জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রাণিজগতে তিনটি পর্বে রেচন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্য হলো শিখাকোষ, নেফ্রিডিয়া এবং কক্সাল গ্রন্থি।

  1. ক)

    সিলোম কী?

    (1)
  2. খ)

    ভ্রূণস্তর বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ধরনের কোষের বিশিষ্ট পর্বের উদাহরণসহ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ দু'টি অঙ্গ বহনকারী পর্বসমূহের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ত্রিস্তরী প্রাণীদের ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট এবং মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা আবৃত দেহগহ্বরকে সিলোম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যৌন জননকারী বহুকোষী প্রাণীর ভ্রূণীয় পরিস্ফুটনের সময় গ্যাস্ট্রুলেশন ধাপে ব্লাস্টোডার্ম থেকে যে প্রাথমিক কোষস্তর বা স্তরসমূহ সৃষ্টি হয়, যা থেকে পরবর্তীতে প্রাণীর নির্দিষ্ট অঙ্গ ও তন্ত্র গঠিত হয়, তাকে ভ্রূণস্তর (Germ layer) বলে। ভ্রূণস্তরের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রাণীদের দ্বিস্তরী (এক্টোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) এবং ত্রিস্তরী (এক্টোডার্ম, মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্ম) প্রাণী হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ধরনের কোষটি হলো 'শিখাকোষ' (Flame cell), যা প্লাটিহেলমিনথিস (Platyhelminthes) পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রেচন অঙ্গ।

    প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. দেহ পৃষ্ঠ-অঙ্কীয়ভাবে চ্যাপ্টা এবং এরা ত্রিস্তরী ও অ্যাসিলোমেট (সিলোমহীন) প্রাণী।
    ২. দেহ নরম, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিউটিকল বা সিলিয়াযুক্ত এপিডার্মিস দ্বারা আবৃত।
    ৩. এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্র অনুপস্থিত।
    ৪. প্রধান রেচন অঙ্গ হলো শিখাকোষ (Flame cells)।
    ৫. এদের দেহে চোষক (sucker) বা আংটা (hook) থাকে, যা পোষকদেহে আটকে থাকতে সাহায্য করে।
    ৬. পৌষ্টিকনালী অসম্পূর্ণ বা অনুপস্থিত (মুখছিদ্র থাকলেও পায়ুছিদ্র থাকে না)।

    উদাহরণ:
    ১. যকৃত কৃমি - Fasciola hepatica
    ২. ফিতা কৃমি - Taenia solium

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষ দু'টি রেচন অঙ্গ বহনকারী পর্ব হলো যথাক্রমে অ্যানেলিডা (Annelida - রেচন অঙ্গ নেফ্রিডিয়া) এবং আর্থ্রোপোডা (Arthropoda - রেচন অঙ্গ কক্সাল গ্রন্থি, যা বিশেষ করে অ্যারাকনিডাতে দেখা যায়)।

    নিচে অ্যানেলিডা ও আর্থ্রোপোডা পর্বের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

    ১. দেহখণ্ডায়ন:

    • অ্যানেলিডা: এদের দেহ প্রকৃত খণ্ডকায়িত (মেটামেরিজম বিদ্যমান), প্রতিটি খণ্ড অভ্যন্তরীণ পর্দার মাধ্যমে পৃথক।
    • আর্থ্রোপোডা: এদের দেহ বাহ্যিকভাবে খণ্ডায়িত এবং প্রায়শই ট্যাগমাটায় (যেমন: মস্তক, বক্ষ ও উদর) বিভক্ত।

    ২. উপাঙ্গ:

    • অ্যানেলিডা: এদের গমনাঙ্গ হিসেবে সাধারণত কাইটিনময় সিটি (setae) বা প্যারাপোডিয়া থাকে।
    • আর্থ্রোপোডা: এদের সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ (jointed appendages) উপস্থিত।

    ৩. বহিঃকঙ্কাল:

    • অ্যানেলিডা: এদের কাইটিনময় শক্ত বহিঃকঙ্কাল থাকে না; দেহ পাতলা কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
    • আর্থ্রোপোডা: এদের দেহ কাইটিননির্মিত কিউটিকল গঠিত শক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত, যা পর্যায়ক্রমে মোচিত (ecdysis) হয়।

    ৪. রক্ত সংবহনতন্ত্র ও সিলোম:

    • অ্যানেলিডা: এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং প্রকৃত সিলোম সুস্পষ্ট।
    • আর্থ্রোপোডা: এদের রক্ত সংবহনতন্ত্র মুক্ত প্রকৃতির এবং সিলোম সংকুচিত হয়ে রক্তপূর্ণ হিমোসিলে (haemocoel) রূপান্তরিত হয়।

    ৫. রেচন অঙ্গ:

    • অ্যানেলিডা: প্রধান রেচন অঙ্গ হলো খণ্ডকীয় নেফ্রিডিয়া (nephridia)।
    • আর্থ্রোপোডা: রেচন অঙ্গ হলো কক্সাল গ্রন্থি, ম্যালপিজিয়ান নালিকা বা সবুজ গ্রন্থি।

    ৬. চক্ষু ও সংবেদী অঙ্গ:

    • অ্যানেলিডা: এদের সাধারণত যৌগিক অক্ষি বা অ্যান্টেনা থাকে না।
    • আর্থ্রোপোডা: এদের মাথায় একজোড়া পুঞ্জাক্ষি (compound eyes) এবং এক বা দুই জোড়া অ্যান্টেনা থাকে।

    পরিশেষে বলা যায়, উভয় পর্বই অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের অন্তর্গত হলেও দৈহিক গঠন, খণ্ডায়ন, রক্ত সংবহন ও রেচন প্রক্রিয়ায় তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন