পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব 'ক' দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান। তিনি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। তবে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, দরিদ্র কৃষক শ্রমিকের স্বার্থ সংরক্ষণে তিনি আজীবন আন্দোলন করে গেছেন। তার জীবনযাপন ছিল অতিসাধারণ। তাকে মজলুম জননেতা হিসেরে আখ্যায়িত করা হয়।
- ক)(1)
কোন কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
জনাব 'ক' এর সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন নেতার কর্মকাণ্ডের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কৃষকদের স্বার্থ আদায় ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় উক্ত নেতার ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বা 'ম্যাগনা কার্টা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতীয় উপমহাদেশে হাজী শরীয়তুল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারমূলক আন্দোলনকে ফরায়েজি আন্দোলন বলা হয়। 'ফরায়েজি' শব্দটি এসেছে আরবি 'ফরজ' শব্দ থেকে, যার অর্থ বাধ্যতামূলক ধর্মীয় কর্তব্য। ইসলামের মূল অনুশাসন বা অবশ্যপালনীয় কর্তব্যগুলো কঠোরভাবে পালন করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই আন্দোলন তৎকালীন নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে শোষিত কৃষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের অবিসংবাদিত নেতা 'মজলুম জননেতা' মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কর্মকাণ্ডের গভীর মিল রয়েছে।
মওলানা ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই বাবা-মাকে হারান। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ না পেয়ে দেওবন্দ মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হন। তিনি আজীবন সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত ও নিপীড়িত কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং ত্যাগী। এ কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে 'মজলুম জননেতা' হিসেবে সমাদৃত।
উদ্দীপকের জনাব 'ক'-ও শৈশবে পিতৃহীন হয়ে দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হন, ধর্মীয় শিক্ষা অর্জন করেন এবং নিঃস্বার্থভাবে কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থে লড়াই করে 'মজলুম জননেতা' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সুতরাং, জনাব 'ক'-এর জীবন ও সংগ্রামের সাথে মওলানা ভাসানীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষকদের স্বার্থ আদায় ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।
প্রথমত, তিনি আসামে বাঙালি কৃষকদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক 'লাইন প্রথা' বিরোধী ঐতিহাসিক আন্দোলন পরিচালনা করেন। তিনি কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সমগ্র আসামে আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে কৃষকদের পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান নেন।
দ্বিতীয়ত, মওলানা ভাসানী ছিলেন কৃষক-প্রজা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। তিনি সন্তোষ, কাগমারীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক সম্মেলন আয়োজন করে জমিদার ও মহাজনদের শোষণ, চড়া সুদ ও বেগার খাটার বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত ও সচেতন করেন।
তৃতীয়ত, দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বৈষম্যের বিরুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক 'আসসালামু আলাইকুম' জানিয়ে স্বাধিকারের ডাক দেন।
সর্বোপরি, তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে অবদান রাখেন। এভাবে তিনি আজীবন কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও