বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

বীরবল সাহেব জীবদ্দশায় দানবীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি গরিব-দুঃখী অসহায় মানুষকে উৎসব-অনুষ্ঠানে অকাতরে দান করতেন। বীরবল সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী লীলা স্বামীর সম্পত্তির অর্ধেক বিক্রি করে এলাকার বেকার গরিব ছেলে-মেয়েদের জন্য একটি কর্মমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাবলম্বী।

  1. ক)

    'র‍্যাশনাল' শব্দটির অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    ''জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তর দায়িত্ব।''-এ উক্তিটি দ্বারা লেখক কী বুঝাতে চেয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের বীরবল সাহেবের মধ্যে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের কোন বক্তব্যের প্রকাশ রয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের লীলার কার্যক্রমে যেন 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য রয়েছে"-যুক্তি দ্বারা বুঝিয়ে দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'র‍্যাশনাল' (Rational) শব্দটির অর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক বা যুক্তিসম্পন্ন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা লেখক বুঝিয়েছেন যে, শুধু বৈষয়িক সুযোগ-সুবিধা বা কাঙালকে সাহায্য করাই রাষ্ট্রের কাজ নয়, বরং প্রতিটি নাগরিক যাতে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার মতো পরিবেশ পায় তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে লেখক আবুল ফজল বলেছেন, সত্যিকারের মানবকল্যাণ মানুষের মর্যাদাবোধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। রাষ্ট্র যদি কেবল রিলিফ বা দান-খয়রাত দিয়ে অভাব ঘোচাতে চায়, তবে মানুষের ব্যক্তিত্ব খর্ব হয় এবং পরনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়। তাই নাগরিকদের পরনির্ভরশীল না বানিয়ে স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বীরবল সাহেবের মধ্যে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে উল্লিখিত সংকীর্ণ বা গতানুগতিক দান-খয়রাতের মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবুল ফজল দেখিয়েছেন যে, সমাজে একশ্রেণির মানুষ আছেন যারা দান-খয়রাত বা সাহায্য করাকেই একমাত্র মানবকল্যাণ বলে মনে করেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের দান মানুষের আত্মমর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং ব্যক্তিকে ভিখারি বা পরমুখাপেক্ষী বানিয়ে তোলে। লেখক এ ধরনের খণ্ডিত ও প্রদর্শনীমূলক দানকে প্রকৃত মানবকল্যাণ বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

    উদ্দীপকের বীরবল সাহেব জীবদ্দশায় নিজেকে দানবীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উৎসব-অনুষ্ঠানে গরিব-অসহায় মানুষদের অকাতরে দান করতেন। তাঁর এই দান ছিল সাময়িক এবং এর মাধ্যমে মানুষের স্থায়ী অর্থনৈতিক মুক্তি বা আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিল না। অর্থাৎ, তিনি প্রচলিত ধারার সংকীর্ণ মানবকল্যাণমূলক কাজে লিপ্ত ছিলেন। ফলে প্রবন্ধের সেই দানশীলতার ধারণাই বীরবল সাহেবের কাজের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে, যা মানুষের স্থায়ী মুক্তি আনে না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের লীলার কার্যক্রমে যেন 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল বক্তব্য রয়েছে"—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে আবুল ফজল সামগ্রিক মানবকল্যাণের প্রকৃত রূপ তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, মানবকল্যাণ কেবল মুষ্টিমেয় দান-খয়রাতের বিষয় নয়; বরং মানুষের মনুষ্যত্ব ও আত্মমর্যাদাকে জাগ্রত করে তাকে স্বাবলম্বী করে তোলাই হলো আসল মানবকল্যাণ। মানুষকে পরনির্ভরশীলতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী করার মধ্যেই প্রকৃত মানবহিত নিহিত।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বীরবল সাহেবের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী লীলা গতানুগতিক দান-খয়রাতের পথে হাঁটেননি। তিনি স্বামীর অর্ধেক সম্পত্তি বিক্রি করে এলাকার বেকার গরিব ছেলে-মেয়েদের জন্য একটি কর্মমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এর সুফল হিসেবে এলাকার ছেলে-মেয়েরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বাবলম্বী হয়েছে।

    প্রবন্ধে লেখক স্পষ্টভাবে নির্দেশ করেছেন যে, মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করতে হবে যাতে তার ভেতরের মানবীয় সম্ভাবনা বিকশিত হয় এবং সে নিজেই নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। লীলার গৃহীত পদক্ষেপটি বেকারদের কেবল ক্ষণিকের অন্ন জোগায়নি, বরং তাদের স্থায়ী কর্মসংস্থান ও সম্মানের সাথে বাঁচার পথ তৈরি করে দিয়েছে। সুতরাং, আত্মমর্যাদা ও মানবীয় বিকাশ ঘটিয়ে স্বাবলম্বী করার যে মূল সুর 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে ব্যক্ত হয়েছে, তা লীলার কাজের মধ্যেই সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন