সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
পরিবার কী?
- খ)(2)
সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
ছকের প্রশ্নবোধক (?) স্থানে উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে এর ভূমিকা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
ছকের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানে মানানসই প্রত্যয়টির ভূমিকা উন্নয়নে সমাজকর্মী কীভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারেন?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবার হলো বিবাহ ও রক্ত বা দত্তক সম্পর্কের ভিত্তিতে গঠিত একটি মৌলিক ও সর্বজনীন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সদস্যরা পারস্পরিক দায়িত্ব ও অধিকারের মাধ্যমে একত্রে বসবাস করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে সমাজের মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠিত সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন, রীতি ও কাঠামোর সমষ্টিকে বোঝায়। এটি সমাজের শৃঙ্খলা ও সংহতি বজায় রাখতে কাজ করে। যেমন—পরিবার, বিবাহ, ধর্ম, অর্থনীতি এবং শিক্ষাব্যবস্থা সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম উদাহরণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের প্রশ্নবোধক (?) স্থানে উপযুক্ত শব্দটি হলো—'গণমাধ্যম' (Mass Media)।
সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. জনসচেতনতা সৃষ্টি: যৌতুক, বাল্যবিয়ে, মাদকাসক্তি, নারী নির্যাতন, শিশুশ্রম ও পরিবেশ দূষণের মতো মারাত্মক সামাজিক সমস্যার কুফল সম্পর্কে গণমাধ্যম সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলে।
২. তথ্য প্রচার ও বিশ্লেষণ: সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সমাজের নানাবিধ অসংগতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়, যা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হয়।
৩. ইতিবাচক জনমত গঠন: কোনো সামাজিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জনমত তৈরি করতে গণমাধ্যম বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে।
৪. শিক্ষা ও বিনোদন: গণমাধ্যম বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সংস্কারমূলক অনুষ্ঠান, তথ্যচিত্র ও নিবন্ধের মাধ্যমে সমাজের কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করতে সাহায্য করে।
সুতরাং, সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গণমাধ্যম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছকের প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত প্রত্যয়টি হলো 'গণমাধ্যম'। গণমাধ্যমের ইতিবাচক ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা উন্নয়নে একজন সমাজকর্মী বিভিন্নভাবে পেশাগত হস্তক্ষেপ পরিচালনা করতে পারেন:
১. সঠিক তথ্য ও গবেষণালব্ধ তথ্যের সরবরাহ: সমাজকর্মী মাঠপর্যায়ের বাস্তব সামাজিক সমস্যার সঠিক কারণ ও প্রভাব গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করতে পারেন।
২. গঠনমূলক প্রচারণা পরিকল্পনা (Advocacy): গণমাধ্যম যেন নেতিবাচক, অতিরঞ্জিত বা অপরাধকে উৎসাহিত করে এমন সংবাদ প্রচার না করে বরং সমস্যা সমাধানমুখী ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়, সে বিষয়ে সমাজকর্মী অ্যাডভোকেসি পরিচালনা করতে পারেন।
৩. সামাজিক নীতি প্রণয়নে সহযোগিতা: গণমাধ্যমে আলোচিত সামাজিক সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মী নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং উপযোগী নীতিমালা প্রণয়নে চাপ প্রয়োগ বা লবিং করতে পারেন।
৪. জনস্বার্থমূলক প্রচারের ক্ষেত্র তৈরি: টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসচেতনতামূলক টকশো, তথ্যচিত্র বা ক্যাম্পেইন আয়োজনে সমাজকর্মী মধ্যস্থতাকারী (Mediator) ও পরামর্শক (Enabler) হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন।
৫. অপসংস্কৃতি ও গুজবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এবং গুজব প্রতিরোধে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সচেতনতা বাড়াতে সমাজকর্মী গণমাধ্যমকে ব্যবহার করতে পারেন।পরিশেষে, একজন সমাজকর্মী তাঁর জ্ঞান, দক্ষতা ও পদ্ধতির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে সামাজিক উন্নয়নের একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও