যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

নাতাশার ছোট ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাদি বলেছে, তাকে ভূতে নিয়ে গেছে। তার মা বলেছে, এসব কিছু না, তবে তার ছোট ভাই রাগ করে মামার বাড়ি যেতে পারে।

  1. ক)

    বাস্তব কারণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    আরোহ সমন্বয় বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে নাতাশার দাদির বক্তব্যে নির্দেশিত প্রকল্পের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নাতাশার দাদি ও তার মায়ের বক্তব্যে নির্দেশিত প্রকল্পের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে বাস্তবে বিদ্যমান বা কার্যকারণ নিয়মে ঘটমান যে কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যাচাইযোগ্য, যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিডের মতে তাকে বাস্তব কারণ (Vera Causa) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো একটি বিশেষ ঘটনা ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে গৃহীত একটি প্রকল্প দ্বারা যখন অন্য কোনো অপ্রত্যাশীত বা ভিন্ন জাতীয় ঘটনাও সফলভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, তখন তাকে আরোহ সমন্বয় (Consilience of Inductions) বলে।

    যেমন—নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিলেন গ্রহসমূহের গতিবিধি ব্যাখ্যা করার জন্য। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, এ প্রকল্প দ্বারা জোয়ার-ভাটা এবং ভূমিতে বস্তুর পতনের মতো ভিন্ন ঘটনাগুলোও চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। এটিই হলো আরোহ সমন্বয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নাতাশার দাদির বক্তব্যে নির্দেশিত প্রকল্পটি হলো একটি 'অবৈধ প্রকল্প' বা 'কাল্পনিক প্রকল্প'।

    কোনো ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যদি এমন কোনো বিষয়কে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয় যা বাস্তব সত্য নয়, যার কোনো পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ বা বাস্তব সম্ভাবনা নেই এবং যা যাচাইযোগ্য নয়, তাকে অবৈধ প্রকল্প বা কাল্পনিক প্রকল্প বলা হয়। যুক্তিবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পকে অবশ্যই বাস্তব কারণভিত্তিক (Vera Causa) হতে হবে।

    উদ্দীপকে নাতাশার ছোট ভাইকে খুঁজে না পাওয়ায় তার দাদি অনুমান করেন যে 'তাকে ভূতে নিয়ে গেছে'। ভূত একটি কাল্পনিক, অলীক ও অ-নিরীক্ষণযোগ্য বিষয়, যার কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এই প্রকল্পের সত্যতা পরীক্ষা বা যাচাই করা অসম্ভব। বাস্তব কারণের অনুপস্থিতি এবং অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় দাদির গৃহীত প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে অবৈধ বা বাতিলযোগ্য প্রকল্পের প্রকৃতির অন্তর্গত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নাতাশার দাদির বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক বা অবৈধ প্রকল্প এবং তার মায়ের বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক বা বৈধ প্রকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে। নিম্নে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বাস্তব কারণ বা ভিত্তি: নাতাশার দাদির প্রকল্পের ভিত্তি হলো 'ভূত', যা একটি কাল্পনিক ও অবাস্তব সত্তা। অন্যদিকে, মায়ের অনুমান—ছোট ভাই রাগ করে মামার বাড়ি চলে যেতে পারে—একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক, বাস্তবসম্মত এবং মানবীয় আচরণভিত্তিক প্রকল্প।

    ২. যাচাইযোগ্যতা: দাদির গৃহীত প্রকল্প কোনো অভিজ্ঞতামূলক পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা অসম্ভব। বিপরীতে, মায়ের প্রকল্প সহজেই মামার বাড়িতে খোঁজ নিয়ে বা অনুসন্ধান করে সত্যতা প্রতিপাদন করা সম্ভব।

    ৩. যুক্তিবিদ্যার শর্ত পালন: একটি বৈধ প্রকল্পের প্রধান শর্ত হলো—এটি স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট, বাস্তব সম্ভাবনাময় এবং স্ববিরোধী মুক্ত হতে হবে। দাদির বক্তব্যে এসব শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটেছে, ফলে তা ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত। পক্ষান্তরে, মায়ের বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার শর্তপূরণকারী একটি যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য প্রকল্প।

    ৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: দাদির প্রকল্প কুসংস্কারের পরিচায়ক এবং কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে না। মায়ের প্রকল্প যুক্তিসংগত হওয়ায় তা সমস্যা সমাধানের সঠিক পথ নির্দেশ করে।

    সুতরাং, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নাতাশার দাদির বক্তব্যটি একটি ভিত্তিহীন ও অবৈধ প্রকল্প, পক্ষান্তরে তার মায়ের বক্তব্যটি একটি সুসংগত, ফলপ্রসূ ও বৈধ প্রকল্প।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন