বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শেষ পর্যন্ত এক কৃষজীবী পরিবারেই বিয়ে হয় ছবি রাণীর। স্বামী ধনপতির একটি উন্নত জাতের গাভি আছে; গাভির একটি ছোট্ট বাছুর আছে। সেই বাছুরকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করে দুই বেলা গাভির সবটুকু দুধ দোহন করে নেয় ধনপতি। বাছুরকে জোরপূর্বক আটকে রেখে স্বামীকে সহায়তা করে ছবি রাণী। গাভি যেন সামান্য দুধও বাছুরের জন্য রাখতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর তাদের। ক'দিন আগে ছবি রাণীর কোল জুড়ে আসে নবজাত ফুটফুটে এক শিশু সন্তান। এই শিশু যখন ক্ষুধায় কান্না করে, ছবি রাণী তখন পরিবারের সব কাজ ফেলে পরম মমতায় সন্তানকে মাতৃদুগ্ধদানে তৃপ্ত করে। একদিন তার শিশু সন্তানকে মাতৃদুগ্ধদানে পরিতৃপ্ত করতে গিয়ে সে অনুভব করে, মাতৃদুগ্ধ-বঞ্চিত রেখে কী নির্মম আচরণ করে যাচ্ছে তারা গাভির অসহায় বাছুরের ওপর। তারপর থেকে সে স্বামীকে এই কাজে আর সহায়তা করে না।

  1. ক)

    বিড়াল প্রবন্ধে দুধ দুহিয়াছে কে?

    (1)
  2. খ)

    "তাহাদের রূপের ছটা দেখিয়া, অনেক মার্জার কবি হইয়া পড়ে"- কার, কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছবি রাণী কোন দিক দিয়ে কমলাকান্তের সঙ্গে তুলনীয়?

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বিবৃত 'নির্মম আচরণ' অধিকার হরণেরই নামান্তর- উদ্দীপক ও 'বিড়াল' রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'বিড়াল' প্রবন্ধে প্রসন্ন গোয়ালিনী দুধ দুহিয়াছে (দোহন করেছে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি মার্জার জাতির মেয়ে-বিড়ালদের রূপের মুগ্ধতা প্রসঙ্গে বিড়ালের স্বগোতোক্তি হিসেবে প্রযুক্ত হয়েছে।

    বিড়ালের জবানিতে লেখক উল্লেখ করেছেন যে, অম্ল বা তিক্ত খাবারের চেয়ে ক্ষীর-সর ইত্যাদি খাবার রূপের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে। মার্জার বা বিড়ালদের সমাজে ক্ষীর-সর খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হওয়া কন্যাদের রূপের ছটা দেখে অনেক পুরুষ বিড়াল বা মার্জার মুগ্ধ হয়ে কবির মতো অনুভূতিপ্রবণ হয়ে পড়ে। মূলত ধনী সমাজের নারীদের বাহ্যিক রূপের প্রতি কটাক্ষ করেই বিড়াল এ মন্তব্য করেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঞ্চিতের প্রতি সহানুভূতি এবং আত্মোপলব্ধির জায়গা থেকে উদ্দীপকের ছবি রাণী 'বিড়াল' প্রবন্ধের কমলাকান্তের সঙ্গে তুলনীয়।

    'বিড়াল' প্রবন্ধে কমলাকান্ত বিড়ালের সামাজিক-দার্শনিক যুক্তিতর্ক শুনে বুঝতে পারেন যে, সমাজের ধনীরা দরিদ্রের মুখের গ্রাস কেড়ে নেয় বলেই তারা চোর হতে বাধ্য হয়। বিড়ালের যুক্তি শুনে কমলাকান্তের হৃদয়ে বঞ্চিতের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও ন্যায়বোধ জাগ্রত হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ছবি রাণী প্রথমে বাছুরকে বঞ্চিত করে দুধ দোহনে স্বামীকে সহায়তা করলেও নিজের মাতৃত্বের উপলব্ধির পর বাছুরের প্রতি মমত্ববোধ অনুভব করে। নিজের সন্তানকে দুধ খাইয়ে পরিতৃপ্ত করার মুহূর্তে সে বুঝতে পারে বাছুরটির ওপর তারা কতটা অন্যায় আচরণ করছে। কমলাকান্ত যেমন বিড়ালের অধিকার বিষয়ে সচেতন হয়ে সহানুভূতিশীল হয়েছিলেন, ছবি রাণীও তেমনি মাতৃত্বের গভীর অনুভূতির মধ্য দিয়ে বাছুরের অধিকার ও বঞ্চনা উপলব্ধি করে অন্যায়ের পথ থেকে সরে আসে। এভাবেই আত্মোপলব্ধি ও বঞ্চিতের প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে ছবি রাণী কমলাকান্তের সাথে তুলনীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বাছুরকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করার নির্মম আচরণটি মূলত সৃষ্টির স্বাভাবিক অধিকার হরণেরই নামান্তর—উদ্দীপক ও 'বিড়াল' প্রবন্ধের মূলভাব বিশ্লেষণে এ সত্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    'বিড়াল' প্রবন্ধে বিড়ালের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ধনতান্ত্রিক সমাজের চরম বৈষম্য ও অধিকার হরণের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। মানুষ নিজের স্বার্থে প্রকৃতির নিয়ম লঙ্ঘন করে অন্যের মুখের অন্ন কেড়ে নেয়। বিড়াল প্রশ্ন তুলেছে—যে দুধের ওপর গাভির বাছুরের স্বাভাবিক ও পূর্ণ অধিকার, মানুষ তা জোর করে নিজের ভোগে লাগিয়ে দুর্বল প্রাণীর অধিকার হরণ করে। ধনীর এই নির্মম শোষণই দুর্বলকে বঞ্চনার শিকার করে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, ধনপতি ও ছবি রাণী বাছুরটিকে মাতৃদুগ্ধ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে সমস্ত দুধ দোহন করে নেয়। বাছুরটির বেঁচে থাকার স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক অধিকার ছিল তার মায়ের দুধের ওপর। কিন্তু মানুষের অতিরিক্ত লোভ ও স্বার্থপরতা বাছুরটির সেই অধিকার কেড়ে নিয়ে নির্মম আচরণ করে। পরবর্তীতে ছবি রাণী নিজের মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে অনুভব করে যে, বাছুরটিকে দুধ থেকে বঞ্চিত করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি চরম অবিচার ও অধিকার হরণ।

    সুতরাং, জীবজগতে প্রকৃতিপ্রদত্ত অধিকার থেকে কাউকে জোরপূর্বক বঞ্চিত করা চরম অন্যায্য ও অমানবিক। উদ্দীপকের বাছুরকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করা এবং 'বিড়াল' প্রবন্ধে শোষিত শ্রেণির অধিকার হরণ মূলত একই সূত্রে গাঁথা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রকাশ পেয়েছে দুর্বল ও বঞ্চিতের অধিকার হরণের নির্মম রূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন