জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

স্বাদু পানির জলাশয়ের একটি সাধারণ বৃহদাকৃতির মাছ হলো রুই। এই মাছের দেহ রূপালি আঁইশে আবৃত। বিভিন্ন কারণে এ রূপালি সম্পদ আজ হুমকির সম্মুখীন। । এ সম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

  1. ক)

    পাখনা কী?

    (1)
  2. খ)

    পটকা কেন মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপালি উপাদানের সচিত্র গঠন বর্ণনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছের চলন ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যবহৃত অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় রশ্মিযুক্ত চ্যাপ্টা অঙ্গকে পাখনা (Fin) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পটকা বা বায়ুথলি রুই মাছের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর প্রধান কাজ হলো মাছের প্লবতা রক্ষা করা, যার ফলে মাছ পানির নির্দিষ্ট গভীরতায় ভেসে থাকতে বা ডুবে যেতে পারে। এছাড়া এটি আপেক্ষিক গুরুত্ব নিয়ন্ত্রণকারী হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শব্দ সৃষ্টি ও শ্রবণে সহায়তা করে। তাই পানির বিভিন্ন স্তরে ভারসাম্য বজায় রেখে সহজে চলাচলের জন্য পটকা মাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রূপালি উপাদানটি হলো রুই মাছের আঁইশ (সাইক্লয়েড আঁইশ)।

    সাইক্লয়েড আঁইশের গঠন:
    ১. আকার ও রূপ: রুই মাছের আঁইশগুলো গোল বা ডিম্বাকার, পাতলা, চকচকে এবং রূপালি বর্ণের। আঁইশগুলো ডার্মিস স্তর থেকে উৎপন্ন হয় এবং একটি অপরটির ওপর টালি সাজানোর মতো বিন্যস্ত থাকে।
    ২. অংশসমূহ:

    • ফোকাস (Focus): আঁইশের প্রায় কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কেন্দ্রবিন্দুকে ফোকাস বা নিউক্লিয়াস বলে। আঁইশের বৃদ্ধি ফোকাসকে কেন্দ্র করে শুরু হয়।
    • সার্কুলি (Circuli): ফোকাসকে কেন্দ্র করে অসংখ্য সমকেন্দ্রিক বৃত্তাকার রেখা থাকে, এদের সার্কুলি বলে। এগুলোর মাধ্যমে মাছের বৃদ্ধি প্রতিফলিত হয়।
    • অ্যানুলি (Annuli): শীতকালে বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ায় সার্কুলিগুলো ঘন হয়ে বলয়ের মতো সৃষ্টি করে, এদের অ্যানুলি বা বৃদ্ধি বলয় (growth rings) বলে। এগুলো গণনা করে মাছের বয়স নির্ণয় করা যায়।
    • রেডিই (Radii): ফোকাস থেকে পরিধির দিকে বিস্তৃত সূক্ষ্ম খাঁজ বা ফাঁকা রেখাকে রেডিই বলে।
      ৩. অঞ্চল: আঁইশটির দুটি প্রধান অংশ থাকে— অগ্রভাগ (যা ত্বকের পকেটে প্রোথিত থাকে) এবং পশ্চাৎভাগ (যা উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান)।

    [পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে: একটি গোল/ডিম্বাকার সাইক্লয়েড আঁইশের চিত্র এঁকে কেন্দ্রস্থলে 'ফোকাস', সমকেন্দ্রিক রেখা 'সার্কুলাস/সার্কুলি', বৃদ্ধির দাগ 'অ্যানুলাস/অ্যানুলি', প্রান্তীয় খাঁজ 'রেডিয়াস/রেডিই' চিহ্নিত করতে হবে।]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রাকৃতিক জলাশয়ের রূপালি সম্পদ অর্থাৎ রুই মাছ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে রুই মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ও আবাসস্থল বিনষ্ট হচ্ছে, তাই এ সম্পদ সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত জরুরি এবং সময়োপযোগী।

    পদক্ষেপসমূহের যৌক্তিকতা ও মতামত:
    ১. প্রজনন মৌসুমে শিকার বন্ধ রাখা: রুই মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম (বৈশাখ-আষাঢ়/মে-জুলাই) এ ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা মাছ নিধন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
    ২. প্রাকৃতিক আবাস ও প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ: হালদা নদীসহ রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো দূষণমুক্ত রাখা এবং সেখানে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
    ৩. নদীশাসন ও পরিবেশবান্ধব বাঁধ নির্মাণ: অপরিকল্পিত স্লুইস গেট ও বাঁধ নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে মাছের প্রাকৃতিক মাইগ্রেশন বা চলাচল ব্যাহত না হয়।
    ৪. পানির দূষণ রোধ: শিল্পবর্জ্য, কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে জলজ পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।
    ৫. নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ: কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জালসহ ক্ষুদ্র ফাঁসের জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
    ৬. গণসচেতনতা সৃষ্টি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ: মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং স্থানীয় জেলে ও সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে হবে।

    অতএব, প্রাকৃতিক জলাশয়ে রুই মাছের প্রাচুর্য বজায় রাখতে ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত ও অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন