‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রের জনগণ পরাধীন ছিল। শাসকগোষ্ঠী প্রায় ২০০ বছর রাষ্ট্রটিকে শাসন করতে যেয়ে সময়ের সময়ে শাসনতান্ত্রিক আইন প্রণয়ন করত। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন দ্বারা ওই রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন,প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন প্রবর্তিত হয়। সর্বশেষ আইনটির মাধ্যমে রাষ্ট্রটির স্বাধীনতা অর্জন করে।

  1. ক)

    ১৯৩৭ সালের ব্রিটিশ-ভারতের কয়টি প্রদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্যটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ আইনটির সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সামঞ্জস্যতা রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সর্বশেষ আইনটির সাথে মিল রয়েছে -তোমার পঠিত বইয়ের এমন আইনটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৭ সালের ব্রিটিশ-ভারতের ১১টি প্রদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করা।

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এই ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এতে উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা প্রদানের দাবি জানানো হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ আইনটির সাথে আমার পঠিত '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'-এর পূর্ণ সামঞ্জস্য রয়েছে।

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি ছিল ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তারিত দলিল। এই আইনের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য ছিল—ভারতে ব্রিটিশ প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র (All India Federation) গঠন এবং প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি এ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

    উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক প্রণীত যে গুরুত্বপূর্ণ আইনের কথা বলা হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন প্রবর্তিত হয়েছিল—তা নিখুঁতভাবে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যকেই তুলে ধরে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সর্বশেষ আইনটির সাথে মিল রয়েছে আমার পঠিত '১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর, যার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সর্বশেষ আইনের মাধ্যমে পরাধীন রাষ্ট্রটি প্রায় ২০০ বছরের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই পাসকৃত 'ভারত স্বাধীনতা আইন, ১৯৪৭'-এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দুই শতকের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি ঘটে।

    এই আইনের তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো:
    ১. ব্রিটিশ শাসনের অবসান: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতে রাজকীয় শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ডোমিনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।
    ২. সার্বভৌম ক্ষমতার হস্তান্তর: আইনের ফলে উভয় দেশের গণপরিষদের ওপর নিজ নিজ দেশের সংবিধান প্রণয়ন ও শাসন পরিচালনার সম্পূর্ণ সার্বভৌম কর্তৃত্ব অর্পিত হয়। ভারত সম্রাট উপাধির বিলোপ ঘটে।
    ৩. সীমানা নির্ধারণ ও বঙ্গভঙ্গ: আইনটির মাধ্যমে বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশকে বিভক্ত করে সীমানা কমিশন গঠনের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়।
    ৪. পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তি: এটি ভারতীয় উপমহাদেশের দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের এক চূড়ান্ত ফসল, যার মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

    সুতরাং, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনটি ছিল উপমহাদেশের জনগণের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক রূপান্তরের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন