বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মতিন ও খাইরুনের পাঁচ বছরের সংসার। বিয়ের পর হতেই অনেক চেষ্টার পরেও তাদের সন্তান হয় না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা অনেক দূরের এক গ্রামে হেকমত কবিরাজের সন্ধান পায়। সন্তান লাভের আশায় ব্যাকুল মতিন দ্রুত স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যায়। হেকমত কবিরাজ অনেকক্ষণ ধরে খাইরুনকে নিরীক্ষণ করার পর বলেন- 'পেটে বেরি পরে বইলাইতো স্ত্রী লোকের সন্তানাদি হয় না, কারো পড়ে সাত প্যাঁচ, কারো চৌদ্দ।'

  1. ক)

    লালসালু' উপন্যাসের ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে'- এ উক্তি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মতিন ও 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের হেকমত কবিরাজ 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের আংশিক প্রতিফলনমাত্র- 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'লালসালু' উপন্যাসের ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টের নাম মতলুব খাঁ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মাধ্যমে মানুষের জীবনের মূল্যের তুলনায় ধন-সম্পদের অসারতা ও তুচ্ছতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

    'লালসালু' উপন্যাসে আউয়ালপুরের পীরের আগমন উপলক্ষে মহব্বতনগর গ্রামে মতভেদ সৃষ্টি হলে খালেক ব্যাপারীর নেতৃত্বে গ্রামের মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তখন তাহেরের বাপের মতো সাধারণ ও সহজ-সরল বৃদ্ধরা উপলব্ধি করতে পারেন যে ধন-সম্পদ বা ফসলের প্রাচুর্য যতই থাকুক না কেন, আত্মিক শান্তি ও জীবনের বেঁচে থাকার চেয়ে তা বড় হতে পারে না। জীবন ও মনুষ্যত্ব না থাকলে বৈষয়িক ধানের কোনো মূল্য নেই—এই গভীর সত্য প্রকাশ করতেই উক্তিটি করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মতিন এবং 'লালসালু' উপন্যাসের খালেক ব্যাপারীর মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্য হলো—সন্তানহীনতার বেদনা এবং সন্তান লাভের ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা।

    'লালসালু' উপন্যাসে খালেক ব্যাপারী গ্রামের একজন প্রভাবশালী ও ধনী ব্যক্তি হলেও তার সংসারে কোনো সন্তান ছিল না। প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবির দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে কোনো সন্তান না হওয়ায় খালেক ব্যাপারী মানসিক হতাশায় ভোগে এবং একটি সন্তানের আশায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সন্তান পাওয়ার অন্ধ আকাঙ্ক্ষায় সে ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদের পরামর্শ গ্রহণ করে এবং শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসনের নামে স্ত্রীর ওপর নির্মম সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়।

    অনুরূপভাবে উদ্দীপকের মতিন বিয়ের পাঁচ বছর পরও কোনো সন্তান না হওয়ায় মানসিকভাবে ব্যথিত ও ব্যাকুল। সে সন্তানের আশায় স্ত্রীকে নিয়ে দূর গ্রামের হেকমত কবিরাজের দ্বারস্থ হয়। সুতরাং উভয় চরিত্রের মধ্যেই সন্তানহীনতার সংকট এবং সন্তান লাভের তীব্র ইচ্ছা ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নির্ভরতার দিক থেকে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হেকমত কবিরাজ 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের আংশিক প্রতিফলনমাত্র—বক্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকের হেকমত কবিরাজ সাধারণ মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও সন্তানহীনতার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে মনগড়া কুসংস্কারমূলক কথা ('পেটে বেরি পরে বইলাইতো স্ত্রী লোকের সন্তানাদি হয় না') বলে মানুষকে বিভ্রান্ত ও শোষণ করে। তার কর্মকাণ্ড সাধারণ কবিরাজি প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    অন্যদিকে, 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ শুধুমাত্র একটি চিকিৎসাকেন্দ্রিক ভণ্ড চরিত্র নয়; সে এক সুদূরপ্রসারী, কুটিল এবং বহুমাত্রিক শোষক। মজিদ ধর্মের নামে একটি অচেনা গ্রামে ভিত্তিহীন মাজার প্রতিষ্ঠা করে পুরো সমাজের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি, ভয় ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজের কর্তৃত্ব ও প্রতিপত্তি কায়েম করে। সে গ্রামের প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ করে, নারীদের শোষণ করে এবং নিজের স্বার্থে একের পর এক চাল খাটিয়ে পুরো গ্রামের ভাগ্যবিধাতা হয়ে ওঠে। সন্তানহীনতার অজুহাতে আমেনা বিবিকে মাজারের পানি পড়া খাইয়ে চক্রান্তের মাধ্যমে তালাক দেওয়ানোর ক্ষেত্রেও মজিদের সুদূরপ্রসারী কপটতা প্রকাশিত হয়।

    অতএব, মানুষের অজ্ঞতা ও অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণা করার ক্ষেত্রে হেকমত কবিরাজের সঙ্গে মজিদের মিল থাকলেও, মজিদের সামগ্রিক শঠতা, ধর্মীয় কর্তৃত্ব, সামাজিক প্রভাব ও সুগভীর মনস্তাত্ত্বিক শোষণের ব্যাপকতার তুলনায় হেকমত কবিরাজ অতি সামান্য একটি ক্ষুদ্র রূপ মাত্র। তাই বলা যায়, হেকমত কবিরাজ মজিদ চরিত্রের কেবল একটি ক্ষুদ্র বা আংশিক প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন