উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব রাতুল একজন কৃষক। তিনি গ্রামের অন্যান্য লোকদের নিকট থেকে জমি বর্গা নিয়ে ধান, পাট ও সবজি চাষ করেন। তিনি নিজেই লাঙল দিয়ে জমি কর্ষণ করেন, পরিচর্যা করেন এবং উৎপাদিত ফসল সংগ্রহ করেন। এক্ষেত্রে তাকে উৎপাদিত ফসলের একটি বড় অংশ বর্গা বাবদ পরিশোধ করতে হয়। ফলে তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী ফসল ঘরে তুলতে পারেন না। এমতাবস্থায় তিনি সমাধানের পথ খুঁজছেন।

  1. ক)

    উৎপাদনের উপকরণ কী?

    (1)
  2. খ)

    সংগঠন উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানগুলো একত্রিত করে'- ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব রাতুলের কার্যাবলি কোন ধরনের শ্রমের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রাতুলের সমস্যা সমাধানে তোমার সুপারিশ তুলে ধর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয় এমন উপাদান বা উপকরণসমূহকে উৎপাদনের উপকরণ বলে; যা প্রধানত চারটি—ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংগঠন উৎপাদনের অন্যান্য মৌলিক উপাদান—ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে একত্রিত করে এবং তাদের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখে।

    ভূমি, শ্রম ও মূলধন পৃথকভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে থাকলে কোনো উৎপাদন সম্ভব নয়। একজন সংগঠক বা উদ্যোক্তা তাদের প্রয়োজনীয় অনুপাতে সংগ্রহ করেন, একত্রিত করেন এবং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদনের কাজে নিয়োগ করেন। সংগঠনের এই সমন্বয়কারী ভূমিকার কারণেই উৎপাদনকার্য সফলভাবে পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব রাতুলের কার্যাবলি শারীরিক বা কায়িক শ্রমের অন্তর্ভুক্ত।

    উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মানুষ তার শরীরের পেশিশক্তি বা শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে যে কর্মপ্রচেষ্টা চালায়, তাকে কায়িক বা শারীরিক শ্রম বলে। এতে মানসিক দক্ষতার চেয়ে শারীরিক শক্তির ব্যবহারই প্রধান হয়ে থাকে।

    উদ্দীপকে কৃষক জনাব রাতুল জমি বর্গা নিয়ে নিজে লাঙল দিয়ে জমি কর্ষণ করেন, ফসলের পরিচর্যা করেন এবং কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল সংগ্রহ করেন। তাঁর এই সকল কাজই প্রত্যক্ষভাবে কায়িক শক্তি ও মেহনতের সাথে সম্পর্কিত। তাই জনাব রাতুলের সম্পাদিত কার্যাবলি কায়িক শ্রমের স্পষ্ট উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব রাতুলের প্রত্যাশিত ফসল ও ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করার জন্য প্রচলিত বর্গা ব্যবস্থার শর্ত পুনর্বিবেচনা করা এবং উন্নত কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটানো প্রয়োজন।

    বর্গা চাষে কৃষক নিজের শ্রম ও উপকরণ দিয়ে উৎপাদন করে কিন্তু ফসলের একটি বৃহৎ অংশ জমির মালিককে দিতে হয়। ফলে শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন বা ন্যায্য অংশ থেকে কৃষক বঞ্চিত হন, যা তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

    উদ্দীপকে জনাব রাতুল কঠোর পরিশ্রম করে ধান, পাট ও সবজি উৎপাদন করলেও ফসলের সিংহভাগ বর্গামালিককে দিয়ে দিতে হয়, যার ফলে প্রত্যাশিত ফসল তাঁর ঘরে ওঠে না এবং তিনি সমস্যায় পড়েন।

    তাঁর এই সমস্যা সমাধানে নিম্নলিখিত সুপারিশগুলো প্রদান করা যায়:
    ১. বর্গাচাষের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বার্ষিক নির্দিষ্ট অর্থ বা লিজ (পত্তনি) চুক্তিতে জমি গ্রহণ করা, যাতে অতিরিক্ত ফলনের সম্পূর্ণ লাভ তিনি নিজেই পেতে পারেন।
    ২. সরকারি বা কৃষি ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ গ্রহণ করে উৎপাদন খরচ কমানো এবং ক্রমান্বয়ে নিজস্ব চাষযোগ্য জমি ক্রয়ের চেষ্টা করা।
    ৩. প্রচলিত পদ্ধতির বদলে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত মানের বীজ ও সার ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, যাতে বর্গার অংশ দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত ফসল তাঁর কাছে অবশিষ্ট থাকে।
    ৪. সমবায়ভিত্তিক কৃষি গড়ে তুলে অন্যান্য কৃষকদের সাথে যৌথভাবে চাষাবাদ করে চাষের ব্যয় কমানো।

    এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে জনাব রাতুল ফসলের ন্যায্য অংশ ভোগ করতে পারবেন এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন