অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রফিকুল ইসলাম একজন গরিব কৃষক। তিনি রুবেলের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে তার জমিতে টমেটো চাষ করেন। টমেটোর ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রতি কেজি টমেটো উৎপাদন করতে তার খরচ হয় ১৫ টাকা। কিন্তু রুবেলের নিকট তিনি টমেটো প্রতি কেজি ১৬ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। রুবেল সে টমেটো বাজারে প্রতি কেজি ২৫ টাকা ধরে বিক্রি করেন। রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে সরকার গ্রামাঞ্চলে ক্রয়কেন্দ্র ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং কৃষকদের বিনা সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

  1. ক)

    বাংলাদেশে কৃষির উপখাতসমূহ কী?

    (1)
  2. খ)

    'বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    রফিকুল ইসলামের সমস্যার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নের গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশে কৃষির প্রধান চারটি উপখাত রয়েছে; যথা— ১. শস্য ও শাকসবজি, ২. প্রাণিসম্পদ, ৩. বনজ সম্পদ এবং ৪. মৎস্য সম্পদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতিকর প্রভাব কৃষির ওপর পড়ছে।

    তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ফসলি জমি নষ্ট হয়, ফসল উৎপাদনের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি কৃষির জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রফিকুল ইসলামের সমস্যার প্রকৃতি হলো কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থার অভাব, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অপ্রতুলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণ।

    কৃষিপ্রধান দেশে অনেক সময় কৃষকরা প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ না পেয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস (যেমন: ফড়িয়া, মহাজন বা ব্যবসায়ী) থেকে চড়া শর্তে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। ঋণের শর্তের কারণে এবং উৎপাদিত পচনশীল ফসল সংরক্ষণের গুদাম বা কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় তারা পানির দরে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা অধিক মুনাফা অর্জন করলেও প্রকৃত উৎপাদক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন।

    উদ্দীপকে কৃষক রফিকুল ইসলাম রুবেলের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেন। কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৫ টাকা হলেও রুবেলের ঋণের শর্তের ফাঁদে পড়ে তিনি তা মাত্র ১৬ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হন। অথচ সেই টমেটো রুবেল বাজারে ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করেন। এখানে রফিকুল ইসলামের মূল সমস্যা হলো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাব, গুদামজাতকরণের সুযোগহীনতা এবং মধ্যস্বত্বভোগী রুবেলের কাছে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রফিকুল ইসলামের মতো কৃষকদের অবস্থার উন্নয়নে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ (ক্রয়কেন্দ্র ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং বিনা সুদে ঋণদান) অত্যন্ত সময়োপযোগী, যথার্থ ও কার্যকর।

    বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রধান সমস্যা হলো মূলধনের সংকট, মধ্যস্বত্বভোগী ও মহাজনদের শোষণ এবং পচনশীল ফসলের সংরক্ষণাগারের অভাব। টমেটোর মতো পচনশীল কৃষিপণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় বলে এবং ফসল কাটার মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে যায়। সংরক্ষণাগারের সুবিধা না থাকলে কৃষকরা কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারি পদক্ষেপগুলো কৃষকদের এসব মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেয়:
    ১. বিনা সুদে ঋণদান: কৃষকরা যদি বিনা সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পায়, তবে তাদের আর রুবেলের মতো মধ্যস্বত্বভোগী মহাজনদের কাছে জিম্মি হতে হবে না।
    ২. কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) নির্মাণ: টমেটো একটি পচনশীল দ্রব্য। হিমাগারের সুবিধা পেলে কৃষকরা ফসল পচে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে পানির দরে বিক্রি না করে তা সংরক্ষণ করতে পারবে এবং সুবিধাজনক সময়ে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারবে।
    ৩. সরকারি ক্রয়কেন্দ্র স্থাপন: সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে পণ্য কেনা হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং কৃষক তার পণ্যের উপযুক্ত দাম পাবে।

    অতএব, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের শোষণমুক্ত টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের এই পদক্ষেপসমূহ সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন