশ্লেষণের হার এবং উৎপাদনশীলতা C3 উদ্ভিদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে বিজ্ঞানী স্টুয়ার্ড (Steward, 1964)-এর মতবাদ অনুযায়ী পত্ররন্ধ্র (স্টোমাটা) খোলা ও বন্ধ হওয়ার কৌশল দেখানো হয়েছে।
১. দিনের বেলায় পত্ররন্ধ্র উন্মুক্তকরণ:
দিনের আলোতে রক্ষীকোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে, যার ফলে রক্ষীকোষে কার্বন ডাই-অক্সাইডের (CO2) ঘনত্ব কমে যায়। এর ফলে রক্ষীকোষের pH বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭-এ পৌঁছায়। উচ্চ pH-এ ফসফোরাইলেজ এনজাইমের প্রভাবে অদ্রবণীয় শ্বেতসার বা স্টার্চ ভেঙে দ্রবণীয় গ্লুকোজ-১-ফসফেটে এবং পরবর্তীতে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। দ্রবণীয় শর্করার ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রক্ষীকোষের রসস্ফীতি চাপ এবং অভিস্রবণিক চাপ বৃদ্ধি পায়। পার্শ্ববর্তী সহকারী কোষগুলো থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। রক্ষীকোষগুলো স্ফীত হয়ে বাইরের দিকে বেঁকে যায় এবং পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়।২. রাতে পত্ররন্ধ্র বন্ধকরণ:
রাতে আলোর অভাবে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ থাকে কিন্তু শ্বসন প্রক্রিয়া চালু থাকে। ফলে রক্ষীকোষে CO2 সঞ্চিত হয় এবং কার্বনিক অ্যাসিড সৃষ্টির মাধ্যমে pH কমে প্রায় ৫-এ নেমে আসে। কম pH-এ ফসফোরাইলেজ এনজাইম দ্রবণীয় গ্লুকোজকে পুনরায় অদ্রবণীয় স্টার্চে পরিণত করে। এর ফলে রক্ষীকোষের রসস্ফীতি ও অভিস্রবণিক চাপ হ্রাস পায় এবং বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষ থেকে পানি বাইরে চলে যায়। ফলে রক্ষীকোষগুলো শিথিল হয়ে পড়ে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া (পত্ররন্ধ্রের আচরণ)। এটি উদ্ভিদের প্রধান তিনটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রস্বেদন (Transpiration):
উদ্ভিদের অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রায় ৯০-৯৫% সম্পন্ন হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে (পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন)। উদ্দীপকের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পত্ররন্ধ্র খোলা থাকলে প্রস্বেদন দ্রুত ঘটে এবং বন্ধ থাকলে প্রস্বেদনের হার শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। প্রস্বেদনের ফলে উদ্ভিদে রস উত্তোলন ও পাতা শীতল থাকে।২. সালোকসংশ্লেষণ (Photosynthesis):
সালোকসংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য কাঁচামাল হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত থাকলে বায়ুমণ্ডল থেকে CO2 পাতায় প্রবেশ করে এবং সালোকসংশ্লেষণের উপজাত অক্সিজেন (O2) বাইরে নির্গত হয়। পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকলে প্রয়োজনীয় CO2 প্রবেশ করতে না পেরে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়।৩. শ্বসন (Respiration):
সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনের জন্য উদ্ভিদের প্রতিটি জীবন্ত কোষে অক্সিজেনের উপস্থিতি অপরিহার্য। পত্ররন্ধ্র খোলা থাকলেই উদ্ভিদ বায়ুমণ্ডল থেকে শ্বসনের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উৎপন্ন অতিরিক্ত CO2 পরিবেশে নির্গমন করতে পারে।সুতরাং, উদ্দীপকের পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি প্রস্বেদন, সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন—উদ্ভিদের এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও