যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি বর্তমান একটি জটিল সমস্যা। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, দ্রব্যের সরবরাহ কমে গেলে মূল্য বৃদ্ধি পায়। আবার দ্রব্যের সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে মূল্য হ্রাস পায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, দ্রব্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

  1. ক)

    পদ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    একটি পদ কেন অব্যাপ্য হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে পদের কোন সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যতিক্রমের বিষয়টি তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শব্দ বা শব্দসমষ্টি কোনো যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য বা বিধেয় হিসেবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয় বা হতে পারে, তাকে পদ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবাক্যে কোনো পদ যদি তার সমগ্র ব্যক্ত্যর্থ বা সামগ্রিক পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হয়ে আংশিক ব্যক্ত্যর্থকে নির্দেশ করে, তবে সেই পদ অব্যাপ্য হয়।

    পদের ব্যাপ্যতা হলো তার সংখ্যামূলক পরিমাণের নির্দেশক। যখন কোনো পদ দ্বারা কোনো শ্রেণি বা বিষয়ের সব সদস্যকে না বুঝিয়ে শুধুমাত্র কতিপয় বা অংশবিশেষকে বোঝানো হয় (যেমন বিশেষ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ অথবা সদর্থক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদ), তখন পদটি অসম্পূর্ণভাবে গৃহীত হওয়ায় অব্যাপ্য হিসেবে গণ্য হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পদের 'ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধির পারস্পরিক সম্পর্ক'-এর প্রতিফলন ঘটেছে।

    যুক্তিবিদ্যায় পদের পরিমাণের দিককে ব্যক্ত্যর্থ এবং গুণের দিককে জাত্যর্থ বলা হয়। এদের মধ্যকার নিয়মটি হলো: ব্যক্ত্যর্থ বৃদ্ধি পেলে জাত্যর্থ হ্রাস পায় এবং ব্যক্ত্যর্থ হ্রাস পেলে জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দ্রব্যের সরবরাহ (পরিমাণ/ব্যক্ত্যর্থ) কমে গেলে তার মূল্য বৃদ্ধি পায় (গুণ বা গুরুত্ব বৃদ্ধি), আবার দ্রব্যের সরবরাহ বেড়ে গেলে তার মূল্য হ্রাস পায়। দ্রব্যের সরবরাহ হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে মূল্যের এই যে বিপরীতমুখী পরিবর্তন, তা যুক্তিবিদ্যার ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতানুপাতিক পরিবর্তনের নিয়মের রূপক উদাহরণ হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত বিষয়টি হলো সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া, যা মূলত পদের 'ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়মের ব্যতিক্রম বা সীমাবদ্ধতা'-কে নির্দেশ করে।

    যুক্তিবিদ্যার নিয়মানুসারে, পদের ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী পরিবর্তন সর্বদা সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। যুক্তিবিদগণ এই নিয়মের কতিপয় ব্যতিক্রম বা সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেছেন:

    ১. অনির্দিষ্ট বৃদ্ধি বা হ্রাস: ব্যক্ত্যর্থ বা জাত্যর্থের পরিবর্তন গাণিতিক নিয়মের মতো সমানুপাতিক নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুণের সামান্য পরিবর্তন হলেও ব্যক্ত্যর্থ অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
    ২. বিশিষ্ট বা একক পদের ক্ষেত্রে: কোনো বিশিষ্ট নামবাচক পদে নতুন গুণ যোগ করলেও ব্যক্ত্যর্থ একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুই থেকে যায় (ব্যক্ত্যর্থ কমে না)।
    ৩. জড় বস্তু বা বাস্তব বাস্তবতার ক্ষেত্রে: কোনো গুণ বাদ দিলে যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাবে তা নয়। যদি এমন কোনো গুণ বাদ দেওয়া হয় যা ছাড়া বস্তুর অস্তিত্বই অসম্ভব, তবে নিয়মটি খাটে না।
    ৪. উদ্দীপকের সাথে তুলনা: যেমন বাজারে দ্রব্যের সরবরাহ এক থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য অনুষঙ্গিক কারণে (যেমন মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট) মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে, তেমনি যুক্তিশাস্ত্রেও এমন কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে ব্যক্ত্যর্থ একই থাকা সত্ত্বেও রূপক বা আকস্মিক গুণের সংযোজন-বিয়োজনে ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের নিয়মের স্বাভাবিক রূপ কাজ করে না।

    অতএব, উদ্দীপকের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যায় ব্যক্ত্যর্থ ও জাত্যর্থের নিয়মের সীমাবদ্ধতা বা নিয়মের সার্বজনীনতার ব্যতিক্রমী দিকটি স্পষ্ট করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন